বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..  

সাগরে ডুবতে বসা ১৫৪ রোহিঙ্গাকে বাঁচাল ভিয়েতনামের তেলবাহী জাহাজ

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

আন্দামান সাগরে একটি ডুবতে থাকা নৌকা থেকে ১৫৪ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে ভিয়েতনামের একটি তেলবাহী জাহাজ। উদ্ধারের পর তাদেরকে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে। বুধবার আন্দামান সাগর থেকে উদ্ধার করা হয় এই রোহিঙ্গাদের।

ভিয়েতনামের সংবাদমাধ্যম ভিটিসি নিউজের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাই ডুওং ২৯ নামের সেই ভিয়েতনামি তেলবাহী জাহাজটি সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমারের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রাপথে ডুবতে থাকা সেই নৌকাটি চোখে পড়ে জাহাজের নাবিকদের। সাগরের যে এলাকায় নৌকাটি অবস্থান করছিল, সেখান থেকে মিয়ানমারের উপকূল আরও ৪৫৮ দশমিক ৭ কিলোমিটার দক্ষিণে।

ADVERTISEMENT

উদ্ধার ১৫৪ জন রোহিঙ্গার মধ্যে মধ্যে ৪০ জন নারী ও ৩১ জন শিশু। হাই ডুওং ২৯ জাহাজের নাবিকদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে ভিটিসি নিউজ জানিয়েছে, সাগরে নৌকাটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং তলদেশ ফুটো হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে ডুবছিল সেই নৌকাটি।

বুধবার উদ্ধারের পর এই রোহিঙ্গাদের জাহাজে তোলা হয় এবং পরের দিন বৃহস্পতিবার তাদের মিয়ানমারের নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন নাবিকরা। এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন জান্তা, ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হাই ডুওং ২৯ জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান হাই ডুওং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মেরিন কর্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। কিন্তু তাদের কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মিয়ানমারে যেসব সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী আছে, তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমরা অন্যতম। তবে শত শত বছর ধরে মিয়ানমারে বসবাস করলেও এখনও তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়নি মিয়ানমার। মূলত আরাকান অঞ্চলেই বসবাস রোহিঙ্গাদের

ADVERTISEMENT

২০১৭ সালে দেশটির আরাকান রাজ্যে বেশ কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সামরিক ছাউনিতে বোমা হামলা চালায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। সেই হামলার পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর আক্ষরিক অর্থেই ঝাঁপিয়ে পড়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। আরাকানের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত একের পর এক গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, সেই সঙ্গে ব্যাপকমাত্রায় চলে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাট।

সেনাবাহিনীর অত্যাচারে টিকতে না পেরে ২০১৭ ও ’১৮ সালে অন্তত ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এছাড়া গত কয়েক বছরে সাগর পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যেও ছুটছেন তাদের অনেকে।

সম্প্রতি আন্দামান সাগর দিয়ে রোহিঙ্গাদের যাতায়াত বেড়েছে। এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের শরণার্থ বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক বিৃবতিতে বলা হয়েছিল, আন্দামান সাগরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় সাগরে ভাসছেন ২০০ রোহিঙ্গা।


আরো খবর: