শিরোনাম :
চকরিয়ায় সব পর্যটন স্পট কমিনিউটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে দুইদফায় স্থগিত হলো চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচন হতাশায় ভোটার, খরচের খাতা দীর্ঘ হচ্ছে প্রার্থীদের! উখিয়ায় বসতবাড়ি ভাংচুর ও মালামাল লুটপাট, মহিলা সহ আহত ৩ উখিয়ায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পরিদর্শনে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন হোটেল-মোটেলসহ কক্সবাজারের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে শিগগিরই চালু হবে ইন্সটিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরী-সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দীন উখিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রোহিঙ্গার মৃত্যু উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএনের কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিআইজি টেকনাফের নাফ নদী থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে এক্স-রেতেই ধরা খেল পাকস্থলীতে ইয়াবা
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
কক্সবাজার পোস্টে আপনাকে স্বাগতম, আমাদের সাথে থাকুন,কক্সবাজারকে জানুন......

সাংবাদিকগণ এবার এক হোনঃ ডিজিটাল আইনের বেড়াজাল ভেঙ্গে ফেলুন

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ২২, ২০২১ ৭:২৮ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ২২, ২০২১ ৭:২৮ অপরাহ্ণ

“ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন” যে আইনের মাধ্যমে সারাদেশে চলছে দূর্নীতির মহোৎসব। এই আইনের মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছে সাধারণ নাগরিকের কথা বলার স্বাধীনতা,বন্ধ করা হয়েছে কলমের স্বাধীনতা,বন্ধ করা হয়েছে একটা গনতান্ত্রিক দেশের নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার।এই আইনের মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছে সাংবাদিকদের কলমের স্বাধীনতা,বন্ধ করা হয়েছে সঠিক তথ্য তুলে ধরে রিপোর্ট করার স্বাধীনতা।
গত ১৭ মে প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।বরং মুশতাক,কিশোর,রুহুল আমিন কিংবা আরো হাজারো নাগরিকের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনারই ধারাবাহিক বহিঃপ্রকাশ।

সাংবাদিকতা একটা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।যা সঠিকভাবে সচল না থাকলে একটা রাষ্ট্র ভালোভাবে চলতে পারেনা।সাংবাদিকতার অনেক ধরণ রয়েছে।যার মধ্যে একটি হলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা।সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম অনুসন্ধানী রিপোর্ট করে বহু সুনাম কুড়িয়েছেন ইতোপূর্বে। এরই অংশ হিসেবে তিনি গিয়েছিলেন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করার জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে। এখানে একটা ব্যাপার উল্লেখ্য যে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করতে হলে তথ্য সংগ্রহে কৌশলী হতে হয়।এটা মনে রাষ্ট্রের এই সকল আমলাদের জানা নেই।

মজার ব্যাপার হলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা বলেছেন রোজিনা ইসলাম নাকি “গোপন নথি” “চুরি” করতে গিয়েছিলেন।কি হাস্যকর বক্তব্য!! বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আবারো বলছি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কোন গোপন নথি থাকতে পারে কিনা তা আসলেই আমার বোধগম্য নয়। বোধকরি কারোই সেটা বোধগম্য হবেনা যাদের আয়োডিন আছে আর কি! এবার আসি “চুরি” শব্দটি নিয়ে।গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সকল মন্ত্রণালয় (কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যতীত) থেকে শুরু করে সকল সরকারী কর্মকর্তা,কর্মচারী,প্রতিনিধিদের থেকে তথ্য জানার অধিকার আছে সকল সাধারণ নাগরিকের। অর্থাৎ তারা কিনা সাধারণ জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য। তাহলে রোজিনা ইসলাম একজন সিনিয়র সাংবাদিক হয়ে কেন তথ্য, নথি চুরি করতে যাবেন? কেন এমন মনগড়া গল্প তৈরি করছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়?? ধোপে টিকতে পারবেন তো আপনারা???

এই বক্তব্যই কি স্পষ্ট প্রমান করেনা রোজিনা ইসলাম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় যা পেয়েছিলেন তাতে ছিলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রাঘব বোয়ালদের “পুকুর চুরির” ইতিহাস।এজন্যই এত তালবাহনা।এজন্যই তাকে প্রথমে আটকে রাখা হয়েছে নানান হেনস্তা,নির্যাতন, নিপীড়ন করা হয়েছে।তাতে ও ক্ষান্ত হননি তাকে শাহাবাগ থানায় নিয়ে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেট আইনে তাকে মামলা দেয়া হয়েছে। এইখানে অফিসিয়াল সিক্রেট শব্দটি নিয়ে ও আমার আপত্তি আছে।সোজা বাংলায় আমি যা বুঝি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার একটা সেক্টর।এখানে অফিসিয়াল গোপন কি থাকতে পারে! যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে তা দূর্নীতির ইতিহাস।

আরো একটি বিষয় হলো আদালতে জামিন শুনানীতে বিবাদী পক্ষ থেকে বলা হয়েছে “ঘষেটি বেগমের মত চক্রান্ত করা হয়েছে”। প্রথমত এটা কোন আদালতের জামিন শুনানীর ভাষা হতে পারে কিনা আমি জানিনা! যার কিনা আবার ব্যাখ্যা ও দিতে পারেন নাই বিবাদী উকিল। এই বাক্যটি কি প্রমান করে বলুন তো! তিনি একজন নারী সাংবাদিক এজন্য ঘষেটি বেগম। পুরুষ হলে কি মীরজাফর হতো! মনে হয় হতোনা! কারণ একটু পেছন ফিরলেই দেখবেন বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভির এর ক্ষেত্রে কি ঘটেছিলো! সাংবাদিকতা মূলত পূজিবাদের হাতে সেদিন বন্দী ছিলো,আছে? এখন আবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের হাতে বন্দী! বন্দী অফিসিয়াল সিক্রেট আইনের হাতে ও!

রোজিনা ইসলামের পরিবার বলেছে তারা আদালতের উপর আস্থা রাখতে চায়। আমি বলবো এদেশের আদালত মূলত সরকার। এই বাক্যটির দ্বারা পরিবারের অসহায়ত্ব কতটুকু প্রকাশ পায় তা কি ভেবে দেখে এই রাষ্ট্র! আদালত জামিন না মঞ্জুর করে রবিবার শুনানীর সময় দিয়ে কি নতুন কোন ফন্দি আটার সুযোগ করে দিলোনা! আদালত কি তাহলে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বাধীন বিচারের জায়গা নাকি আমলা মন্ত্রীদের জায়গা!

যখনই রাষ্ট্রের কোন পুকুর চুরির ঘটনা সামনে আসে তখনই কোন না কোনভাবে আইন দিয়ে, প্রশাসন দিয়ে গায়ের জোরে তা ধামাচাপা দেবার চেষ্টায় রাষ্টের সকল যন্ত্র একদম হরিহর আত্নার মত কাজ করে।

তাই বলছি সময় এবার হয়েছে রাষ্ট্রের মজুদ(নাগরিক) এক হও।গড়ে তোল দূর্বার আন্দোলন! বাতিল করো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন! ভেংগে ফেলো এই আইনের বেড়াজাল! আমরা কথা বলতে চাই, কলম ধরতে চাই,জানতে চাই,জানাতে চাই।আর নয় কোন মানসিক যন্ত্রণা, ভয়! কখন গভীর রাতে পড়বে দরজায় টোকা,দেখবো খাকী পোশাকধারী কাউকে!!

লেখক,

জিন্নাতুন নেছা তৃণা
গবেষক ও উন্নয়নকর্মী

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::