রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৬ অপরাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..  

যে নিয়মে ডিম খেলে দ্রুত ওজন কমবে

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
যে নিয়মে ডিম খেলে দ্রুত ওজন কমবে


অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অসচেতন খাদ্যাভ্যাসের ফলে বাড়ছে রোগব্যাধি। সেইসঙ্গে বাড়ছে শরীরের ওজন। অতিরিক্ত ওজন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শরীরে ওজন বাড়লে শুধু সৌন্দর্য নষ্ট করে না, এর কারণে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, রক্তচাপের মতো অসুখও হয়। শরীরের ওজন কমানোর জন্য সাধ্যমতো পরিশ্রমও করেন অনেকে। কিন্তু সফল হন কেউ কেউ। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, আসলে এ ক্ষেত্রে চেষ্টার মধ্যেই থেকে যায় গলদ। জিমে যাওয়া, খাওয়াদাওয়ায় নিয়ম মানা, বাইরের খাবার খাওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখা— প্রতিদিনের জীবনে এমন হাজার নিয়ম মেনে চলেও মেদ ঝরতে চায় না কিছুতেই। আর শরীরের এই মেদ ঝরানোর কাজে ডিম সিদ্ধহস্ত। ডায়েটে রাখুন সিদ্ধ ডিম! কাজ হবে ম্যাজিকের মতো। অনেকেই ভাবেন, এটি খেলে ওজন বেড়ে যায়। তাই খাদ্যতালিকা থেকে ডিম বাদ দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে ডিম খেলে ওজন বাড়ে না।

কমপ্লিট প্রোটিনের প্রাকৃতিক উৎস হল ডিম। শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রতি দিন যে ধরনের খনিজ লাগে, তা পাওয়া যায় ডিম থেকে। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, একটি ডিমের মধ্যে ৬ থেকে ৭ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন থাকে। ভিটামিন বি ১২, ডি এবং রাইবোফ্ল্যাভিনের মতো উপাদান রয়েছে ডিমে। তা ছাড়া রয়েছে সেলেনিয়াম এবং কোলিনের মতো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় দু’টি খনিজ। তাই শারীরিক কোনও অসুবিধে না থাকলে রোজ একটি করে ডিম খাওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন বেশির ভাগ পুষ্টিবিদ।

ডিম খেলে শরীরে দ্রুত অ্যানার্জি আসে। ডিমে থাকা ভিটামিন থেকেই মূলত এই অ্যানার্জি বা শক্তি মেলে। এতে থাকা ভিটামিন বি খাদ্যকে অ্যানার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করে। তাই প্রতিদিন সকালে একটি সেদ্ধ খেলে সারাদিন ক্লান্তহীন থাকবেন।

ডিমে থাকে ভিটামিন এ। যা দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করে। তাছাড়া ডিমে থাকা কেরোটিনয়েড আর ল্যুটেন বয়স হয়ে গেলে চোখের এক বড় সমস্যা, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

ডিমে থাকা ভিটামিন ই কোষ আর ত্বকে থাকা ফ্রি র‍্যাডিকেল ধ্বংস করে। তাই ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। এছাড়াও নতুন কোষ তৈরি হতেও সাহায্য করে থাকে। নিয়মিত ডিম খেলে ব্রেস্ট ক্যানসারের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

আধুনিক গবেষণা প্রমাণ করেছে, ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল বাড়ে না; বরং অতিরিক্ত চর্বি কমায়। গবেষণা বলছে, ডিমের কুসুম শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলকে কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়।

ডিম সহজেই আমাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে পারে। একটি ডিমে ৭৫ ক্যালোরি থাকে। এতে ৭ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন রয়েছে। এছাড়া একটি ডিম খেলে শরীরে ৫ গ্রাম ফ্যাট, ১.৬ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং আয়রন, ভিটামিন, মিনারেল এবং ক্যারোটিনয়েড পাওয়া যায়। একারণে একে পুষ্টির পাওয়ার হাউস বলা হয়।

ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের জন্য খনিজ, ভিটামিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ ডিম, খুবই ভাল। তবে জানেন কি, ডিমের সঙ্গে তিনটি বিশেষ জিনিস মিশিয়ে খেলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানো যায়? ডিমের সঙ্গে এই খাবারগুলির সংমিশ্রণে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কয়েক কেজি ওজন কমাতে পারে আপনি সহজেই।

আপনার প্রতি দিনের খাবার তালিকায় সালাদ থাকে, এতে নতুনত্ব আনতে যোগ করুন সিদ্ধ ডিমের কুঁচানো অংশ। এর সঙ্গে মেশান গোলমরিচ ও লেবুর রস। এতে পুরো ডিমের পুষ্টিগুণ তো মিলবে। আর মেদও ঝরবে দ্রুত।

ডিমের সঙ্গে পালং শাক, দ্রুত ওজন কমানোর একটি দুর্দান্ত ফর্মুলা। এক কাপ পালং শাকে মাত্র সা৭ ক্যালোরি এবং অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এই সংমিশ্রণে প্রায় কোনও অবাঞ্ছিত ক্যালোরি নেই। আয়রন সমৃদ্ধ পালং শাক আমাদের শক্তি ও বিপাককেও বাড়িয়ে দেয়। এটি শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের সঙ্গে ক্যাপসিকাম মিশিয়ে কোনো পদ তৈরি করলে তা দেখতে যেমন সুন্দর লাগে, তেমনি ওজন কমাতেও সাহায্য করে। ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে, যা মেদ কমাতে উপকারী ভূমিকা রাখে।

ডিম ওমলেট তৈরিতে অনেকেই চিলি ফ্লেক্স ছড়িয়ে দিতে ভালোবাসেন। ওজন কমানোর যাত্রায় এটি ভালো সঙ্গী। মরিচের গুঁড়া বা চিলি ফ্লেক্স মেদ কমাতে সাহায্য করে।

মাখন বা অন্য ধরনের তেলে তৈরি অমলেট খেলে, শরীরে বেশি ক্যালোরি মেলে। নারকেল তেল মেটাবলিজম প্রায় ৫ শতাংশ বাড়িয়ে, ওজন কমাতে সাহায্য করে। ৩০ জনের উপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, এক মাস ধরে প্রতিদিন দু’চা চামচ নারকেল তেল খেলে কোমরের আকার ১.১ ইঞ্চি কমে যায়। আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে তেল বা মাখনের পরিবর্তে নারকেল তেলে অমলেট তৈরি করুন।

ওটসের সঙ্গে ডিম মিশিয়ে খেলে ,পেটের চর্বি সহজেই কমে যায়। ওটমিলে উপস্থিত স্টার্চ কেবল খাবারের হজমকে ধীর করতে সাহায্য করে না, বরং খিদে মেটাতে এবং ক্যালোরি বার্ন করার অ্যাসিড নিঃসরণকেও ট্রিগার করে। ডিমের সঙ্গে ওটস খেলে মেটাবলিজমও বাড়ে।

হাঁড়িতে পানি নিয়ে তাতে অল্প ভিনেগার মিশিয়ে নিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে ডিম ভেঙে ছেড়ে দিন। কিছুক্ষণ পরই পোচটিকে আলতো করে তুলে নিন পানি থেকে। ডিমের সবটুকু পুষ্টিগুণ মেলে এই পোচ থেকে। আর পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমে।

ডিম খেলে অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। একটি ডিম শরীর থেকে ৪০০ ক্যালোরির কমাতে পারে। তাই ওজন কমাতে প্রতিদিন ডিম খান।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ডিমের মোট তিনটি অংশ রয়েছে। খোসা, কুসুম ও সাদা অংশ। ডিমের সাদা অংশের মধ্যে থাকে অ্যালবুমিন প্রোটিন। কুসুমও তৈরি প্রোটিন, কোলেস্টেরল ও ফ্যাট দিয়ে।

সকালের নাশতায় বা অফিসের টিফিনে, অথবা অনেক সময়ই দুপুরে ডালের সঙ্গে সিদ্ধ ডিম খান অনেকে। অনেক খাবারের সঙ্গেই সিদ্ধ ডিম খাওয়া যেতে পারে।

যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান তারা সিদ্ধ ডিম খাবেন। যাদের শরীরে অ্যালবুমিনের পরিমাণ কম তারা সেদ্ধ ডিম খাবেন। কিন্তু যাদের শরীরে অ্যালবুমিনের পরিমাণ বেশি তারা সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ খাবেন না। ব্লাড প্রেসারের সমস্যাযাদের আছে তারাও সেদ্ধ ডিমে খেতে পারেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান যারা তারা ভাজা ডিম অবশ্যই খাবেন না কারণ সেদ্ধ ডিমের থেকে ভাজা ডিমে ক্যালরি বেশি থাকে। যাদের ওজন বেড়ে যাচ্ছে, তাদের সাধারণত কুসুম বাদ দিয়ে ডিম খেতে বলা হয়৷

পুষ্টিবিদদের মতে, ওজনে কোনো প্রভাবই ফেলে না ডিম। তেল-মসলার যেকোনো খাবারই ওজন বাড়ায়। ডিমও খুব কষিয়ে রান্না করলে বা ঘন ঘন ভেজে খেলে তেল-মসলার জন্যই মেদ বাড়ে। মেদ নিয়ে ভয় থাকলে ডিম বাদ দেওয়ার কোনো কারণই নেই। বরং বেশ কিছু উপায়ে ডিম খেলে মেদের সঙ্গে লড়া যায় নির্বিঘ্নে। শরীরও পায় পুরো পুষ্টিগুণ।

আইএ





আরো খবর: