শিরোনাম ::
স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু মহেশখালীতে স্কুলছাত্রীকে‘পিষে মেরে’ পালালো ডাম্পার ট্রাক টেকনাফে অস্ত্র-গুলিসহ দুই রোহিঙ্গা ডাকাত আটক কক্সবাজারে পুকুরে গোসল করতে নেমে কলেজছাত্রের মৃত্যু মাতারবাড়ী দ্বিতীয় বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করল জাপান বাঁশের টুকরির তলায় লুকানো ছিল ইয়াবা মানিকপুর পর্যটনস্পট নিভৃতে নিসর্গ পার্কে ৫০০ নারিকেল গাছ রোপণ, মাছের পোনা অবমুক্ত উখিয়া চাকবৈঠার আবু তাহের কোটি টাকার ইয়াবা নিয়ে র‍্যাবের হাতে আটক উখিয়ার মধুর ছড়া ক্যাম্পে দুর্বৃত্তের গু*লি*তে এক রোহিঙ্গা নিহত সিলেটের বন্যা দুর্গতদের জন্য ট্রফি নিলামে তোলার ঘোষণা উখিয়ার মেয়ে রিপার
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০১:২৬ অপরাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..

মিয়ানমারে ফিরতে মরিয়া রোহিঙ্গারা, ক্যাম্পে বড় সমাবেশ

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২

উই ওয়ান্ট জাস্টিস, উই ওয়ান্ট রাইটস, উই ওয়ান্ট টু গো ব্যাক টু আওয়ার মাদারল্যান্ড’সহ আরো ৭দফা দাবি নিয়ে কক্সবাজারে উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত লাখো রোহিঙ্গারা ‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।

নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যানারে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পেই সাধারণ রোহিঙ্গারা মানবন্ধন ও সমাবেশ করে বাড়ি ফেরার আকুতি প্রকাশ করেছে।

আজ রোববার সকালে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ‘চলো চলো আরাকান চলো’ শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবির।

সোমবার বিশ্ব শরণার্থী দিবসের একদিন আগের সকালে লাখো রোহিঙ্গা তাদের বস্তির বাইরে এসে ‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করেই রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে ফিরতে ব্যাকুলতার কথা জানাতে শিবিরের বাইরে এসে সমবেত হন।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের বাধা দিয়ে আসছে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী বাহিনী। এ কারণে শিবিরগুলো দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এবং ফিরতে বাধাদানকারী- এ দুই বিবাদমান গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে এখানে রেখে আখের গোছানোর নেপথ্যে কাজ করছে আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থার কর্মী। সেইসঙ্গে দেশি-বিদেশি এনজিওকর্মীদের বিরুদ্ধেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন খোদ সাধারণ রোহিঙ্গারাই।

‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের অনেকেই বলেছেন, দেশি-বিদেশি ইন্ধন না থাকলে অনেক আগেই আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতো।

দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জাফর জানান, স্বদেশে ফিরতে বাধাদানকারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের প্রচণ্ড চাপ উপেক্ষা করেই আমরা আজকের ‘গো হোম’ কর্মসূচির আয়োজন করেছি। আমরা সন্ত্রাসীদের অস্ত্রকে আর ভয় পাই না। আমরা ফিরতে চাই শত বছরের আমাদের বাপ-দাদার বাড়িভিটায়।

সূত্রটি আরো জানায়, উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১ ইস্টে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের নেতা ডাক্তার জুবায়ের ও মাস্টার কামাল, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মাস্টার ইউসুফ ও নুরুল আমিন।
এ সময় তারা বলেন, তারা আর এক মূহূর্তও বাংলাদেশে থাকতে চায় না। যেকোনো উপায়ে দ্রুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করতে হবে।

সমাবেশে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন মাস্টার নুরুল আমিন। এ দাবিগুলে হলো- দ্রুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল করতে হবে, দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ গ্রামে পুনরায় প্রত্যাবাসন করা, অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মহানগর নিউজ :: Mohanagar News
কক্সবাজার|
মিয়ানমারে ফিরতে মরিয়া রোহিঙ্গারা, ক্যাম্পে বড় সমাবেশ
প্রকাশের সময়: ১৪:৫৬, ১৯ জুন ২০২২
কক্সবাজার প্রতিনিধি

মিয়ানমারে ফিরতে মরিয়া রোহিঙ্গারা, ক্যাম্পে বড় সমাবেশ
কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ

উই ওয়ান্ট জাস্টিস, উই ওয়ান্ট রাইটস, উই ওয়ান্ট টু গো ব্যাক টু আওয়ার মাদারল্যান্ড’সহ আরো ৭দফা দাবি নিয়ে কক্সবাজারে উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত লাখো রোহিঙ্গারা ‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।

নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যানারে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পেই সাধারণ রোহিঙ্গারা মানবন্ধন ও সমাবেশ করে বাড়ি ফেরার আকুতি প্রকাশ করেছে।

আজ রোববার সকালে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ‘চলো চলো আরাকান চলো’ শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবির।

সোমবার বিশ্ব শরণার্থী দিবসের একদিন আগের সকালে লাখো রোহিঙ্গা তাদের বস্তির বাইরে এসে ‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করেই রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে ফিরতে ব্যাকুলতার কথা জানাতে শিবিরের বাইরে এসে সমবেত হন।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের বাধা দিয়ে আসছে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী বাহিনী। এ কারণে শিবিরগুলো দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এবং ফিরতে বাধাদানকারী- এ দুই বিবাদমান গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে এখানে রেখে আখের গোছানোর নেপথ্যে কাজ করছে আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থার কর্মী। সেইসঙ্গে দেশি-বিদেশি এনজিওকর্মীদের বিরুদ্ধেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন খোদ সাধারণ রোহিঙ্গারাই।

‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের অনেকেই বলেছেন, দেশি-বিদেশি ইন্ধন না থাকলে অনেক আগেই আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতো।

দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জাফর জানান, স্বদেশে ফিরতে বাধাদানকারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের প্রচণ্ড চাপ উপেক্ষা করেই আমরা আজকের ‘গো হোম’ কর্মসূচির আয়োজন করেছি। আমরা সন্ত্রাসীদের অস্ত্রকে আর ভয় পাই না। আমরা ফিরতে চাই শত বছরের আমাদের বাপ-দাদার বাড়িভিটায়।

সূত্রটি আরো জানায়, উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১ ইস্টে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের নেতা ডাক্তার জুবায়ের ও মাস্টার কামাল, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মাস্টার ইউসুফ ও নুরুল আমিন।
এ সময় তারা বলেন, তারা আর এক মূহূর্তও বাংলাদেশে থাকতে চায় না। যেকোনো উপায়ে দ্রুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করতে হবে।

সমাবেশে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন মাস্টার নুরুল আমিন। এ দাবিগুলে হলো- দ্রুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল করতে হবে, দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ গ্রামে পুনরায় প্রত্যাবাসন করা, অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট সময়ের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর করা, রাখাইন রাজ্যে আইডিপি ক্যাম্প বন্ধ করা এবং তাদেরকে নিজ গ্রামে ফিরিয়ে দেওয়া, মিয়ানমারে নিরপরাধ রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।

লম্বাশিয়া ক্যাম্প ১ ইস্ট ছাড়াও মোচরা ক্যাম্প ৪, বালুখালী ৯, জামতলী ক্যাম্প ১৫ ও জাদিমুরা ক্যাম্প ২৭ সহ অন্যান্য ক্যাম্পে পৃথক পৃথক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।

এসব বিষয় নিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মো. শামছুদ্দৌজা নয়ন বলেন, শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার কথা তারা বিশ্ববিবেকের কাছে তুলে ধরতেই পারেন। রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবির কথা জানিয়েছেন।


আরো খবর: