বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..  

মিসরে প্রাচীন কবর খুঁড়ে পাওয়া গেল সোনার পাতে মোড়া মমি

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩
মিসরে প্রাচীন কবর খুঁড়ে পাওয়া গেল সোনার পাতে মোড়া মমি


মিসরে পুরাতত্ত্ববিদরা সাক্কারায় এমন একটি মমি খুঁজে পেয়েছেন, যা সোনার পাত দিয়ে মোড়া এবং চার হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। রাজধানী কায়রোর দক্ষিণে সাক্কারায় একটি প্রাচীন কবরস্থানে মাটির ৫০ ফুট নিচে এটি পাওয়া যায়।

পুরাতত্ত্ববিদরা বলছেন, সোনার পাতে মোড়ানো মমিটি হেকাশেপেস নামে এক লোকের। মিসরে কোনো রাজা বা রাজপরিবারের নয় এমন ব্যক্তিদের যত মমি পাওয়া গেছে তার মধ্যে এটি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাচীনতম মমিগুলোর একটি। যে শবাধারে মমিটি রাখা ছিল তা গত চার হাজার ৩০০ বছরে কখনো খোলা হয়নি।

একই জায়গাটিতে আরো তিনটি সমাধি পাওয়া গেছে এবং তার মধ্যে একটি একজন ‘গোপন রক্ষকের’ বলে বলা হচ্ছে।

এই জায়গাটিকে বলা হচ্ছে, একটি প্রাচীন ‘নেক্রোপলিস’ বা মৃতদের নগরী। এখানে সবচেয়ে বড় যে মমিটি পাওয়া যায় তা ‘খনুমদিয়েদেফ’ নামে এক ব্যক্তির। যিনি ছিলেন একজন পুরোহিত, পরিদর্শক এবং অভিজাতদের তত্ত্বাবধানকারী।

অন্য আরেকটি মমি ‘মেরি’ নামে এক ব্যক্তির। যিনি ছিলেন প্রাসাদের একজন কর্মকর্তা যাকে ‘গোপন রক্ষক’ উপাধি দেয়া হয়েছিল। এ উপাধি পাবার ফলে তার বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলো করার অধিকার ছিল।

তৃতীয় কবরটিতে সমাহিত করা হয়েছিল ‘ফেটেক’ নামে এক বিচারক ও লেখককে। এখানে বেশ কিছু মূর্তি পাওয়া গেছে যা ওই এলাকায় পাওয়া মূর্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের।

এ ছাড়া মৃৎপাত্রসহ আরো নানা জিনিস পাওয়া গেছে ওই কবরগুলো থেকে।

মিসরের সাবেক প্রত্নসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী ও পুরাতত্ত্ববিদ জাহী হাওয়াস বলছেন, নতুন পাওয়া এই মমি ও সামগ্রীর সবই খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৫তম থেকে ২২তম শতাব্দীর সময়কালের।

এই খননকাজের সাথে জড়িত আরেকজন পুরাতত্ত্ববিদ আলি আবু দেশিশ বলেন, এ আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে তখনকার রাজাদের আশপাশে থাকা লোকদের সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র সাক্কারা
কায়রোর নিকটে সাক্কারা নামের জায়গাটি তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি সমাধিক্ষেত্র হিসেবে চালু ছিল। ইউনেস্কো এই জায়গাটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থান বলে ঘোষণা করেছে। এখানেই এক সময় মিসরের প্রাচীন রাজধানী মেম্ফিস নগরী অবস্থিত ছিল। তা ছাড়া এখানে আছে এক ডজনেরও বেশি পিরামিড।

এই পিরামিডগুলোর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সিঁড়ির মত ধাপবিশিষ্ট ‘স্টেপ পিরামিড’। আর এটির কাছেই সবশেষ এই মমিগুলো পাওয়া গেছে।

সাক্কারার মমিগুলো পাওয়ার মাত্র এক দিন আগেই মিসরের দক্ষিণাঞ্চলীয় লাক্সর শহরের বিশেষজ্ঞরা বলেন, তারা এখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় খ্রিস্টাব্দের রোমান যুগের একটি পূর্ণাঙ্গ শহরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছেন।

তারা বলছেন, এখানে আবাসিক ভবন, টাওয়ার এবং বিভিন্ন রকম পাত্র, যন্ত্রপাতি ও রোমান মুদ্রাসহ একটি ধাতব কারখানা বা ওয়ার্কশপ পাওয়া গেছে।

আরো পর্যটক আকর্ষণের চেষ্টায় মিসর
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিসর তাদের পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করে তুলতে অনেকগুলো বড় বড় পুরাতাত্ত্বিক আবিষ্কার প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করেছে।

বেশ কিছুকাল বিলম্বের পর মিসরের সরকার এ বছরেই ‘গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম’ নামে একটি জাদুঘর উদ্বোধনের আশা করছে। বলা হচ্ছে ২০২৮ সাল নাগাদ তিন কোটি পর্যটক এটি দেখতে আসবে।

তবে কিছু সমালোচক অভিযোগ করেছেন যে মিসরের সরকার পর্যটক বাড়ানোর জন্য অ্যাকাডেমিক গবেষণার পরিবর্তে মিডিয়ায় প্রচার পায় এমন আবিষ্কারগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সবুজ কফিন
জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমে আমেরিকা থেকে ‘সবুজ কফিন’ মিসরে ফেরত যাওয়ার খবরটি ব্যাপক প্রচার পায়। খ্রিস্টপূর্ব ৬৬৪ থেকে ৩৩২ সাল পর্যন্ত মিসরে যে রাজবংশ রাজত্ব করেছিল, সাড়ে নয় ফুট লম্বা সবুজ এই কফিনটি সেই সময়ের। এতে এক সময় শায়িত ছিলেন আখেনমাট নামে একজন পুরোহিত। কফিনটির মূল্য ১০ লাখ ডলারেরও বেশি বলে ধরা হয়।

উত্তর মিসরের আবু সির নেক্রোপলিস থেকে একটি পাচারচক্র এটিকে চুরি করেছিল এবং তারপর ২০০৮ সালে এটি জার্মানি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়।

এরপর ২০১৩ সালে এক সংগ্রাহক এটিকে হিউস্টন মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল আর্টসে প্রদর্শনের জন্য ধার দেন। পরে এটি নিয়ে কয়েক বছর ধরে মামলা চলার পর যুক্তরাষ্ট্র এটি মিসরকে ফেরত দেয় এ বছরের ২ জানুয়ারি।

এর আগে ২০১৯ সালে ’সোনালি কফিন’ বলে পরিচিত পাওয়া প্রায় দুই হাজার ১০০ বছরের পুরোনো আরো একটি পাচার-হওয়া শবাধার মিসরকে ফেরত দেয় যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট এটি ৪০ লাখ ডলারে কিনেছিল।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয় আরো কিছু দেশ সম্প্রতি প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী মিসরকে ফেরত দিয়েছে।

২০২১ সালে ইসরায়েল মোট ৯৫টি প্রত্নসামগ্রী মিসরকে ফেরত দেয়। ওইগুলো নানা পথে ইসরাইলে পাচার হওয়া পর জেরুসালেমে বিক্রি করা হচ্ছে বলে ধরা পড়েছিল।

সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও ঘোষণা করেছে যে তারা একটি সারকোফেগাস বা শবাধার, মমি এবং কিছু পাত্র মিসরকে ফেরত দেবে।

সূত্র: নয়া দিগন্ত


আরো খবর: