শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:০২ অপরাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..  

ব্রাকের সহযোগিতায় দারিদ্র্য বিমোচনে জয়ী উখিয়ার ১২৩৮ পরিবার

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২

গবাদি পশু পালন করে দারিদ্রতা বিমোচনে সফল হয়েছে ফাতেমা বেগম। স্বাবলম্বী হয়ে পুরো পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে । এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ ও সম্পদ হস্তান্তর মাধ্যমে এভাবে সবজি ক্ষেত, ধান চাষাবাদ, পানের বরজ, হাস মুরগী ও গবাদী পশু পালন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা করে ১২৩৮ টি পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে ।
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার রত্না পালং ইউনিয়নের কামারিয়ার বিল গ্রামের মোকতার আহমেদ স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান , স্বামী বয়সের ভারে অসুস্থ হয়ে পড়লে সংসারে অভাব অনটন শুরু হয়। এনজিও ব্র্যাকের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ ও উক্ত সংস্থার দেয়া গবাদি পশু পালন করে এখন স্বাবলম্বী হয়েছে । বর্তমানে তার রয়েছে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ১ টি ষাড়, ৩ টি ছাগল, ২৫ টি দেশী মুরগী ও ১২ টি কবুতর। এছাড়াও সবজি ও ধান চাষ করে অভাব অনটন দূর হয়েছে। আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে আসায় বড় ছেলে কলেজে অর্নাসে অধ্যায়নরত , ২য় ছেলে ৯ম শ্রেণী ও মেয়ে ৮ম শ্রেণীতে পড়েন।
ফরিদ আলমের স্ত্রী শামশু নাহার, বশির আহমদের স্ত্রী রাজিয়া বেগম ও করিম উদ্দিনের ইয়াছমিন জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে গবাদিপশু পালন, চাষাবাদ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা করে দারিদ্র বিমোচনে সফলতা পেয়েছি। আমাদের পরিবারে হাসি ফুটেছে । ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ হয়েছে। তারা আরও জানান , দুধের গাভী, বলদ গরু , ছাগল, দেশীয় মুরগী, কবুতর , সবজি চাষে বিভিন্ন প্রকার বীজ প্রদান করেছেন । এছাড়াও গরুর গোয়াল , ছাগল ও মুরগীর ঘর তৈরি করতে টিন কাঠ সহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করেন। হাস মুরগীর বিভিন্ন রোগের টিকা প্রয়োগ ও শাক সবজির রোগ বালাই দমনে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ব্রাক ।
ব্রাকের গ্রেজুয়েশন প্রোগ্রামের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কায়সার পারভেজ জানান , জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের অর্থায়নে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ক্ষতিগ্রস্ত অতি দরিদ্র পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে উখিয়া – টেকনাফে আলট্রা পুত্তর গ্রেজুয়েশন প্রোগ্রাম শুরু করে। ২০২০ সালে ২ হাজার পরিবারকে উপকারভোগী হিসাবে নির্বাচিত করে এ প্রোগ্রামের আওতায় বসত বাড়িতে সবজি চাষ, হাঁস মুরগি গবাদি পশু পালন কুটির ও হস্ত শিল্প এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ২০২১ সালে গ্রোজুয়েশন অর্জন করায় উপকার ভোগীদের পছন্দ অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পদ হস্তান্তর করে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা হয় ।
ব্রাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান জানান , উখিয়া উপজেলার ৩ টি ইউনিয়ন যথাক্রমে রত্না পালং , জালিয়া পালং ও হলদিয়া পালং ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক এলাকার ১২৩৮ টি উপকারীভোগী পরিবার স্বাবলম্বী হওয়ায় এখন মার্কেটিং লিংকেইজের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হচ্ছেন । তাদের উৎপাদিত খাদ্য শস্য, দুধ ডিম সহ অন্যান্য পণ্য গ্রুপ ভিত্তিক মার্কেটিং করছে। দক্ষতা অর্জনের জন্য গ্রপ তৈরি ও লিডাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।


আরো খবর: