শিরোনাম :
টেকনাফে দোকান মালিকের ২০লাখ টাকা নিয়ে পালালো কর্মচারী লোহাগড়ার জুনাইদ বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমারের ৭ জেলেসহ একটি ভাসমান ট্রলার উদ্ধার নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়িতে চুরি হওয়া মোটর সাইকেল কক্সবাজারে উদ্ধার : গ্রেফতার-২ পেকুয়ায় স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা, স্বামী আটক সিনহা হত্যা: পলাতক আসামি পুলিশ কনস্টেবল সাগর দেবের আত্মসমর্পণ আমজাদ হোসেন ছিলেন জাতির পিতার আর্দশের পরীক্ষিত সৈনিক-স্বরণসভায় এমপি জাফর আলম অ্যাড.আমজাদ কখনও অর্থবিত্তের জন্য রাজনীতি করেননি, তিনি ছিলেন আদর্শিক বিশ্বাসের শিকড় চকরিয়ায় খাসজমিতে মুজিব শতবর্ষের ঘর নির্মাণে বাঁধা, অভিযুক্তকে একবছর কারাদণ্ড উখিয়ায় ইয়াবাসহ তিন রোহিঙ্গা আটক পিএমখালীতে জমি বিরোধে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
ঘোষণা:
কক্সবাজার পোস্টে আপনাকে স্বাগতম, আমাদের সাথে থাকুন,কক্সবাজারকে জানুন......

ফিল্মি স্টাইলে জায়গার দখল নিল ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামধারী যুবক

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০১৮ ৯:১৬ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ২২, ২০১৮ ৯:১৬ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার পোস্ট ডটকম ::
নগরের রহমতগঞ্জে ফিল্মি স্টাইলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামধারী শতাধিক যুবক জায়গা দখলে নিয়ে নতুন মালিকপক্ষকে বুঝিয়ে দিল। গতকাল বেলা দুইটার দিকে ওই জায়গায় বসবাস করা ১০-১২টি ভাড়াটিয়া পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে তারা। এসময় তারা ভাড়াটিয়াদের বসতঘর ভাংচুর করে লুটপাট চালায়। হামলাকারীদের সাথে আসা কিছু নারী চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে ভাড়াটিয়া নারীদের বের করে দেয়। ঘটনার ছবি তুলতে গেলে একজন ফটো সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও চালায় তারা। প্রায় দুঘণ্টা ধরে এ তাণ্ডব চলে। ঘটনাস’লে পুলিশ এলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস’া নিতে দেখা যায়নি। জানা গেছে, রহমতগঞ্জ সাত্তার মঞ্জিলের বিপরীতে ৩০ শতাংশ আয়তনের জায়গাটির কিছু অংশ টিনের ঘেরা দেওয়া। এটির পূর্ব-দক্ষিণ পাশে রয়েছে দুই-তিনটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর। এসব ঘরে ১০-১২টি ভাড়টিয়া পরিবারের বসবাস।
বেলা দুইটার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামধারী প্রায় দেড়শ তরুণ ও যুবক ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভাড়াটিয়া পরিবারের উপর হামলা চালায়। এসময় তারা খণ্ড খণ্ডভাবে বিভক্ত হয়ে কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ খুন্তি দিয়ে ঘরের দেয়াল ভাঙছেন। কেউ ভাড়াটিয়া নারী ও শিশুদের টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করছেন। যেসব নারী ঘর ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন তাদের মারধর করছেন। কেউ কেউ ভাড়াটিয়াদের বাসায় লুটপাট করছেন। বাসার জিনিসপত্র ভেঙে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন। হামলাকারীরা পাশের গলিতে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি মিনি ট্রাকও ভাংচুর করেন। এসময় ঘটনাস’লে হামলাকারীদের দিক নির্দেশনা দেন মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ওয়াহেদ রাসেল নামে এক নেতা। এছাড়া সিজার বড়-য়াসহ আরও একাধিক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীকেও ঘটনাস’লে দেখা গেছে।
দেখা গেছে, কিছু যুবক ও শ্রমিক অতিদ্রুত খুঁটি গেড়ে টিন দিয়ে ভাড়াটিয়াদের সেমিপাকা ঘরগুলো দখলে নিচ্ছেন। বিকাল পাঁচটার দিকে তাদের দখল তাণ্ডব চলে। উচ্ছেদের পর শিশু সন্তান নিয়ে কেবি আবদুস সাত্তার সড়কের পাশে আশ্রয় নেয় আট-দশটি পরিবার। এসময় তারা কান্নাকাটি করতে থাকেন। ভুক্তভোগী জাহানারার অভিযোগ, অন্যত্র বাসা খোঁজার জন্য তাদের একদিনও সময় দেওয়া হয়নি। মারধর করে তাকে বাসা থেকে বের করে দিল দখলকারীরা।
‘এখন আমরা ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব। কোথায় ঠাঁই পাব। তোদের উপর খোদার গজব পড়-ক। আল্লাহ তুমি এসব জুলুমকারীদের বিচার কর’ কান্না করতে করতে এভাবে হামলাকারীদের তিরস্কার করেন ভাড়াটিয়া গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম। এসময় ঘটনাস’লে মৃদুল কান্তি ধর নামে এক ব্যক্তি জায়গাটির খরিদসূত্রে মালিক বলে দাবি করে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘১০-১২টি ভাড়াটিয়া পরিবারের মধ্যে অনেকেই টাকা পয়সা নিয়ে অন্যত্র বাসা নিয়েছে। আজ যারা উচ্ছেদ হয়েছে তাদেরও টাকা-পয়সা নিয়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে বার বার বলেছি। কিন’ তারা শুনেনি।’
মৃদুল কান্তি ধর দাবি করেন, ৮ মাস আগে কেবি আবদুস সাত্তারের ওয়ারিশ থেকে তারা প্রায় ৪০জন ১৫ গন্ডা জায়গা কিনেন। জায়গাটি আমাদের বুঝিয়ে দেয়ার সময় ভাড়াটিয়াদের কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে বিদায় করার কথা আগের মালিক বলে যান। কিন’ এসব ভাড়াটিয়া জোরপূর্বক থেকে যেতে চায়। এ কারণে আজ তাদের উচ্ছেদ হতে হলো। ভাড়াটিয়াদের এভাবে উচ্ছেদ করার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে মৃদুল বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করে আমরা তাদের উচ্ছেদ করেছি।’ এদিকে উচ্ছেদ তাণ্ডব চলাকালীন দুটি পিকআপে করে ঘটনাস’লে কোতোয়ালি থানা পুলিশ এলেও ইউটার্ন করে ওই দুটি গাড়ি আন্দরকিল্লার দিকে চলে যায়। তাণ্ডবের ছবি তুলতে গেলে ডেইলি স্টার পত্রিকার এক ফটোসাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করে হামলাকারীরা। অবশ্য এসময় সিজার বড়-ৃয়া নামের যুবলীগের কর্মী হামলাকারীদের আক্রমণ থেকে ওই সাংবাদিককে রক্ষা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেড় শতাধিক যুবক ও তরুণ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জায়গা দখল করতে আসতে দেখে আশপাশের মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস’লের ছবি তুলতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন সাংবাদিকেরা। অভিযোগ আছে, জায়গা দখলের সময় ঘটনাস’লে না আসতে কোতোয়ালি ও চকবাজার থানা পুলিশকে মোটা অংক দিয়ে ম্যানেজ করেছেন খরিদসূত্রে জায়গাটির দাবিদার মৃদুল কান্তি ধরসহ অন্যরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দিন ও চকবাজার থানার ওসি মীর নুরুল হুদা।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::

সর্বশেষ