বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..  

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত হচ্ছে রাজশাহী

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

রাজশাহী, ২৭ জানুয়ারি – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী রোববার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীতে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ওই দিন বিকেলে রাজশাহী মাদরাসা মাঠে আওয়ামী লীগ আয়েজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলের নেতাকর্মীরা। নৌকার আকৃতিতে জনসভাস্থল মাদরাসা মাঠে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ। চলছে মাঠে সাজসজ্জার কাজ। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরী। দেয়াল লিখন, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণসহ নানা সাজসজ্জা করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা ও নগর আওয়ামী লীগ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সভা-সমাবেশ ছাড়াও প্রচার মিছিল, মাইকিং করা হচ্ছে নগরজুড়ে।

শুক্রবার মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী যে মঞ্চে বক্তব্য দেবেন সেই মঞ্চে সাজসজ্জার কাজ চলছে। পুরো মাঠসহ চারপাশ সাজানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। রাজশাহীর এই জনসভায় স্মরণকালের জনসমাগম ঘটবে বলে মনে করেন দলীয় নেতারা।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা, উচ্ছ্বাস ও আনন্দের জোয়ার বইছে। নাটোর থেকে চারটি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নলডাঙ্গা, মাধনগন, নাটোর, মালঞ্চি, আব্দুলপুর থেকে ওই ট্রেনে লোক যাবে রাজশাহীতে। এছাড়া জেলা, ৭টি উপজেলা, ৮টি পৌর ও ৫২টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নেতৃতে কর্মী-সমর্থকরা সমাবেশে আসবেন।

সমাবেশের আগের দিনই অনেক নেতাকর্মী রাজশাহীতে অবস্থান করবেন। এজন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। কতটি গাড়ি রাজশাহীতে আসবে সেটারও তালিকা করা হয়েছে। জেলার নেতারা উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন। সমাবেশের আগেই যেন নেতা-কর্মীদের বহর নিয়ে রাজশাহী শহরে সকলে প্রবেশ করতে পারেন সে লক্ষ্যে যাবতীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল বলেন, রাজশাহীর বাইরে থেকে যারা আসবেন, তাদের জন্য সর্বোচ্চটা করার প্রচেষ্টা রয়েছে। এছাড়া সমাবেশ উপলক্ষে মাদরাসা মাঠসহ যে ১২টি পয়েন্টে ডিজিটাল মনিটরের মাধ্যমে লাইভ দেখানো হবে। সেখানকার জন্য ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাবেসী কাজ করবেন। নির্বিঘ্নে যেন মানুষ আসতে পারে ও সমাবেশ সফল করতে পারে যে লক্ষে যাবতীয় প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে রাজশাহী নগরী। র‌্যাব, পুলিশ, গোয়ান্দা সংস্থাসহ পুরো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা বাড়িয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই সমাবেশস্থল মাদরাসা মাঠে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নগরীজুড়ে পোশাকে সাদা পোশাকে পুলিশি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। মাদরাসা মাঠে পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মাদরাসা মাঠ। জনসাধারণের মাঠে প্রবেশেও এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আশপাশের এলাকাগুলোতেও পুলিশি নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও পুলিশি পাহারা জোরদার করা হয়েছে।

জানা যায়, মাঠে আমন্ত্রিত অতিথিসহ গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়েও মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নগরীতে চলাচলকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে।

র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকল পর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পোশাকে, সাদা পোশাকে সমাবেশস্থলসহ নগরী ও যে রুটে প্রধানমন্ত্রী আসবেন সেখানে গোয়েন্দা তৎপরতা আছে। এছাড়া সামাবেশের দিন মাঠে ১০ পেট্রোল র‌্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ৩টি রিজার্ভ পেট্রোল থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রধানমন্ত্রীর স্পেশাল ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এদিকে মাদরাসা মাঠে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় এই সমাবেশকে সামনে রেখে রাজশাহী মহানগর এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। ২৭ জানুয়ারি সকাল ৬টা থেকে ৩০ জানুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত সব ধরনের অস্ত্র-শস্ত্র বহন, আতশবাজি, পটকা ফুটানো, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার এবং অনুমতি ব্যতীত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মো. আনিসুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। ঢাকা হেড কোয়ার্টারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আগে থেকে সোচ্চার রয়েছে পুলিশ।

,


আরো খবর: