বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ১২:০০ অপরাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..  

পেকুয়ায় প্রধান শিক্ষকের দাঁত উপড়ে ফেললো দুর্বৃত্তরা!

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০২৪

কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দয় পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় তাঁর সামনের একটি দাঁত উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। স্বজনরা তাকে মুমুর্ষবস্থায় উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গত ৫ মে রাত ৯টার দিকে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের হেদায়তাবাদ এলাকায় এঘটনা ঘটে।

আহত ইফতেহারুজ্জামান সোহেল (৪২) হেদায়তাবাদ এলাকার মৃত সাহাব মিয়ার ছেলে এবং সবুজপাড়া আশরাফ নুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

আহত শিক্ষক সোহেল বলেন, ওইদিন রাতে শিলখালী স্কুল স্টেশন থেকে চুল ছেটে বাড়ি ফিরছিলাম। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছলে পুর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা নুরুল কবির নন্নার ছেলে ছেহেরুল আনোয়ার বাবলা তিনঘর পাড়ার মৃত বশির আহমদের ছেলে মো. আবু ছালেক, আহমদ কবিরের ছেলে মো.ছোটন ও নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল আমিন হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এমনকি তাঁরা আমার একটি দাঁত উপড়ে ফেলে। আমার আর্তচিৎকারে স্ত্রী ও ছেলে এসে আমাকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করে।
তিনি আরো বলেন, ছেহেরুল আনোয়ার বাবলা তাঁর আপন ভাতিজা। বসতভিটার জায়গা নিয়ে তাদের বিরোধ রয়েছে। বড় ভাই নুরুল কবির নন্না আমার মাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে চায়। সামাজিকভাবে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। মায়ের ঘরে তাঁরা তালা ঝুলিয়ে দেয়। গত এক বছর আগে বৃদ্ধা মা ও আমাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ওই ঘটনায় মা বাদি হয়ে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাও দায়ের করেন।

সোহেলর মা মাবিয়া বেগম (৯২) বলেন, মামলা তুলে নিতে নন্না মিয়া ও তাঁর ছেলে বাবলা চাপ প্রয়োগ করছে। আমার ঘরে তাঁরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এখন আমি ছোট ছেলে সোহেলের বাড়িতে থাকি। মামলা প্রত্যাহার না করায় সোহেলকে নিষ্টুরভাবে পিটিয়ে জখম করে। মারধরে একটি দাঁত পড়ে যায়।

এদিকে শিক্ষকের উপর ন্যাক্করজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পেকুয়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও সহকারী শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। এক বিবৃতিতে সভাপতি হানিফ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো.নাছির উদ্দিন বলেন, শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষকের উপর এ ধরনের বর্বর হামলা মেনে নেওয়া যায়না। এর আগেও হামলাকারীরা আরেক শিক্ষকের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছিল। ভেঙে দিয়েছিল বসতঘর। বার বার শিক্ষকের উপর হামলায় আমরা আর ঘরে বসে থাকতে পারিনা। প্রয়োজনে আন্দোলনের হুমকিও দেন নেতৃবৃন্দ।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
###


আরো খবর: