সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..  

পেকুয়ায় নুনাছড়ি খাল খননে ১২শ একর জমিতে হবে কৃষি আবাদ

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ::
আপডেট: সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪

কক্সবাজারের পেকুয়ায় খনন করা হচ্ছে নুনাছড়ি খাল। এতে করে প্রায় ১২শ একর জমিতে বাড়বে কৃষি আবাদ। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) জনগুরুত্বপূর্ণ ওই খাল পুন:সংষ্কারে উদ্যোগ নিয়েছে। গত এক সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় নুনাছড়ি খালে মাটি কাটার কাজ। চট্টগ্রাম কক্সবাজারের সেচ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন এ কাজ বাস্তবায়ন করছে। কৃষির উন্নয়ন ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার চলতি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসির) অনুকুলে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৭শ কোটি টাকা বরাদ্ধ রাখা হয়। ৫ বছর মেয়াদে বিএডিসি এ সব বরাদ্ধের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করবে। মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নুনাছড়ি খালে ২ কিলোমিটারে খনন কাজ বাস্তবায়ন করবে।

স্থানীয়রা জানান, বিগত ২০থেকে ৩০ বছর ধরে ওই খালটি মরাখালে পরিনত হয়েছে। কিছু দখলবাজ লোকের থাবায় বহু জায়গা জবর দখল হয়েছে। খালের গতি থেমে গিয়ে খালের নাব্যতা ও প্রশস্ততা। অনেকাংশে এ খালটির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যায়। টইটংয়ের জুমপাড়ার রজনীকুম নামক স্থান থেকে খাল খনন শুরু হয়েছে। পশ্চিম দিকে মালঘারা হয়ে স্কুলপাড়ায় এসে বাঁক পরিবর্তন হয়। দক্ষিণদিকে হাবিবপাড়া হয়ে বকসুমোড়া সেখান থেকে টইটংয়ের আলিগ্যাকাটা ও বাঁশখালীর দক্ষিণ পুঁইছড়ির কোনারপাড়ার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে ওই খাল টইটংয়ের সীমান্ত ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটারে চলছে মাটি খনন কাজ।

স্থানীয়রা জানান, এ খালে খনন কাজ বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ প্রায় ১২শ একর জমিতে বাড়বে কৃষি আবাদ। উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে কৃষি ও কৃষিজ পণ্যের। খালটি সংষ্কার না হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের ফসল। জুমপাড়া, মালঘারা, স্কুলপাড়া, আলিগ্যাকাটা, মাদ্রাসাপাড়া, ফজুরমোড়া, ওয়াজখাতুনপাড়া, সোনাইয়াকাটা, পন্ডিতপাড়া, শের আলী মাষ্টারপাড়া, মিত্তান্তঘোনাসহ টইটংয়ের আরো অনেক এলাকায় কৃষিতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এটি আমার টইটংয়ের জন্য সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ। ৪০ ফুট প্রস্থ হচ্ছে খাল দু’কুলে পাড়সহ। ৮ থেকে ১০ ফুট হচ্ছে গভীর। খালের তলা ১২ ফুট। দু’পাড়ে লোকালয়ের মানুষের যাতায়াতের পথও প্রশস্ত হচ্ছে। বড় স্বার্থের জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। জায়গা জমির দাম বাড়বে। কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে। টইটং ও সীমান্তবর্তী বাঁশখালীর অন্তত ২০ হাজার মানুষ বর্ষার সময় বন্যা থেকে রক্ষা পাবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসির) পেকুয়ার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক জানান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সেচ প্রকল্পের আওতায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এ খালটিতে সংষ্কারকাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। কাজের মান ও গতি নিরুপনের জন্য আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পেকুয়ার উপজেলা কর্মকর্তা মো: রাসেল জানান, বিএডিসি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ। কাজটি তারাই বাস্তবায়ন করছে। তবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে গেলে এখানকার কৃষির উন্নয়ন ও কৃষিজমিতে আবাদ বাড়বে।


আরো খবর: