শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

পরাজিত কলম সৈনিক আবুল আসাদ ও দৈনিক সংগ্রামের আত্মত্যাগ

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: December 14, 2019 8:42 am | সম্পাদনা: December 14, 2019 8:42 am

শাহনেওয়াজ জিল্লু::

পেশি শক্তির কাছে তিনি অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন সুতরাং বলাই যায় আবুল আসাদ একজন পরাজিত কলম সৈনিক। বিদ্যায় জেনেছি অসি নয় মসি বড়; কিন্তু বাস্তবতা বলছে মসি নয় পেশি বড়!
একটি শব্দ চয়নকে কেন্দ্র করে গত ১৩ ডিসেম্বর সারাদিন উন্মাদনায় পড়ে যায় একদল মুর্খ্য। শব্দটি ছিলো ‘শহীদ’।

একজন প্রয়াত ব্যাক্তির নামের পূর্বে বিশেষণ হিসেবে এই শব্দটি যুক্ত করে দৈনিক সংগ্রাম সংবাদ ছাপিয়েছে। তাই অঞ্জন রায় নামে একজন লেখক ঘোর আপত্তি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবিসহ পোস্ট করেন।

এরপর বিষয়টি বিশেষ মতাদর্শী একদল কোনো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ছাড়াই নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে ছড়াতে থাকে। সারাদিন যেমনটি আশঙ্খা করেছিলাম সন্ধ্যায় দেখা মিললো সেই কাঙ্খিত দৃশ্যের।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নাম ভাঙিয়ে একদল লোক দেশের প্রাচীনতম জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সংগ্রাম কার্যালয়ে নারকীয় তান্ডব চালালো, হামলা করলো, বয়োবৃদ্ধ সম্পাদক আবুল আসাদকে নিয়ে যা করলো সবতো দেখলেন।

বাংলাট্রিবিউন, যমুনা টেলিভিশনসহ মূলধারার বেশ কিছু গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো দেখেছেন সারা দেশের মানুষ। দেখে যেটা বুঝা গেলো পেশিই ধর্ম; পেশিই বর্ম! আবুল আসাদের কলম কিংবা বুদ্ধিজীবির মগজ এসবের কাছে কিছুই না।

তাদের অভিযোগ- যুদ্ধাপরাধে দন্ডিত উক্ত ব্যাক্তির নামের পূর্বে শহীদ শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না। যদি প্রশ্ন করি কেনো করা যাবে না। এর কোনো উত্তর কি অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে পাবো? পাবো হয়তো পেশির জবাবই পাবো। শহীদ শব্দের উৎপত্তি, পরিভাষা, শাব্দিক তাৎপর্য সম্পর্কে যদি অ ন রায়রা জানতো তাহলে তাদের ভূমিকা কেমন হতো সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারবো না।

কারণ আমি বলবো না তাদের লজ্জা নেই। তারাও মানুষ। তাদেরও অনুতপ্ত হওয়ার মতো বিবেক আছে। কিন্তু উদ্দেশ্য প্রণোদিত কোনো ঘটনা তৈরি করার জন্য লজ্জা, শরম, বিবেক, মগজ এসব কোথাও না কোথাও বন্ধক রেখে আসতে হয়।

লক্ষ্য করবেন- দৈনিক সংগ্রাম এই একই শব্দ ব্যবহার করে আসছে বিগত ৬টি বছর ধরে ওই একই ব্যাক্তিদের নামের পূর্বে। তাহলে ৬বছর পরেই কি বিষয়টি অঞ্জন রায়ের নজরে এসেছে নাকি নতুন উন্মাধনায় মেতেছেন তিনি? সংগ্রাম একটি আধমরা পত্রিকা।

এটাকে পূণরুজ্জীবিত করতে চাইছেন? জানামতে গত দশকে বেড়ে উঠা প্রজন্মের কোনো বাচ্চা রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন প্রাপ্ত এই পত্রিকা চিনতই না। হঠাৎ এমন ভাবে নাড়া দিলেন পুরো অনলাইন প্রজন্ম দেখলো এদেশে ভিন্ন মত প্রকাশ করলে তাদের কার্যালয়ে হামলা করা যায়, ভাঙচুর করা যায়, দাদু বয়সী বয়োবৃদ্ধ লোকদের টেনে হেচড়ে হেনস্থা করা যায়। আর দৈনিক সংগ্রাম নামে বাংলাদেশে প্রাচীন একটি জাতীয় পত্রিকা আছে। এসব ঘটনায় গণমানুষের কাছে দুটি প্রভাব পড়ে। হয়তো হিংস্রতা শিখে নতুবা যে ঘৃণার বীজ বপন করছেন তার পাল্টা ঘৃণার জন্ম এবং চর্চা করতে থাকে। আক্রান্ত ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান সহানুভূতি ভালোবাসা পেতে থাকে।

বাংলাউইকিপিডিয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় তথ্যসূত্র ঘেঁটেঘুটে দেখবেন শহীদ শব্দটি ইসলাম ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত। শব্দটি একটি ইসলামী পরিভাষা থেকে এসেছে। কোরান থেকে এসেছে। এই শব্দ আদালত কর্তৃক পেটার্ন করা হয়নি যে অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। বরং অমুসলিম মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা বিশেষণ হিসেবে এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন তাদের নিজেদেরই লজ্জা পাওয়া উচিত। ব্যবহার করা যাবে না সেটা বলছি না। বরং এটা বলছি তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত। কারণ শব্দটি তাদের নয়। কোনো আরব্য চেগুয়েভারা এই শব্দ আবিষ্কার করেননি যে সেটা নিয়ে অঞ্জন রায়রা উন্মদনায় মেতে উঠবে। স্পষ্টভাবে বলছি শব্দটি ইসলামের, শব্দটি কোরানের। এবার যদি আধুনিক বিশ্বের কথায় আসি ধরে নিলাম শব্দের কোনো ধর্মীয় পরিভাষা থাকতে পারে না। এটি সার্বজনীন। তো হলোই তো; সার্বজনীন হলে আপত্তি আসলো কেনো? হামলা হলো কেনো? শহীদ আরবী শব্দ। এর বাংলা অর্থ সাক্ষী। এই বাংলা অর্থেও কোনো সমস্যা দেখি না। ধরুন শহীদ অঞ্জন রায়। যার অর্থ দাড়ায় সাক্ষী অঞ্জন রায়। এবার তিনি কি মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষী নাকি স্বাধীনতা বিরোধীর সাক্ষী সেটা ভিন্ন আলোচনা। কিন্তু সাক্ষী হলে সমস্যা কোথায়। একইভাবে শহীদ কাদের মোল্লা।

যাই হউক- এই সামান্য বিষয় নিয়ে যেভাবে উন্মাদনা সৃষ্টি করে একটি গণমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা ও তার সম্পাদককে হেনস্তা করা হয়েছে সেটা দ্বারা বুঝা যায় হামলাকারীরা নিরাপদ আশ্রয়দাতার ইন্ধনে পেশি শক্তিকেই আইন মনে করেন, বাহুতেই বন্দী করে রাখেন আদালত। সুতরাং এমতাবস্থায় আমি চাই না দৈনিক সংগ্রাম বেঁচে থাকুক।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::