শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

তাসফিয়ার মৃত্যুরহস্য উন্মোচন!

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: May 5, 2018 11:30 pm | সম্পাদনা: May 5, 2018 11:30 pm

চট্টগ্রামে আলোচিত তাসফিয়া’র মৃত্যুরহস্য উন্মোচন হয়েছে। তবে তাসফিয়ার মৃত্যুর সব ধরণের তথ্য উপাত্ত পুলিশের হাতেই রয়েছে। রোববার (৬ মে) বিস্তারিত খোলাসা করবে পুলিশ। তাসফিয়া নগরীর জিইসি মোড় থেকে পতেঙ্গা কিভাবে পৌঁছালো সে রহস্য জানার জন্য গত তিনদিন ধরে তাকে বহনকারী সিএনজি অটো রিকশা চালককে খুঁজছিল পুলিশ। সেই অটোরিকশা চালক এখন আটক হয়েছে পুলিশের হতে। অপরদিকে তাসফিয়া হত্যা মামলার কয়েক আসামিকেও আটক করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে মৃত্যু রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছে পুলিশ।

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, তাসফিয়া হত্যার রহস্য উন্মোচনের দ্বারপ্রান্তে পুলিশ।

শনিবার রাতে তিনি সিভয়েসকে বলেন, ‘পুলিশ তাসফিয়া হত্যার ব্যাপারে বিস্তারিত জেনেছে। কিন্তু মামলার তদন্তের স্বার্থেই আজ বলা যাচ্ছে না। যেহেতু এটি একটি আলোচিত ঘটনা। তবে কাল রোববারের মধ্যে বিষয়টি আরো খোলাসা করা হবে। তদন্তে পুলিশ যেসব বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে সব পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।’

জাহেদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘তাসফিয়াকে বহনকারী সেই অটো রিকশা চালক এখন পুলিশ হেফাজতে। তাকে নিয়েই তদন্তে এগোচ্ছে পুলিশ। তাসফিয়ার গতিবিধি নিয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজও পুলিশের হাতে এসেছে।’

নগরীর আলোচিত এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সিভয়েসকে বলেন, ‘ধর্ষণের কোন আলামত নেই। কিন্তু ধর্ষণের জন্য ধস্তাধস্তি হয়েছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। আমরা তাসফিয়ার হাতের আঙ্গুলের আংটি এবং মোবাইল ফোনটি খুঁজছি।’

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম সিভয়েসকে বলেন, ‘এটি একটি হত্যাকাণ্ড। কিভাবে তাসফিয়াকে হত্যা করা হলো, কারা হত্যা করেছে সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তের শেষ পর্যায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

আদনানের দেওয়া তথ্যাদি চুল-চেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আরো কিছু প্রশ্ন করা হবে। তার বক্তব্যে কোনো কিছু ফারাক আছে কি না তাও যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বুধবার (২ মে) সকালে। আগের দিন মঙ্গলবার রাতে তাসফিয়া পতেঙ্গা সৈকতের ১৮ নম্বর ঘাটে যায়।

নগর পুলিশের পাশাপাশি তাসফিয়ার মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অপরাধ তদন্তে বিশেষায়িত এই ইউনিটসহ র‌্যাবও কাজ করছে তাসফিয়ার মৃত্যুরহস্য উন্মোচন করতে।

তাসফিয়া বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ের ভিডিও পাওয়া গেছে পাশের বাসার একটি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরায়। এরপর সিআরবিসহ কয়েকটি রেস্টুরেন্টে যাওয়ার কথা বলেছে তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জা। সেসব রেস্টুরেন্ট থেকেও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ফুটেজে তাসফিয়া ও আদনানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সন্ধ্যায় গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল নামের রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে একটি অটোরিকশায় উঠে তাসফিয়া। সেই ভিডিও চিত্র পাওয়ার পর পুলিশ তাসফিয়ার বাসায় যায়। সে বাসায় প্রবেশ করেছে কি না এমন প্রমাণ পাওয়ার আশায়। কিন্তু তাসফিয়ার বাসার পাশের ভবনের সিসি ক্যামেরায় এ ধরণের ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া গোলপাহাড় মোড় থেকে তাসফিয়াকে বহনকারী অটোরিকশা জিইসির মোড় যাওয়ার সময় মেডিকেল সেন্টারের সামনের সড়কে সামান্য সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছিল। এরই মধ্যে তাসফিয়া অটোরিকশা থেকে নামে। পরে আবার গাড়িতে উঠে। এরপর গাড়িটি জিইসির মোড় হয়ে পতেঙ্গা চলে যায় বলে পুলিশের ধারণা।

তাসফিয়া সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে জিইসির মোড় এলাকায় ছিল। আর রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তাকে পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ঘাট এলাকায় দেখা যায়।

পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মঈন উদ্দিন বলেন, ‘তাসফিয়ার মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে পিবিআই তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করছে। তদন্তের অনেক অগ্রগতি আছে। বিস্তারিত পাওয়ার জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে।

তাসফিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিক আদনান মির্জাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয়ে আরো পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তাসফিয়ার বাবা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::