শিরোনাম :
চকরিয়ায় সব পর্যটন স্পট কমিনিউটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে দুইদফায় স্থগিত হলো চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচন হতাশায় ভোটার, খরচের খাতা দীর্ঘ হচ্ছে প্রার্থীদের! উখিয়ায় বসতবাড়ি ভাংচুর ও মালামাল লুটপাট, মহিলা সহ আহত ৩ উখিয়ায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পরিদর্শনে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন হোটেল-মোটেলসহ কক্সবাজারের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে শিগগিরই চালু হবে ইন্সটিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরী-সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দীন উখিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রোহিঙ্গার মৃত্যু উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএনের কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিআইজি টেকনাফের নাফ নদী থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে এক্স-রেতেই ধরা খেল পাকস্থলীতে ইয়াবা
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
কক্সবাজার পোস্টে আপনাকে স্বাগতম, আমাদের সাথে থাকুন,কক্সবাজারকে জানুন......

জেআরপি সংকট মোকাবেলায় যথোপযুক্ত নয়- অভিমত প্রকাশ ৫০টি স্থানীয়-জাতীয় এনজিওর

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি::

প্রকাশ: মে ১৬, ২০২১ ৯:২০ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ১৬, ২০২১ ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

২০২১ সালের জন্য জাতিসংঘ গৃহীত রোহিঙ্গা সাড়াদান পরিকল্পনাকে (জেআরপি) সংকট মোকাবেলায় যথোপযুক্ত নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছে কক্সবাজারে কর্মরত ৫০টি স্থানীয়-জাতীয় এনজিও-সুশীল সমাজ সংগঠনের নেটওয়ার্ক সিসিএনএফ।

আগামী ১৮ মে জেআরপি’র আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা উপলক্ষ্যে আয়েজিত ‘জাতিসংঘর রোহিঙ্গা সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) ২০২১: শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় যথাপোযুক্ত নয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সিসিএনএফ’র কো-চেয়ারম্যান এবং কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী।

এতে আরও বক্ততা করেন- পালস’র নির্বাহী পরিচালক আবু মোর্শেদ চৌধুরী, ইপসার প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর, মুক্তি কক্সবাজার’র প্রধান নির্বাহী বিমল দে সরকার এবং কোস্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক মো. মজিবুল হক মনির।

রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, জেআরপি / রোহিঙ্গা প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা ২০২১ তৈরির সময় স্থানীয় ও জাতীয় এনজিও প্রতিনিধিদের পক্ষ থকে এই বিষয়ে লিখিত মতামত পাঠানো হয়েছিলো, এবং তারা গত ৬ই মে বিষযটি নিয়ে একটি ওয়বিনাররও আয়োজন করা হয় যখানে মাননীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘর প্রতিনিধিবৃদ অংশগ্রহণ করেন। তব রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দর মতামত উক্ত দলিলটিতে প্রতিফলিত হয়নি বললেই চলে।

তিনি আরও বলেন, গত ৪ বছর জাতিসংঘের বিদেশি কিছু কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত ইটার সকটোরাল কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ বা আইএসসিজি রোহিঙ্গা কর্মসূচির জন্য প্রাপ্ত তহবিলের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি। প্রাপ্ত অর্থের কত অংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় করা হয়েছে, স্থানীয় উৎস্য থকে কেনাকাটায় কত ব্যয় করা হয়েছে, স্থানীয়দের মধ্য হতে কতজনকে নিয়োগ করা হয়েছে এসব তথ্যও বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারেনি।

স্থানীয়- জাতীয় এনজিও এবং অনেক আÍর্জাতিক এনজিওর ( যেমন আইএফআরসি ও এমএসএফ) কার্যক্রম, তাদের প্রাপ্ত অর্থের তথ্য জেআরপিতে অÍন্তর্ভুক্ত হয় না। তাই আইএসসিজি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় কতটা কার্যক্রর সেটা প্রশবিদ্ধ। তাছাড়া ভবিষ্যত পরিস্থিতির বিশ্লেষণ নই জেআরপিতে, আগামী ৫ বা ১০ বছর কোনও প্রত্যাবাসন না হল এই সংকট মোকাবেলায় কী করা হবে সেটা এখনি ভাবা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অতিরিক্ত ঘনবসতি একটি বড় সমস্যা, এই সমস্যা নিরসনে সিসিএনএফ ইতিমধ্যে সহজেই নির্মানযোগ্য এবং ব্যবস্থাপনযোগ্য দু’তলা ঘরের সুপারিশ করে আসছে। যেহেতু রোহিঙ্গাদের ৬৫% যুবক-কিশোর, তাই তাদের জন্য প্রয়োজন স্বীকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা, তাদের জন্য আয়ের ব্যবস্থাও থাকতে হবে, যাত তারা কোনও সন্ত্রাস ও অবৈধ কার্যকলাপর দ্বারা প্রলুব্ধ না হয় এবং চলমান কক্সবাজার উনয়নর জন্য হুমকিতে পরিণত না হয়।

আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান রাহিঙ্গা ব্যবস্থাপনায় পৃথক তিনটি লাইন বা কর্তৃপক্ষ আছে যমন- আইএসসিজি, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসিসি) এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। কর্মসূচি এবং তহবিল ব্যব্যস্থাপনার জন্য একটি একক কর্তৃপক্ষ ও একক তহবিল ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। তিনটি সংস্থার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠিত হওয়া উচিৎ, মাননীয় সংসদ সদস্যদর (সংসদ সদস্য), স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, স্থানীয় এনজিও এবং মিডিয়া প্রতিনিধিদর অংশগ্রহণে গঠিত সই কমিটির মাসিক ভিত্তিত সমন্বয় সভা হতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট সংক্রান্ত পরারাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটিগুলিতও সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকারের অংশগ্রহণ থাকা উচিত।

বিমল দে সরকার বলন, রোহিঙ্গা অর্থায়নের স্থানীয়করণ নিশ্চিত করতে ’লোকালাইজশন রোডম্যাপ’ করেছে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কর্তৃক গঠিত লোকালাইজশন টাস্ট ফোর্স (এলটিএফ), এই সম্পর্কিত প্রতিবদনটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং ২০২০ সালর নভেম্বর জমা দেওয়া হয়েছে, কি এখনো সই প্রতিবদনটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়করণ কম খরচে কর্মসূচি পরিচালনা ও শান্তিপূর্ণ সহাবাস্থানের জন্য অপরিহার্য। মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার এবং স্থানীয় এনজিওদর কাছে থাকতে হবে, জাতিসংঘর এজেন্সিগুলি এবং আইএনজিও কেবলমাত্র মনিটরিং এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মধ্য তাদের কাজ সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

আরিফুর রহমান বলন, অর্থ সহায়তার স্বছতা থাকা উচিত, যেমন সিসিএনএফ সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রতি রোহিঙ্গা পরিবারর জন্য প্রতি মাস ৪৮৮ ডলার আসে কি পরিবারগুলোতে প্রত্যক্ষ সরবারহ ও উপকরণ পাওয়া গেছে এর এক ততীয়াংশের মতো অর্থাৎ ১৩০ ডলার। মোট প্রাপ্ত তহবিলের মধ্যে স্থানীয় সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এসেছ মাত্র ৪% । ২০২১ সালের পর যেন বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন না হয়, সেই লক্ষ্যে দক্ষতা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে।

মো. মজিবুল হক মনির বলেন, এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ২১ হাজার শরণার্থী প্রতিজন প্রতিদিন ৩.৩ টন বর্জ্য তৈরি করে থাকেন, যার বেশির ভাগই প্লাস্টিক বজ্য। উখিয়া এবং টকনাফ ভূগর্ভ¯ পানির নিচে নেমে যাছে, সুতরাং প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষধাজ্ঞা থাকা উচিত, এবং গভীর নলকূপ স্থাপনও নিষিদ্ধ করতে হবে। নদীর পানি পরিশোধন করে তা সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং পরিবশের ক্ষতিপূরণের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::