রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..  

চকরিয়ায় রাতের আঁধারে কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে তছনছ করে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিনিধি,চকরিয়া::

কক্সবাজারের চকরিয়ায় রাতের আঁধারে এক অসহায় চার কৃষকের ১ একর সবজি ক্ষেত কেটে সাবাড় করে দিল দূর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে ১১ ডিসেম্বর (রবিবার) দিবাগত রাতে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বেতুয়া মৌজাস্থ মুবিন পাড়ায়।

এ ঘটনায় খেতের মালিক স্থানীয় মৃত গোলাম সুলতানের পূত্র মোঃ হাছন বাদী হয়ে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বাণিয়ারচর এলাকার দিল মোহাম্মদ, আব্দুল্লাহ, জমির উদ্দীন, মিটু ও শহীদুল ইসলামকে আসামি করে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, মুবিন পাড়াস্থ চার কৃষক মোঃ হাছন, মোঃ সেলিম উদ্দিন, বেলাল উদ্দিন ও আনোয়ার হোসেন মিলে জমির মালিক রেজাউল করিম গং ও বানিয়ারচর মাদ্রাসা থেকে একর জমি লাগিয়ত (বর্গা) নিয়ে বহু বছর পূর্ব থেকে বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষাবাদ করে আসছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামীরা তাদের ক্ষেতের বিক্রি যোগ্য প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ টাকার সবজি ( ফুল কপি, বাঁধা কপি, আলু, মরিছ, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া ও শিম) ক্ষেত কেটে সাবাড় করে ফেলেছে।
কৃষক সেলিম উদ্দিন জানান, গত তিন বছর ধরে স্থানীয় জমির মালিক রেজাউল করিমের কাছ থেকে ৪০ শতক জমি বর্গা নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। শনিবার দিবাগত রাতে চিহ্নিত কিছু দূর্ভৃত্তরা তার সম্পুর্ন ক্ষেত কেটে সাবাড় করে ফেলেছে। এতে তার আড়াই লক্ষাধিক টাকার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে বলেও জানান।

অপর দরিদ্র কৃষক বৃদ্ধ আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি ১০ শতক জমি বানিয়ারচর মাদ্রাসা থেকে বর্গা নিয়ে মিষ্টি কুমড়া, আলু ও শিম ক্ষেত করেছিলাম। আমার সব ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ায় এখন আমার পথে বসা ছাড়া কোন উপায় নেই”
এ কথা বলে কান্না শুরু করে দেন।

জমির মালিক রেজাউল করিম জানান, বেতুয়া মৌজার বিএস ১৩৯ নং খতিয়ান মূলে ২ একর জমির মালিক হচ্ছেন হাজী আবদুল বারীর ওয়ারিশ গং। আবদুল বারীর দৌহিত্র রেজাউল করিম অপরাপর ওয়ারিশগনের অনুমতিক্রমে দীর্ঘদিন যাবৎ দুই একর জমি ভোগদখলে আছেন। তার জমিতে চাষাবাদ করা কৃষকদের ক্ষেতে শনিবার রাতে ব্যাপক ভাবে ক্ষতি সাধন করেছে স্থানীয় চিহ্নিত দুবৃর্ত্তরা।

অভিযুক্ত জমির উদ্দিন জানান, আমার সাথে মোঃ হাছনের কোন ধরনের শত্রুতা নেই। গতকাল শনিবার আমি বাড়িতে ছিলাম না। কে বা কারা এমন কাজ করেছে তা আমি জানিনা। আমিও এই গর্হিতকর কাজের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা তদন্ত পূর্বক আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক ক্ষতিপূরণ আদায় সহ শাস্তির ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন ভুক্তভুগী পরিবার।

চকরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল জব্বার বলেন, পুর্ব বড় ভেওলায় ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ##


আরো খবর: