শিরোনাম ::
মিয়ানমারের নৌবাহিনীর গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ পেকুয়ায় আরো দুটি অবৈধ করাতকল সিলগালা চকরিয়া বদরখালীতে গুলি করে হাত-পা কেটে যুবককে খুনের মামলার আসামি শাকিল গ্রেপ্তার রামুতে বৌদ্ধদের স্বর্গপূরী উৎসবে নারী-পুরুষের ঢল পালিয়ে বাংলাদেশে বিজিপির আরও ১১ সদস্য টেকনাফ র‍্যাবের পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত ৪ আসামী গ্রেফতার র‍্যাবের অভিযানে স্বামী হত্যায় পরকীয়া প্রেমিকসহ স্ত্রী গ্রেফতার পেকুয়ায় রেঞ্জ কর্মকর্তাকে টাকা দিলেই মেলে পাহাড় কাটার অনুমতি নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কক্সবাজার ভ্রমণের লোভ দেখালেন চেয়ারম্যান প্রার্থী শখের বাইক নিয়ে আসা হলো না কক্সবাজার, পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..  

কক্সবাজারে ১১১টি ভাটার ৬১.২৬ শতাংশই অবৈধ

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৪

কক্সবাজার জেলার সংরক্ষিত বনের পাশেই অবৈধভাবে ইট উৎপাদন করছে ৩৪টি ইটভাটা। আইন অমান্য করে এসব ইটভাটায় ইট তৈরির কাজ শুরু করে মৌসুম শেষ হতে চললেও প্রশাসনের বিশেষ কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এসব ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও মামলা করলেও তাতে কোনো টেকসই পরিবর্তন আসছে না বলে মন্তব্য পরিবেশবাদীদের। আর বন বিভাগ সূত্র বলছে বিভিন্ন ধরনের আইনি জটিলতার কারণে অবৈধ ভাটাগুলো উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না।

আইনে উল্লেখ আছে, সংরক্ষিত বনের ভেতর তো নয়ই, বনের অন্তত তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ধরনের ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। জেলা প্রশাসন, বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ৮৫টি ইটভাটায় প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে ১৫ লাখের বেশি ইট। এর মধ্যে ৩৩টি ইটভাটার অবস্থান সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে। অধিকাংশ ভাটায় বনের কাঠ পুড়িয়ে ইট উৎপাদন চললেও আইনি জটিলতায় এসব উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। এর ফলে বন উজাড়ের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও ধ্বংস হচ্ছে।

জানা যায়, জেলার টেকনাফ, রামু, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলায় ইটভাটা রয়েছে ১১১টি। এর মধ্যে ৩৪টি ইটভাটা নির্মিত হয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে। বিভিন্ন গ্রামে গড়ে ওঠা বেশিরভাগ ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নেই। প্রতি বছর ডিসেম্বর ও জানুয়ারির দিকে কক্সবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তর অবৈধ ইটভাটায় অভিযান শুরু করলেও ভাটা মালিকরা তা পুনরায় চালু করে ব্যবসা চালিয়ে যায়। সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন ভাটায় অভিযান চালিয়ে মামলা জব্দসহ জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গত ১৫ মার্চ চকরিয়ার মানিকপুর–সুরাজপুর ইউনিয়নের ফাইতং মৌজার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, কাঠ পুড়িয়ে ভাটাগুলোতে ইট তৈরি করা হচ্ছে। চকরিয়ার বানিয়ারছড়া স্টেশন থেকে পূর্ব দিকে গেছে পিচঢালা ফাইতং সড়ক। এ সড়কে ঢুকতেই নজরে পড়ে সবুজ গাছপালা ধুলায় ধূসর হয়ে গেছে। ছয় কিলোমিটার পথে চোখে পড়ে কালো ধোঁয়ার কুন্ডলী। দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের ফাইতং বনাঞ্চলের ভেতরে তৈরি হয়েছে ১০টির বেশি ইটভাটা।

দূরের বনাঞ্চলে দেখা গেছে আরও ১০–১২টি ভাটা। সবকটির চিমনি থেকে কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে। কাঠ পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। ফাইতং–গজালিয়া সড়কের পাশে এফএসি নামে একটি ইটভাটায় প্রায় ১০ একরের মতো পাহাড় কেটে বসানো হয়েছে চিমনি। পাশেই খননযন্ত্র (এক্সকেভেটর) দিয়ে কাটা হচ্ছে পাহাড়। পাহাড় কাটা মাটি ভিজিয়ে কাঁচা ইট বানাতে ব্যস্ত শ্রমিক, চিমনির আশপাশে বিশাল কাঠের স্তূপ।

রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ বাজারের উত্তর পাশে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ইএম ব্রিকস নামে একটি ভাটায় চলছে ইটের উৎপাদন। পাহাড় কাটার মাটি ও ফসলি জমির টপ সয়েল দিয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আট–নয় বছর ধরে ভাটায় অবৈধভাবে ইট তৈরি করা হলেও উচ্ছেদ হচ্ছে না। ভাটার মালিক রামুর বাসিন্দা রফিক উদ্দিন বলেন, বনাঞ্চলের পাশে হলেও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে তিনি ভাটাটি তৈরি করেছেন। কিন্তু ভাটাটি বনাঞ্চলের পাশে হওয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র দিচ্ছে না। কয়লা পুড়িয়ে ভাটায় ইট উৎপাদিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জেলায় ১১১টি ইটভাটা থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধতা আছে বলে জানা গেছে ৪৩টির। এর মধ্যে ৬১.২৬ শতাংশের পরিবেশের ছাড়পত্র ও অনুমোদন নেই। জেলা সদরে ১৯টির মধ্যে বৈধ মাত্র ৩টি। রামুর ৫২টির মধ্যে অবৈধ ২৯টি। পেকুয়ার ৬টির মধ্যে বৈধ মাত্র ১টি।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, কৃষিজমির টপ সয়েল, পাহাড় ও টিলার মাটি দিয়ে ৬০টির বেশি ভাটায় দৈনিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ইট উৎপাদিত হচ্ছে। ৭ থেকে ১৬ বছর ধরে এসব ভাটায় অবৈধভাবে ইট উৎপাদন চললেও ঠেকানো যাচ্ছে না। ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমারেখা থেকে দুই কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ।

কক্সবাজার (উত্তর) বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আনোয়ার হোসেন সরকার জানান, বনাঞ্চলের পাশে তৈরি ৩৪টি ইটভাটা উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। কিন্তু আইনি জটিলতা ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে অবৈধ ভাটাগুলো উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। তবে ভাটাগুলোতে বনাঞ্চলের কাঠ যেন ব্যবহার করা না হয়, সেদিকে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী উপ পরিচালক নুরুল আমিন জানান, কক্সবাজারে কতটি ইটভাটা আছে এই মুহুর্তে জানা নেই তথ্য দেখে জানাতে হবে। অবৈধ ইটভাটা তৈরি হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি জানান, অবৈধ কোনো ইট ভাটা করতে দেওয়া হবে না। যদি করে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ ভাটা চিহ্নিত করে আমাদের টিম অভিযান চালাচ্ছে।


আরো খবর: