শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..  

কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২২

সাপ্তাহিক সরকারি ছুটিতে সাড়ে তিন লাখের বেশী পর্যটক সমাগম হয়েছে কক্সবাজারে। আজ শুক্রবার ও কাল শনিবার সহ আসন্ন বড়দিন উপলক্ষ্যে এসব পর্যটক এসেছে। এতে করে কক্সবাজারে অবস্থানরত হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট গুলোতে কোন ধরণের রুম খালি না থাকায় সৈকতের বালিয়াড়িতে রাত যাপনের আশংকা দেখা দিয়েছে। তাই, সব ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, সরকারি সাপ্তাহিক ছুটিতে লাখ পর্যটক সৈকতে নেমেছে। সাপ্তাহিক ছুটি ও বড়দিনের টানা ছুটি পেয়ে কক্সবাজার সৈকতে ভ্রমনে এসেছেন এসব পর্যটক। সৈকতে পর্যটকরা কেউ বালিয়াড়িতে দৌঁড়ঝাপ, কেউ সমুদ্রস্নানে ব্যস্ত। যে যার মত করে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকরা। শুধু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত নয়, পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, পাথুরে সৈকত ইনানী, হিমছড়ি ও রামু বৌদ্ধ মন্দির, মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরেও।

হোটেল মালিক ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিন সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। তাই, শুক্রবার সকাল থেকেই পর্যটকরা কক্সবাজারমুখী হয়েছে। ইতিমধ্যে সব ধরণের হোটেল-মোটেল রুম বুকিং বন্ধ রয়েছে। হোটেলের কক্ষ পেতে লাগেজ নিয়ে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ছোটাছুটি করতেও দেখা যায় বেশকিছু পর্যটককে।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক জোবাইদা হোসেন কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, পরিক্ষা শেষে নিরিবিলি প্রাকৃতিকর সাথে সময় পার করতে কক্সবাজার চলে আসছি। রুম পেতে একটু কষ্ট হয়েছে। তবে সমুদ্রে এসে গোসল করতে পেরে সব কষ্ট ভুলে গেছি।

হোটেলে রুম না পেলে সৈকতের বালিয়াড়িতে রাত কাটানোর কথা জানিয়ে ঢাকা মিরপুর থেকে সপরিবারে আগত পর্যটক পারভেজ আলম কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, বছরের শেষে ছুটি কাটাতে কক্সবাজার আসছি। আসার সময় রুম বুকিং দি নাই। এখানে এসে রুম না পেয়ে একটু কষ্ট হচ্ছে।

কক্সবাজার সৈকতে দায়িত্বরত লাইফগার্ড কর্মী রুবেল কক্সবাজার ভয়েসকে জানান, সৈকতে বিপুল পর্যটক সমাগমের কারণে চাপ পড়েছে আমাদের উপর। লাইফগার্ড থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন খুব সতর্ক। তাই, সৈকতে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

হোটেল দি প্রেসিডেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ ফয়েজ কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ডিসেম্বরে আমাদের পর্যটক মৌসুম শুরু হলেও প্রথম দিকে পর্যটকের তেমন সাড়া পাইনি আমরা। আজ থেকে যে টানা ছুটি ছিল সেটাতে আমাদের হোটেলে শতভাগ বুকিং হয়েছে। এতে আমরা ক্ষতি পূরণ করতে পারবো।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, কিছুদিন ধরে আমাদের ব্যবসা মন্দা যাচ্ছিল। এতে হতাশায় ভুগে পর্যটক ব্যবসায়ীরা। টানা তিনদিনের ছুটিতে পুরো কক্সবাজারে সব হোটেল বুকিং হয়েছে। অনেক পর্যটক রুমের জন্য কল দিচ্ছে তারপরও আমরা তাদের রুম দিতে পারছি না।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, টানা তিন দিনের ছুটিতে কয়েকলাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে। তাই আমাদের ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা সবসময়ই সজাগ আছি।

পর্যটন মৌসুমে বিনোদন প্রেমীদের চাপ বাড়ায় প্রতিটি স্পটে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো: মাসুম বিল্লাহ। তিনি কক্সবাজার ভয়েসকে জানান, সরকারি ছুটিতে কক্সবাজারে বর্তমানে সাড়ে তিন লাখ পর্যটক অবস্থান করছে। তাই এসব পর্যটকের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সব ধরণের ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। একইভাবে সৈকতে দায়িত্বে নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিশ তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

এদিকে, কক্সবাজারে বিপুল পর্যটক আগমনের সুযোগে কিছু কিছু হোটেল মালিক, রেস্টুরেন্ট ও পরিবহণ মালিকরা পর্যটকদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য, এসব অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বরত প্রশাসনের কাছে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেননি বলে জানা গেছে।


আরো খবর: