বিশেষ প্রতিবেদক ::

কক্সবাজারের এক “আইনজীবি” ইয়াবা ট্যাবলেট ও দুই সহযোগীসহ চট্টগ্রামে আটক হয়েছেন। দেড় হাজার ইয়াবাসহ আটক আইনজীবির নাম হাফিজুর রহমান। ইয়াবাসহ আটক হাফিজ কক্সবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্য মর্মে তার ব্যবহৃত ভিজিটিং কার্ডে উল্লেখ রয়েছে।
তিনি কক্সবাজার সদরের পোকখালী ইউনিয়নের পূর্ব পোকখালী গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত রফিক আহমদের ছেলে। তার সাথে আটল অপর দুই সহযোগী সাতকানিয়া এলাকার রিদোয়ান ও মানিক সাতকানিয়া এলাকার বাসিন্দা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ টীম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারী বিকালে তাদেরকে আটক করে। পুলিশের দাবী, আটক হাফিজুর রহমান আগে থেকেই ইয়াবা সেবন, পাচার ও ব্যবসার সাথে জড়িত।
মামলার এজাহার সূত্রে প্রকাশ, ইয়াবা পাচার করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন সানমার মার্কেটের সামনে থেকে তাদেরকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। এরপর এডভোকেট হাফিজুর রহমানের দেহ তল্লাশী করে প্যান্টের ডান পকেট থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এসময় অপর দুই জনের কাছ থেকেও আরো ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
এ ঘটনায় এডভোকেট হাফিজকে প্রধান আসামী করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এস আই শিবু প্রসাদ চন্দ। এ মামলায় ঐ দিন আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়। সেই থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন এডভোকোট হাফিজ। এরপর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে তার জামিন আবেদন করা হলেও তা না মঞ্জুর করেন বিজ্ঞ আদালত।
এদিকে উপরোক্ত মামলায় আনীত মাদকদ্রব্য ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তের সময় প্রমানিত হওয়ায় এডভোকেট হাফিজসহ অন্য দুই আসামীকে অভিযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পাঁচলাইশ থানার এস আই এনামুল হক।
মামলাটি বর্তমানে মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
উপরোক্ত ব্যাপারে এডভোকেট হাফিজুর রহমানের ভাই মনজুর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যাপারটির সত্যতা নিশ্চিত করলেও তার ভাই ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবী করেন।
এদিকে মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত ও ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে একজন আইনজীবি আটক হওয়ায় এ নিয়ে এলাকায় তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, চট্টগ্রামের একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে ও বাহারী ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে বছরখানেক আগে থেকে নিজকে আইনজীবি পরিচয় দিতে শুরু করেন হাফিজ। কক্সবাজার আদালত পাড়া সংশ্লিষ্টরা জানান, তাকে তেমন কোন মামলা পরিচালনা করতে দেখা যেতনা, কিন্তু আলীশান জীবন-যাপন করতেন ও শহরের ভিআইপি এলাকা বাহারছড়ায় ব্যয়বহুল ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকতেন “এডভোকেট” হাফিজ। তবে কক্সবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকোট নূরুল ইসলাম জানান, এ নামে কোন আইনজীবিকে চিনেননা।

এই জাতীয় আরো খবর::

সম্পাদক: সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ার

নির্বাহী সম্পাদক: ফারুক আহমদ
মোবাইল: ০১৮৫৭-৭৩৫৭৩৫
ইমেইল: coxsbazarpost24@gmail.com


কক্সবাজার অফিস: হোটেল তাজসেবা, ২য় তলা,সদর থানার পিছনের সড়ক, পৌরসভার রেষ্ট হাউজ সংলগ্ন, কক্সবাজার।
উখিয়া অফিস: ফরিদ ম্যানশন (১ম তলা), মসজিদ রোড়, কোটবাজার, উখিয়া।
রামু অফিস: এন আমিন প্লাজা (২য় তলা), ফুটবল চত্বর, রামু বাইপাস, রামু।