শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

কক্সবাজারকে মনোরম শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: July 23, 2020 6:33 am | সম্পাদনা: July 23, 2020 6:33 am

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কক্সবাজারকে সুন্দর এবং পর্যটক আকর্ষণকারী শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আমরা এমনভাবে উন্নত করতে চাই, যত বড় বিমানই হোক না কেন, সারা বিশ্ব থেকে তারা (পর্যটক) এখানে আসতে পারবে।’

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) করোনা মহামারি পরিস্থিতির মধ্যে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলায় জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়কেন্দ্র খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম ধাপে নির্মিত ২০টি ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম ধাপে উদ্বোধন হওয়া ভবনগুলোতে ফ্ল্যাট পেয়েছেন ৬০০টি পরিবার। এ দিন এসব ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের ঝাউবন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে হয়েছিল। যাতে আশপাশের মানুষেরা জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পান। কক্সবাজারকে আমরা সুন্দর মনোরম একটি শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এত সুন্দর, দীর্ঘ এবং বালুকাময় শহর পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এই মনোরম দৃশ্য যেন পৃথিবীর সকল পর্যটক দেখতে আসে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেন পর্যটকরা আসতে পারে, সেটা বিবেচনা করেই আমরা কক্সবাজারের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। কক্সবাজারের বিমানবন্দরকে আমরা এমনভাবে উন্নত করতে চাই যত বড় বিমানই হোক না কেন সারা বিশ্ব থেকে তারা এখানে আসতে পারবে।’

jagonews24

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর নির্মাণ করতে গিয়ে দেখলাম, বিভিন্ন সময়ে ঘূর্ণিঝড়ে উদ্বাস্তুদের ৪/৫ হাজার পরিবার প্রায় সেখানে অবস্থান করছে। তাদের জায়গা করে দেয়া এবং প্রকল্প গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেই। খুরুশকুল জায়গাটা আমি খুঁজে বের করি। নদীর ওপারে মনোরম পরিবেশে ভালোভাবে যেন তারা বসবাস করতে পারে সে কারণেই এই জায়গা। এখানে আমরা শহরের মতো করে গড়ে তুলতে পারব এবং সেইভাবে করে গড়ে দেব।’

প্রকল্প তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি, সেনাবাহিনীর সদস্যসহ সকলকে। তারা সুন্দরভাবে প্রকল্প গ্রহণ করে ২০টা বিল্ডিং করেছে। ভবিষ্যতে আরও বিল্ডিং করা হবে। এখানে ১৪টি খেলার মাঠ থাকবে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে। স্কুল, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যারা আছে তাদের জন্য গির্জা, প্যাগোডা গড়ে তোলা হবে। বিদ্যুতের সাব-স্টেশনসহ সুযোগ-সুবিধা বলতে যা বোঝায় তার সবকিছুই করা হবে। ভবিষ্যতে সেখানে আমরা একটা কমিউনিটি ক্লিনিকে করে দেব, তাছাড়া কক্সবাজারেও বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। সেখানকার লোক আগে চিংড়ি আর লবণ চাষ ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারত না। এখন আমরা বহুমুখী কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, সেখানে যেমন পর্যটন কেন্দ্রগুলো হবে একই সঙ্গে আরও অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। যাতে সেখানকার মানুষ কর্ম করে খেতে পারে। খুরুশকুল আলাদা একটা সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে উঠবে। আপনাদের ছেলেমেয়েরাও ভালোভাবে গড়ে উঠবে, মানুষ হবে সেটাই আমরা চাই। আমাদের কাজের গতি খুব ভালো ছিল, কিন্তু এই করোনাভাইরাস এসে আমাদের সব গতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। স্বাস্থ্যসুরক্ষার যে সমস্ত নিয়মকানুন গুলো আছে সেগুলো আপনারা মেনে চলবেন।’

নতুন ফ্লাটের চাবি পাওয়া তিনজন উপকারভোগীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনজন উপকারভোগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পে তিনটি গাছ রোপণ করেন।

উল্লেখ্য, দেশে এটিই প্রথম সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক বাজেটের আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে প্রায় ২৫৩ দশমিক ৩৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পে ১৩৯টি ৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। যার মধ্যে শেখ হাসিনা টাওয়ার নামে একটি ১০ তলা বিশিষ্ট সুউচ্চ ভবনও থাকবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ২০১৭ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের বাকি ভবনগুলোর কাজও এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পে বসবাসকারী পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুল, মসজিদ, স্বাস্থ্যসেবার জন্য হাসপাতাল ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকবে। বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হবে। পাশাপাশি প্রকল্প এলাকায় আশ্রয় পাওয়া মৎস্যজীবীদের কর্মসংস্থানের জন্য নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::