তারিখ: রবিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share:

চকরিয়া অফিস::

মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলার পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভেতরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আর্দশে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরীতে চক্রান্তে মেতে উঠেছে অনুপ্রবেশকারী যুবদল নেতা মোহাম্মদ শামীম। স্থানীয় ৬নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সম্মেলনের ফলাফল ঘোষনা নিয়ে রীতিমত খবরদারি করছেন যুবদলের অনুপ্রবেশকারী নেতা শামীম। তাকে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কর্মকা-ে অনৈতিক খবরদারিতে সহযোগিতা দিচ্ছেন মাতামুহুরী উপজেলা ও পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কতিপয় কয়েকজন নেতা। এ ঘটনায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত শামীম ইউনিয়নের আনিচপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। ২০১১ সালের ১২ নভেম্বর পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নতুন কমিটি অনুমোদন দেন ইউনিয়ন কমিটি। ২৫ সদস্য বিশিষ্ট উল্লেখিত যুবদলের কমিটির ১১ নম্বর ক্রমিকে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন মোহাম্মদ শামীম। অভিযোগ উঠেছে, সাতবছর আগেও বিএনপির সহযোগি সংগঠন যুবদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন শামীম। ২০১৮ সালের শেষদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুর্হুতে মুখোশ পাল্টিয়ে রাতারাতি আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা বনে যান এই শামীম। এরপর কিছুদিন নিরব থাকলেও সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলার পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ভোট গ্রহন চলাকালে পেশিশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসেন যুবদল নেতা শামীম।
আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন, কাউন্সিল অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে কাইছার লিটন বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে যাচ্ছে দেখে অপর একপ্রার্থীর পক্ষ নিয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা শামীম কাউন্সিলর অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে পেশিশক্তি দেখিয়ে লাটিসোটা, হকিস্টিক নিয়ে হামলার চেষ্ঠা করেন। ওইসময় সভাস্থলে হট্টগোল তৈরী হলে উপস্থিত মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের পরামর্শে পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ ফলাফল ঘোষনা স্থগিত রেখে সম্মেলনস্থল থেকে ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ভোটের ফলাফল ঘোষনা করার আশ^াস দেন।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ সেলিম, আবদুর রহিম ও সালাহউদ্দিনসহ অনেকে দাবি করেন, ২২ সেপ্টেম্বর পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ভোট গ্রহন শান্তিপুর্ণ ভাবে শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহন শেষে ফলাফল ঘোষনা করার মুর্হুতে সভাপতি পদে কাইছার লিটন বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে যাচ্ছে দেখে দলের ভেতরে অনুপ্রবেশকারী কিছু লোক পেশিশক্তি দেখিয়ে সভাস্থলে হট্টগোল তৈরী করেন। ওইসময় উপস্থিত মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের পরামর্শে পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ ফলাফল ঘোষনা স্থগিত রাখেন।
সভাপতি প্রার্থী কাইছার লিটন বলেন, শান্তিপুর্ণ পরিবেশে সম্মেলন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে ভোটগ্রহন শুরু হয়। উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ভোট গ্রহন শেষে ফলাফল ঘোষনাকালে সভাপতি পদে আমি বিজয়ী হচ্ছি দেখে অনুপ্রবেশকারী কিছু লোক সম্মেলনস্থলে হট্টগোল তৈরী করেন। অবশ্য উপস্থিত উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ পরবর্তী পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যে ওইদিন ভোটের ফলাফল ঘোষনা না করে পরে ঘোষনা দেবেন জানিয়ে সম্মেলন সমাপ্ত করেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সময়ে সম্মেলনের ভোটের ফলাফল ঘোষনা করার জন্য মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বৈঠক করেন। বিষয়টি জানতে পেরে দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী সেইসব বির্তকিতরা একহয়ে আমার বিজয় ছিনিয়ে নিতে এখন উল্টো আমাকে জড়িয়ে গণমাধ্যম ও অনলাইন পোস্টালে নানাধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সম্মানিত কাউন্সিলরদের দেয়া পবিত্র আমানত ভোটের ফলাফল ঘোষনার জন্য মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের মোট কাউন্সিলর ছিলেন ১৮৩জন। সভাপতি ও সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন মোট পাঁচজন। তারমধ্যে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি নাছির উদ্দিন, কাইছার লিটন, রবি সুশীল ও সাধারণ সম্পাদক পদে জয়নাল আবেদিন এবং মোহাম্মদ সোহেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

Share:
error: কপি করা নিষেধ !!