তারিখ: রবিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share:

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া::

পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশহিসেবে একটি মানবিক গল্পের সুত্রধরে বুধবার রাত থেকে জাতীয় আ লিক স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম, অনলাইন পোস্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ওসি মো.হাবিবুর রহমান। একটি ভুয়া অস্ত্র মামলায় আটকের পর তাঁর বিচক্ষনতায় নিশ্চিত কারাভোগ থেকে রক্ষা পেয়েছেন চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বাসিন্দা দরিদ্র কৃষক ইব্রাহিম। বিষয়টির আলোকে ওসি হাবিবুর রহমানের মানবিকতার উদাহারণ তুলে গণমাধ্যম ও অনলাইন পোস্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে মুর্হুতে সংবাদের অনলাইন ভার্সন গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে অনেকে ওসি হাবিবুর রহমানের ভুয়সী প্রশংসার করেছেন। এই ধরণের একটি মহতি উদ্যোগের জন্য অনেকে তাকে সাধুবাদ দিয়েছেন। এখনো সংবাদটি একজন থেকে অন্যজনকে শেয়ার করছেন।
ঘটনার পটভুমি: কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ওসি মো.হাবিবুর রহমানের বিচক্ষনতায় রাজধানী ঢাকার মিরপুর থানার একটি ভুয়া অস্ত্র আইনের মামলায় আটক চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দরিদ্র কৃষক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের নিস্তার মিলেছে। কৃষক ইব্রাহীম উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কাকারা এলাকার সোলতান আহমদের ছেলে।
অস্ত্র মামলায় ভুয়া গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পর চকরিয়া থানা পুলিশ বুধবার অভিযান চালিয়ে যথারীতি ইব্রাহিমকে গ্রেফতারও করেছেন। তবে আদালতের পরোয়ানা এবং মিরপুর থানায় অস্ত্র মামলার বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তদন্তে নামেন ওসি হাবিব। একপর্যায়ে তিনি মিরপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে জানতে পারেন মামলাটি ভুয়া। পরবর্তীতে কৃষক ইব্রাহিমকে আইনী জটিলতা থেকে রক্ষা করলেন চকরিয়া থানার চৌকস ওসি মো.হাবিবুর রহমান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষক ইব্রাহীম জন্মের পর থেকে কোনদিন ঢাকা যায়নি। তারপরও তিনি রাজধানীর মিরপুর থানার অস্ত্র মামলার আসামী। খেটে-খাওয়া নিরীহ কৃষক গ্রেপ্তারী পরোয়ানামূলে বুধবার সকালে পূর্বানী পরিবহনে বান্দরবান যাওয়ার পথে আকস্মিক ভাবে চকরিয়া থানা পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হলে ঘটনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
কৃষক ইব্রাহিম গ্রেপ্তার হয়ে থানায় নেয়া হলে তার বাবা সোলতান আহমদ বিষয়টি নিয়ে চকরিয়া থানার ওসি কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হন। কৃষক ইব্রাহিমকে চকরিয়া থানায় আনার পর তাঁর বিষয়ে জানতে সেখানে উপস্থিত হন উপজেলার কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান ও স্থানীয় বাসিন্দা চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক এমআর মাহমুদ। ওইসময় তাঁরা কৃষক ইব্রাহিমের আটকের বিষয়ে সঠিক তথ্য জানাতে চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমানের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরবর্তীতে চকরিয়া ওসি হাবিবুর রহমান কৃষক ইব্রাহীমের গ্রেপ্তারী পরোয়ানা দেখে সন্দেহ পোষন করলে সাথে সাথে তিনি মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাছে বিষয়টি প্রসঙ্গে জানতে ফোন দেন। জানতে চান মিরপুর থানার ৮৯ (৪) ১৯-এ অস্ত্র আইনে দায়েরকৃত কোন মামলা রয়েছে কিনা।
উত্তরে মিরপুর থানার ওসি ৫ মিনিট সময় নিয়ে পরবর্তীতে জানান, মিরপুর থানায় এ ধরণের কোন মামলা হয়নি উল্লেখিত তারিখে। তখন ঘটনার বিষয়টি পরিস্কার হলো আদালতের পরোয়ানা ও মামলাটি সম্পূর্ণ ভুয়া। কোন একটি চক্র অসৎ উদ্দেশ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে পুলিশ সুপার কক্সবাজার কার্যালয়ের মাধ্যমে ডাকযোগে চকরিয়া থানায় গ্রেফতারী পরোয়ানাটি প্রেরণ করেন।
জানতে চাইলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, কৃষক ইব্রাহিমকে আটকের পর থানায় আনা হলে পরোয়ানার বিষয়টির রহস্য উৎঘাটনে মিরপুর থানায় যোগাযোগ করি। পরবর্তীতে মামলা এবং আদালতের পরোয়ানার বিষয়টি ভুয়া প্রমাণিত হয়।
ওসি বলেন, এরপর চকরিয়া থানায় বিষয়টির আলোকে একটি জিডি রুজু করে আটক কৃষক মো.ইব্রাহীমকে ছেঁেড় দেয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এমআর মাহমুদ বলেন, অস্ত্র মামলার ভুয়া গ্রেপ্তারী পরোয়ানায় আটক কৃষক ইব্রাহিমকে ছেড়ে দিয়ে আইনী জটিলতা থেকে রক্ষা করে চকরিয়া থানার ওসি বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাধারণ মানুষের মনে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আলীকদম উপজেলার আমতলী চর ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি প্রতারচক চক্র এ কাজটি করেছে। ##

Share:
error: কপি করা নিষেধ !!