তারিখ: শনিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া::

পেকুয়ায় সহোদর ও ভাইপুত্রদের ডিগবাজিতে নারীর সোয়া কোটি টাকা আটকে গেল সরকারের অধিগ্রহণ শাখায়। গ্যাস সঞ্চালন লাইন স্থাপন কাজ বাস্তবায়ন করতে সরকার জমি অধিগ্রহন করেছে। এরই মধ্যে ভূমির মালিকদের অনুকুলে গেছে ক্ষতিপূরণসহ এর অর্থ।

পেকুয়ায় ২০১৭ সাল থেকে গ্যাস সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুন:র্বাসন সহায়তার কাজও চুড়ান্ত করেছে।

জেলা প্রশাসক কক্সবাজারের ভূমি অধিগ্রহন শাখা থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুন:র্বাসন সহায়তা কাজও প্রায় শেষের দিকে পেকুয়ায়। এ দিকে পৈত্রিক সম্পত্তির বিভাজন ও বিরোধ নিয়ে পেকুয়ায় আপন ভাই ও বোনদের মধ্যে বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, পেকুয়া মৌজার বিএস ৩৮ নং খতিয়ান থেকে বিপুল জমি অধিগ্রহনের মধ্যে পড়েছে। অধিগ্রহন শাখা ওই খতিয়ানের অনুকুলে নোটিশ প্রেরন করে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কক্সবাজারের ভূমি অধিগ্রহন শাখার অধিগ্রহন কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত ওই নোটিশ ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারী জারি করে। যার এলএ মামলা নং ০৬/২০১৭-১৮। ২০১৭ সালের ২১ নং আইনের ধারা ৩(ক) নং উপধারায় ওই নোটিশ প্রযোজ্য।

জানা গেছে, ৩৮ নং বিএস খতিয়ানের মালিক পেকুয়া সদর ইউনিয়নের আছাব মিয়া। তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২ ছেলে ৪ কনেসহ ছয়জন ওয়ারিশ রেখে যান ওই ব্যক্তি। ৩৮ নং খতিয়ানে রেকর্ডীয় মালিক আছাব মিয়ার মোট প্রাপ্ত অংশ ৫.২৩ একর। প্রতি পুত্র ১.৩৩ একর জমি প্রাপ্ত হন। প্রতি কন্যার প্রাপ্ত অংশ ০.৬৫৩৭ একর জমি, বিএস ৪৫৪৯ দাগের ২.২৭ একর জমির মধ্যে অংশ প্রতি পুত্র ৫৬.৭৫ শতক জমি প্রাপ্ত হন। প্রতি কন্যা ২৮.৩৭৫ শতক জমি পাবে।

সুত্র জানায়, সরকার এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহন করেছে। ৩৮ নং খতিয়ানের বিএস ৪৫৪৯ ও ৪৫৬৯ এ দুটি দাগের আন্দরে জমি অধিগ্রহণ হয়েছে।

সুত্র জানায়, অধিগ্রহনকৃত জমি নিয়ে আছাব মিয়ার দু’পুত্র ও মেয়ে নুরজাহান বেগমের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। আছাব মিয়ার ছেলে ও এর ছেলের ওয়ারিশগন এ জায়গা থেকে খতিয়ানের মাদার মালিক আছাব মিয়ার মেয়ে নুরজাহানকে উচ্ছেদ করার কু-মানসে লিপ্ত রয়েছে।

বিশেষ করে অধিগ্রহনকৃত ওই অংশ থেকে নুরজাহানকে বাদ দেওয়ার কৌশল খোঁজছে তারা। মৌজার মূল্যের কয়েকগুন টাকা অধিগ্রহনে সরকার দিচ্ছে। এতে করে আছাব মিয়ার দু’ছেলে ও তার ওয়ারিশরা কনে পক্ষকে দিতে মোটেই রাজি নয়।

এতে করে উভয়পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ ও উত্তেজনা প্রকট আকার ধারন করেছে। রেকর্ডীয় কাগজপত্র ও জমির দলিল দস্তাবেজ উপস্থাপনে দেখা গেছে, আছাব মিয়ার ছয় ওয়ারিশ স্পষ্ট হয়েছে। শহিদুল ইসলাম ও আবু তাহের নামে তার দু’সন্তান।

আছিয়া খাতুন, নুরজাহান বেগম, সামারুক বেগম ও মালেকা বেগমসহ তিনি ৪ কনে রেখে যান ২য় মেয়ে নুরজাহানের অধিগ্রহনে ক্ষতিপূরণ অর্থ আত্মসাৎ করার ডিগবাজি করছে আছাব মিয়ার ছেলে শহিদুল ইসলাম ও আবু তাহেরের ওয়ারিশগন।

এ নিয়ে একাধিকবার উত্তেজনা হয়েছে। জমি দখল ও বেদখলকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। উত্তেজনা প্রশমিত করতে পেকুয়া থানা পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সুত্র জানায়, বিএস ৩৮ নং খতিয়ানের বিভাজনকে ঘিরে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সদরে ভোলাইয়াঘোনায় জমিতে ফসল উৎপাদন থেমে গেছে। শহিদুল ইসলাম গং অধিগ্রহনের সব টাকা তুলতে দৌড়ঝাপ করছে। তবে ভাইয়ের ডিগবাজি থামাতে আপন বোন আদালতে এমআর মামলা রুজু করে।

জবরদখল ঠেকাতে ওই মহিলা কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমআর মামলা রুজু করে। যার নং ৮৫১/১৯। চলতি বছরের ১৯ আগষ্ট সেটি রুজু করে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ওসি পেকুয়াকে নির্দেশনা দেয় আদালত।

সুত্র জানায়, বিএস ওই খতিয়ানের ৪৫৪৯ দাগে আছাব মিয়ার কনে নুরজাহানের মালিকানাধীন ২৩ শতক জমি অধিগ্রহন হয়েছে। অধিগ্রহন শাখা দাগ ও খতিয়ানের অনুকুলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

দেখা গেছে, ওই জমির অধিগ্রহনের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৬৪ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশী। অধিগ্রহনের এ অর্থ অসহায় ওই নারীকে বঞ্চিত করার কৌশল করছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নুরজাহানের ওয়ারিশগন জানায়, নানার সমুদয় সম্পত্তির ওয়ারিশ তার ছেলে মেয়েরা। কিন্তু শহিদুল ইসলামসহ অন্য ওয়ারিশরা আমাদের মাকে বঞ্চিত করার কু-পরিকল্পনায় রয়েছে। পেকুয়া সদর ইউনিয়ন গ্রাম আদালত এ সংক্রান্ত একটি কাগজ ছাড়করন করেছে।

ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত ওই কাগজে দেখা গেছে, ওই দাগে নুরজাহান ২৩ শতক জমি অধিগ্রহন শাখায় যুক্ত হয়েছে। সেটি তারা লিখিত প্রতিবেদনে প্রত্যায়নসহ এর স্বপক্ষে লিখিত দিয়েছে। নুরজাহানের ওয়ারিশগন এ জমির ভূমিকর পরিশোধ করেছে। তারা হালনাগাদ রশিদ সংগ্রহ করেছেন।

নুরজাহান জানায়, আমি নিতান্ত অসহায়। এ টাকা আমার জন্য মঞ্জুর হয়েছে। জমি আমার ক্ষতিপূরনের অর্থ আমার পাওয়ার অধিকার। তারা তথ্যগোপন করে সরকারী ওই টাকা থেকে আমাকে বঞ্চিত করার পায়তারা করছে। আমি জেলা প্রশাসকের অধিগ্রহন শাখায় এর বিরুদ্ধে আপত্তি দিয়েছি।

যাতে করে অর্থের সঠিক বন্টন ও আসল মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। ওই দাগে আমার সন্তানরা আমার জমি ছাড়াও আরও আমার দু’বোনের জমিও কবলা নিয়েছে। কিন্তু তারা এ সব জেনেও না জানার ভান করছে। আমি আমার সম্পত্তির অধিগ্রহনের টাকার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।

সুত্র জানায়, অধিগ্রহন অংশের কিছু জায়গা আবু তাহেরের ছেলে বন্ধক দেয়। তার ফুফী নুরজাহান বন্ধকী অংশের মালিক। এ বিষয়ে সালিশ বৈঠক হয়েছে।

ফুফী ভাতিজার বিরোধ নিস্পত্তি করতে সালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকে ৩৮ নং বিএস খতিয়ানের বিএস দাগ, জমির চৌহর্দ্দি ও মালিকানার স্থিতি নির্দিষ্টকরন হয়েছে। ফুফীর জমি ভাতিজা বন্ধক দিয়েছে। ওই জমি রোয়েদাদের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে ফুফীকে।

এ সংক্রান্ত উভয়পক্ষকে নিয়ে সালিশি রোয়েদাদ প্রচারিত হয়। সেখানেও অধিগ্রহনকৃত অংশ নুরজাহানের মালিাকানাধীন প্রমাণিত হয়েছে।

পেকুয়া থানায় বৈঠক ও সালিশি বৈঠকও নুরজাহানের স্বত্তের স্বপক্ষে যৌক্তিক মতামত ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে নাছাড় বান্দা ভাইয়ের ডিগবাজিতে অসহায় বোনটির বিপুল টাকা এখনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::

error: কপি করা নিষেধ !!