তারিখ: সোমবার, ১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share:

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে ৫২২ জন যাত্রী নিয়ে পযর্টকবাহী জাহাজ দ্বীপে পৌঁছেছে। প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর দু’টি জাহাজে করে ৫২২ পযর্টক সেন্টমার্টিন গেছেন।

২৬ অক্টোবর শুক্রবার সকাল থেকে আবারও জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন ও বে-ক্রুজ সেন্টমার্টিন পৌঁছলে ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান পযর্টকদের ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সাগর উত্তাল থাকায় গত ৮ মে থেকে এ নৌপথে পর্যটক পারাপারে নিয়োজিত জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন।

বিআইডব্লিউটিএ টেকনাফের সমন্বয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, জাহাজ ছাড়ার আগে ইউএনও, কোস্টগার্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ জাহাজ দু’টি পরিদর্শন করেছেন। এসময় পযর্টকদের নিরাপত্তা জনিত সরঞ্জাম রয়েছে কিনা খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করা হয়।

সকালে টেকনাফের দমদমিয়া ঘাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় সাড়ে পাঁচশতাধিক পর্যটক ঘাটে ভিড় করেন। পরে তারা কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনে ২৮৪ ও বে-ক্রুজে ২৩৮পযর্টক নিয়ে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে টেকনাফ ছেড়ে যান। রাত্রি যাপন করতে দেড়শতাধিকের বেশি পযর্টক দ্বীপে রয়েছেন। বাকি পযর্টকেরা সন্ধ্যার আগে টেকনাফের দমদমিয়া জাহাজ ঘাটে ফিরে আসেন।

ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, জাহাজ চলাচলে দ্বীপের সব শ্রেণি পেশার মানুষের মুখে হাসি ফুঁটে উঠেছে। গত সাড়ে ছয় মাস এখানকার মানুষ হতাশায় ভুগছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়া, যে কোন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা, আবহাওয়ার সতর্কতা-সংকেত মেনে চলা, জাহাজে আনসার বাহিনী নিয়োজিত রাখা, লাইফ-জ্যাকেটসহ সব নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ফিটনেস লাইসেন্স সঙ্গে রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনের টেকনাফে ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, এখন সাগর শান্ত থাকায় পযর্টক পারাপারের অনুমতি দেওয়ায় পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে নয়টায় টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে জাহাজ ছেড়ে যাবে।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, বিআইডব্লিউটিএ অনুমতি সাপেক্ষ প্রায় সাড়ে পাঁচশতাধিক পর্যটক নিয়ে কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন ও বে-ক্রুজ নামে দু’টি জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে। শোনা যাচ্ছে আরও একাধিক জাহাজ অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

পযর্টকের ভীড় সেন্টমার্টিনে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। নৌপথে ফের জাহাজ চলাচল শুরু হওয়াই পযর্টন শিল্পের প্রাণচাঞ্চলতা ফিরে পেয়েছে দ্বীপের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, এ দ্বীপের সাড়ে সাত হাজার মানুষ রয়েছে। এখনের অধিকাংশ মানুষ এখন পযর্টকের উপর নিভর্রশীল। পযর্টক এলে তাদের আয়-রোজগার বাড়ে। জাহাজ চলাচল শুরু হওয়াই স্থানীয় লোকজনের মুখে হাসি ফুঁটে উঠেছে।

তিনি বলেন, ইউএনওর নিদের্শে শুক্রবার বিকেল থেকে এখানকার হোটেল, কটেজসহ প্রতিটি আবাসিক ও খাবার হোটেলে মূল্য তালিকা টাঙানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভাটার সময় কোন পর্যটক যাতে পানিতে না নামেন, সে ব্যাপারে হোটেল-কটেজগুলোতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সার্ভিস বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আলম বলেন, আগামী বছরের মার্চ থেকে সেন্টমার্টিনে রাত যাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে এমন খবরে দ্বীপের মানুষ গত কয়েকদিন ধরে শঙ্কিত ছিল। শুক্রবার দুপুরে টেকনাফ থেকে ট্রলারে প্রায় দেড়শতাধিক পযর্টক সেন্ট মার্টিন এসেছেন।

সেন্টমার্টিন বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অসিম উদ্দিন বলেন, হোটেল-কটেজগুলোতে আগাম ভাড়ার জন্য পযর্টকেরা যোগাযোগ করছেন। গত বছর এ নৌপথে আটটি জাহাজ ও অর্ধশতাধিক ট্রলারে করে পযর্টকেরা বেড়াতে আসেন। ধারণা করা হচ্ছে, এবারও জাহাজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

টেকনাফ মডেল থানার নবাগত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ভ্রমনে আসা পযর্টকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশও কাজ করছেন। জাহাজ ও সেন্টমার্টিনে চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::