তারিখ: মঙ্গলবার, ১৯শে মার্চ, ২০১৯ ইং, ৫ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

খালেদ মোশাররফ ৪২ বছরের পোড় খাওয়া এক লড়াকু ফুটবলার। খেলেন গোল রক্ষক পজিশনে। বয়সের হিসেবকে পেছনে ফেলে নিজ যোগ্যতায় এখনো জেলা ফুটবল দলের সেরা একাদশে থেকে অপূর্ব দক্ষতায় গোলবার আগলান। ফেনীর শহীদ সালাম স্টেড়িয়ামে সদ্য সমাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে কক্সবাজার জেলা দলের হয়ে প্রথম একাদশে থেকে মাঠে অসামান্য নৈপূন্য প্রদর্শন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ফেভারিট নোয়াখালী ও বান্দরবান জেলা দলের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক খালেদ বেশক’টি প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোল অবিশ^াস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দু’টি ম্যাচেই ফলাফল গোল শূণ্য ড্র রাখতে বাধ্য করেছেন।
১৯৭৮ সালে কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীর চান্দু পাড়ায় গোলরক্ষক খালেদের জন্ম। স্কুল ফুটবলে সুনাম কুড়িয়ে বিগত ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম আবাহনী জুনিয়রে নাম লেখান। ১৯৯৬ সালে ডিএসএ জেলা ফুটবল লীগে খেলেন মোহামেডান ক্লাবের হয়ে। ২০০২ সালে ঐতিহ্যবাহি ডুলাহাজারা ক্রীড়া সংসদের হয়ে জেলা ফুটবল লীগে গোলবার আগলান। এসময় ইনজুরিতে পড়েন খালেদ। রুজি রোজগারে প্রবাস জীবন হিসেবে বেছে নেন সৌদি আরবকে। একটানা ৬ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রিয় দেশে চলে আসেন ২০০৮ সালে। দেশে এসে সৌদির আয়ের টাকায় বসতি গড়েন ঝিলংজার কলেজ গেইট এলাকায়। এতে নিয়মিত ফুটবল প্র্যাকটিসে খালেদের সামনে চলে আসে অবারিত সুযোগ। প্রত্যহ বিকেলে খালেদ ঠিকানা গড়েন কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেড়িয়ামে।
আস্তে আস্তে নিজকে তৈরী করতে থাকেন। ২০১১ সালে সারা দেশে সাড়া জাগানো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশীপের চ্যাম্পিয়ন দল কক্্র সিটি এফসি’র সফল ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ছিলেন চ্যাম্পিয়ন সদর উপজেলা ফুটবল দলের টিম ম্যানেজার। এরপর নিজ যোগ্যতায় ২০১২ সালে আবারো জেলা পর্যায়ে পেশাদার ফুটবলে মাঠে নেমে অদ্যাবধি প্রতিটি ডিএসএ, ডিএফএ লীগে সমান তালে খেলে যাচ্ছেন। ২০১৫ সালে ডিএফএ লীগের চ্যাম্পিয়ন অল স্টার ফুটবল ক্লাবের নিযমিত গোলরক্ষক ছিলেন। ফুটবলের বাইরে খালেদের পরিচয় শুটকির আড়ৎদার। মূলতঃ সংসার চালায় ব্যবসার আয় থেকে। ফুটবল তাঁর নেশা। তাঁর স্ত্রী শারমিন ইয়াসমিন সুরমাও একজন ভালো ফুটবল ফ্যান। এক কন্যা, দু’পুত্র সন্তানের জনক খালেদ বাকি সময় বেঁচে থাকতে চান প্রিয় ফুটবলকে নিয়ে। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক খালেদ জানান-ভাল পারফর্ম করে বি-লীগে চান্স নিয়ে অবসরে যেতে চাই। আশা করছি-সকলের দোয়ায় আরও ৩-৪ বছর চালিয়ে যেতে পারব।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা ফুটবল দলের কোচ খালেদ আজম বিপ্লব জানান- এ বয়সে গোলরক্ষক খালেদ মাঠে যে নৈপূন্য শো করছে তা সত্যিই অবিশ^াস্য। তাঁর দৃঢ়তায় কক্সবাজার জেলা দল বিভাগীয় কমিশনার গোল্ডকাপে জেলার সম্মান রক্ষা পেয়েছে। জেলা দলের অধিনায়ক জাহেদ জানান-খালেদ ভাই আমার টিমের সহ-অধিনায়ক ছিলেন। তিনি অভিজ্ঞতার ঢালি সাজিয়ে মাঠে সত্যিই অপূর্ব নৈপূন্য প্রদর্শন করেছেন। বয়স খালেদ ভাইকে এখনো টাচ করতে পারেনি।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::