শিরোনাম :
উখিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশনের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত চকরিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে ৪০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ২ একর জমি উদ্ধার ইয়াবা উদ্ধার: কক্সবাজারের ২জনসহ ৪ কারবারির ১০ বছরের কারাদণ্ড জাহাঙ্গীর মেচসহ দুই রেস্টুরেন্টকে গুনতে হলো জরিমানা কোটি টাকার ইয়াবা নিয়ে চকরিয়ার ১ নারীসহ বাঁশখালীতে ৫ জন গ্রেপ্তার টেকনাফে ৬০ হাজার ইয়াবা সহ রোহিঙ্গা আটক আকাশ সম স্বপ্ন নিয়ে কক্সবাজার শিশু হাসপাতালের উদ্যোগ নিয়েছি : জেলা প্রশাসক করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কঠোর জেলা প্রশাসন রাজধানীর পাইকারি বাজারে কমেনি সবজির দাম উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আর নেই
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

৩২ হাজার কোটি টাকায় হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেন লাইন

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ১২, ২০১৮ ১০:১৫ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ১২, ২০১৮ ১০:১৫ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট ::
রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন, ‘বিএনপির আমলে রেলওয়ে অবহেলিত ছিল। তারা রেলওয়ের কোন সংস্কার করেনি। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে খালেদা জিয়া এক দিনে রেলওয়ের ১৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকুরিচ্যুত করেছেন। রেলওয়ে ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ইঞ্জিন বিকল, বগি লাগানো হত না, জীর্ণশীর্ণ অবকাঠামো, সিগনাল বাতিরও ছিলো বেহাল অবস’া। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলওয়ের দিকে নজর দেন। ২০১১ সালে গঠন করেন রেলওয়ে মন্ত্রণালয়। এক সময় রেলওয়ের জন্য বাজেট ছিল মাত্র ৫০০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে প্রধানমন্ত্রী ১৬ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।’
চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ২৬তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৮ এ অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মুজিবুল হক আরো বলেন, ‘বিএনপির আমলে ১৪০টি রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ ছিল। আমরা ৬০ স্টেশন চালু করেছি। আরো ৮০টি স্টেশন চালুর অপেক্ষায় আছি। বর্তমানে ৪৬০টি রেলওয়ে স্টেশন বিদ্যমান। দ্বিতীয় তিতাস সেতু হবে। খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত রেলওয়ে লাইনের কাজ চলছে। ঢাকা থেকে পদ্মা ব্রিজ হয়ে জাজিরা পর্যন্ত রেললাইন যাবে। আখাউড়া থেকে সিলেট এবং ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা পর্যন্ত রেললাইন যাবে।
রেলমন্ত্রী বলেন, ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা থেকে লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বুলেট ট্রেনের জন্য রেললাইন স’াপন করা হবে। এই ট্রেনে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় ঢাকা যাওয়া সম্ভব হবে। এ প্রকল্পের ফিজিবিলি স্টাডি চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পে অর্থের ব্যবস’া করবেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম ডুয়েল গেজ মাত্র ৭২ কিলোমিটার অবশিষ্ট আছে, যা অচিরেই সম্পন্ন হবে। এছাড়া রেলওয়ে কনটেইনার সার্ভিস আরো গতিশীল করার ব্যাপারেও কাজ করবো।’
তিনি আরো জানান, কর্ণফুলী নদীর উপর দিয়ে কালুরঘাট ব্রিজের বিকল্প হিসেবে রোড কাম ও সেতু হবে। এ সেতুর উপর দিয়ে গাড়ি এবং ট্রেন চলবে একসাথে। এ প্রকল্পের ডিপিপি আগামী একনেকে পাশ হবে। এডিবির অর্থায়নে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী হয়ে রামু-কক্সবাজার ও রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সকল সেক্টরে দেশের উন্নয়ন ও অগগ্রতিতে ব্যবসায়ীদের বিরাট অবদান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দেশে শিল্পায়ন ও লাখ লাখ লোকের কর্মসংস’ান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।’
তিনি আগ্রাবাদ ডেবা সৌন্দর্য বর্ধনের দায়িত্ব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম চেম্বারের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়ার আশ্বাস দেন। এছাড়া প্রতিবেদন পেলে ভেলুয়ার দিঘীর উন্নয়নে প্রকল্প নেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।
চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, চেম্বার সহ-সভাপতি ও মেলা কমিটির কো- চেয়ারম্যান সৈয়দ জামাল আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন ‘বেসরকারি খাতে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের সকল পণ্য এ মেলায় প্রদর্শিত হয়। চট্টগ্রাম নগরীর মানুষের মিলনকেন্দ্র হিসেবে এ মেলা ইতোমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতি বছর ২০-৩০ লাখ দর্শনাথী এ মেলা পরিদর্শন করেন।’
মাহবুবুল আলম রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে চট্টগ্রাম চেম্বারের অনুকূলে রেলওয়ের জায়গা থেকে একটি স’ায়ী ভেন্যু বরাদ্দ প্রদান এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের পার্শ্ববর্তী ডেবাকে হাতির ঝিলের মত রূপান্তর করার লক্ষ্যে এ ডেবা চিটাগাং চেম্বারের অনুকূলে বরাদ্দের অনুরোধ জানান। এছাড়া তিনি ভেলুয়ার দিঘী সংস্কার, রেলওয়ে কন্টেইনার সার্ভিস উন্নত করা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য মন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান।
চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের সুবিধার্থে পোলোগ্রাউন্ড মাঠের ভাড়া ৫০ শতাংশ কমানোর জন্য রেলমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পার্টনার কান্ট্রি থাই প্যাভিলিয়ন, স্টেপ ফুটওয়্যার, গাজী গ্রুপ, এপেক্স হুসাইন লিমিটেড, রিংগো রুটি মেকার, আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেড, হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেড, আকিজ সিরামিক্স লিমিটেড, আরএফএল প্লাস্টিক লিমিটেড, লুব-রেফ (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং নাভানা ফার্নিচার লিমিটেডকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, এ মেলা ১৫ এপ্রিল রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ কামাল মোস্তফা চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), এমএ মোতালেব, মাহবুবুল হক চৌধুরী (বাবর), ছৈয়দ ছগীর আহমদ, সরওয়ার হাসান জামিল, মো. রকিবুর রহমান (টুটুল), অঞ্জন শেখর দাশ ও মো. আবদুল মান্নান সোহেল, দক্ষিণ আফ্রিকার অনারারি কনসাল মো. সোলায়মান আলম শেঠ, ফিলিপাইনের অনারারি কনসাল এমএ আউয়াল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম, উইমেন চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবিদা মোস্তফা প্রমুখ উপসি’ত ছিলেন।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::