শিরোনাম ::
উখিয়ার রোহিঙ্গা হিন্দু ক্যাম্পের দুর্গোৎসবে অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে কোস্ট ফাউন্ডেশন। উখিয়ায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত কোটবাজার সিএনজি মালিক-চালক সমিতির কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও উপজেলা সমবায় অফিসারের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন উখিয়ায় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সামাজিক সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত উখিয়ার রাজা পালং মাদ্রসা দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নানা অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠিত মুক্তি কক্সবাজারের উদ্যোগে উখিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডশিপের প্রশিক্ষণে চ্যাম্পিয়ন ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের নারী ফুটবল টিমকে সংবর্ধনা উখিয়ায় মাদক প্রতিরোধ ও অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত একসঙ্গে ৪ সন্তান জন্ম দিলেন মহেশখালীর এক গৃহবধূ!
শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..

২০২২ সালকে ইতিবাচক পরিবর্তনের বছর হিসেবে দেখতে চায় স্কাস

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২

জেসমিন প্রেমা

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারা বিশ্ব যখন বিপর্যস্থ, অর্থনীতি যেখানে স্থবির হয়ে পড়েছিলো, দরিদ্র দেশগুলো যখন অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে লড়ছিলো, ২০২১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তখনই সারা বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রভাব কমে স্বাভাবিক হতে শুরু করে জনজীবন ও অর্থনীতি।

সারা বিশ্বের ন্যায় করোনার প্রভাব বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পড়েছে। জীবন ধারনের জন্য লড়াই করেছে হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবার, দিন মজুর, খেটে খাওয়া মানুষ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে খাদ্য, আর্থিক প্রনোদনাসহ বিভিন্ন সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলো। এগিয়ে এসেছে জীবন ধারণের সহায়তা মুলক উপকরণ ও কর্মকান্ডে।

সরকারের পাশাপাশি সহযোগী সংস্থা হিসেবে তেমনি এগিয়ে এসে মানুষের পাশে দাড়িয়েছে সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস)। করোনাকালীন প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন যাপনে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে স্কাস। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে গরীব, সামর্থ্যহীন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করে সুরক্ষা উপকরণ যেমন-মাস্ক, সাবান, হ্যান্ডওয়াশ,স্যানিটাইজার। এছাড়া দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করে।
করোনার প্রভাবে মানুষ যখন জীবিকা বিহীন হয়ে পড়ে তখন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পারিবারিক কলহ, সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি, উগ্রবাদসহ ফুটে উঠেছে নানান সামাজিক ইস্যু।

সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস) বরাবরই নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সোচ্চার থেকে অধিকার আদায়ের লড়াই করেছে। স্কাস নারীদের সচেতন করার প্রয়াসেও কাজ করেছে এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নানান উদ্যোগ নিয়েছে। যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও জীবিকায়ন দক্ষতা সহায়তা ছিলো অন্যতম। পাশাপাশি স্কাস নারীদের মানসিক বিপর্যয় নিয়েও কাজ করেছে। ২০২১ এ আরেকটি উদ্বেগ জাগানো বিষয় ছিলো নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি। একজন নারী হিসেবে যা আমাকে অত্যন্ত ভাবিয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যের বির্পযয়, পারিবারিক কলহ, নির্যাতনের শিকার নারীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে বেছে নিয়েছে আত্মহত্যার মত ভয়াবহ পথ। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয়সহ নারীদের সাহস যোগানো ও অধিকার আদায়ে ভুমিকা রেখেছে স্কাস।

আমি বিশ্বাস করি নারীদের সাহস যুগিয়ে সমাধান করা যাবে অনেক সমস্যা। একজন নারী যখন তার পরিবার থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারণীসহ ছোট-বড় বিষয়ে তার মত প্রকাশ করতে পারবে তখন সে সমাজের অসামাঞ্জস্যতা নিয়ে কথা বলতে বা ভুমিকা রাখতে পারবে।
স্কাস নারী সচেতনতা, অধিকায় আদায়, সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু নারীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে সীমাবন্ধ না থেকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর স্টেকহোল্ডারদের নিয়েও কাজ করেছে। যাতে তারাও নিজেদের জায়গা থেকে এই বিপর্যয় মোতাবেলায় ভুমিকা রাখতে পারে, ভুমিকা রাখতে পারে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে ও নারীর অধিকার আদায়ে। স্কাস বরাবরই এই চিন্তাধারণা নিয়েই নারীদের অধিকার আদায়ে কাজ করেছে।

এই প্রচেষ্টা শুধু বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের জন্যও উপরোক্ত কাজ গুলো গুরুত্ব সহকারে করেছে। এই ক্ষেত্রে স্কাসের অর্জন ছিলো সাড়াজাগানো। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও অধিকার আদায়সহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আরো অনেক কাজ করার সুয়োগ রয়েছে বলে আমরা মনে করি। যার ফলশ্রুতিতে স্কাস ২০২২ সালেও এই কাজের ধারা অব্যাহত রাখবে।

আমরা দেখেছি এই সময়ে দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ ছিলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলেও সামর্থ্যহীন মানুষগুলোর পরিবার বঞ্চিত ছিলো এই সুবিধা প্রাপ্তি থেকে। এই সময়ে শিক্ষা বঞ্চিত ছিলো পথশিশুরা, যারা একবেলা স্কুলে গিয়ে শিক্ষা পায়, আর অন্য বেলায় জীবিকা ধারণের জন্য সংগ্রাম করে। এই করোনা মহামারীতে সবচেয়ে আশংকাজনক বিষয় ছিলো শিক্ষার্থীদের থেকে ঝরে পড়ার সংখ্যা। এই ক্ষেত্রেও নারীদের ঝড়ে পড়ার হারটাই বেশি। অনেক অল্প বয়সী তরুণী শিকার হয়েছে বাল্য বিবাহের।

আশার বিষয় হচ্ছে ২০২১ সালের বছরে খুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহ। স্কুল খোলার পরবর্তী সময়ে শিশু সুরক্ষার বিষয়টি ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা-স্কাস স্থানীয় জনগোষ্টীদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর সাথে শিশু সুরক্ষার বিষয়ে কাজ অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তু জনগোষ্টী রোহিঙ্গাদের জীবনযাপনে কক্সবাজারের উখিয়ায় ক্যাম্পগুলোতে হিমশিম খাচ্ছিলো তখনই সরকার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য কাজ শুরু করে। সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে ভাসানচরে নিজস্ব অর্থায়নে কাজ শুরু করে সমাজ কল্যান ও উন্নয়ন সংস্থা-স্কাস। জীবন ধারণের মৌলিক উপাদান শিক্ষা ও জীবিকাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করে শিক্ষা প্রকল্প ও জীবিকা প্রকল্প নিয়ে। ইতিমধ্যে ভাসানচরে যেটি খুবই দৃশ্যমান।
স্কাস ভাসানচরে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার জন্য রোহিঙ্গাদের জন্য স্বীকৃত শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং রোহিঙ্গাদের জীবিকা অর্জনে সক্রিয় করতে হাতে নিয়েছে বিভিন্ন ধরণের জীবিকা অর্জনের প্রকল্প। তাছাড়াও ভাসানচরে নারী সহিংসতা প্রতিরোধ ও শিশু সুরক্ষা নিয়েও কাজ করছি আমরা। ২০২২ সালে রোহিঙ্গাদের ভাসানচর মুখী করে তোলাসহ তাদের জীবনমান উন্নয়নে রয়েছে বৃহৎ পরিকল্পনা।

করোনা মহামারীর এই সময়ে আমরা দেখেছি মানুষ অত্যাধিক অনলাইন প্লাটফরম মুখী হয়েছে। গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে অনলাইন প্লাটফরম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের। আমরা এই বছর দেখেছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার মতন ঘটনা। যা আমাদের দেশের সাম্প্রদায়িকতা বিনষ্ট হয়েছে। পূর্বেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে উগ্রবাদ ছড়িয়ে সহিংসতা রুপ নিয়েছে। যার কারণে হাজার বছরের বাঙ্গালীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হয়েছে বিনষ্ট। সমাজ কল্যান ও উন্নয়ন সংস্থা-স্কাস সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার রোধে পার্বত্য চট্রগ্রাম ও কক্সবাজারের ধর্মীয় নেতা, তরুণদের উদ্ধুদ্ধকরণে কাজ করেছে। তবে উগ্রবাদ প্রতিরোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে অত্যাধিক কাজ করার সুযোগ রয়েছে ।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্প ও রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়ার স্থানীয় জনগোষ্ঠী যখন এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্থ। ঠিক ওই সময়ে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় উখিয়া ও এই এলাকার মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্কাস পরিবার বন্যায় নিহত পরিবারের মাঝে নিজস্ব তহবিল থেকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার সামগ্রী নিয়ে ছুটে যায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

আর আমাদের এই ২০২১ এর পথচলা ও কাজের সঙ্গী হিসেবে ছিল বাংলাদশ সরকার, জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ও দেশী বিদেশী দাতা সংস্থাসহ স্কাস পরিবারের একঝাক তরুণ-তরুণী।

সর্বোপরি, সমাজ কল্যান ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস) ২০২২ সালকে ইতিবাচক পরিবর্তনের বছর হিসেবে দেখতে চায়। দেশজুড়ে ছুটে বেড়াতে চায় নারীর অধিকার আদায়, ছুটে বেড়াতে চায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে। যেটিতে নারীরা মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে, সুবিধা বঞ্চিত শিশুর সংখ্যা হ্রাস পাবে, নারীর প্রতি সহিংসতা মুক্ত, মাদক মুক্ত তরুণ সমাজ ও সুন্দর সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

আসুন সেই অঙ্গিকারে ২০২২ সাল কাটুক আমাদের সবার।

সবাইকে শুভেচ্ছা ।

লেখকঃ চেয়ারম্যান, সমাজ কল‍্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস)।


আরো খবর: