তারিখ: মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০১৯ ইং, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share:

সংসদ সদস্য হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া একটি বিরল ঘটনাই বটে। মাশরাফিই ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার যিনি সংসদ সদস্য হয়ে বিশ্বকাপের অধিনায়কত্ব করছেন। ইমরান খান ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জেতান পাকিস্তানকে। অবশ্য তিনি অনেক পড়ে রাজনীতিতে আসেন। এখন তিনি সে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী। মাশরাফি ও বিশ্বকাপ! দুটিই বাংলাদেশের মানুষের কাছে আবেগের। ১৯৯৭ সালে যেভাবে আইসিসি ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ, সেটা রেডিওতে শুনেছিল বাংলাদেশ। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণের পর এবারই প্রথম স্বপ্ন- শিরোপা জয়ের! মাশরাফিকে নির্ভর করেই এই স্বপ্ন দেখছে এখন বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ। মাশরাফি বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন। বিশ্বকাপ বলে যে চাপ সেটা তিনি নিচ্ছেন না। বাংলাদেশ অনেকগুলো ত্রিদেশীয় ফাইনাল খেলেছিল। অবশেষে এসেছে সফলতা। আয়ারল্যান্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বাংলাদেশ। মাশরাফি বলেছেন, বিশ্বকাপ এত সহজ নয়। আপনার ভালো দিনে অন্য দলও ভালো করতে পারে। আমাদের কাজ খেলে যাওয়া। পরিস্থিতি ও ভাগ্য অনুকূলে থাকতে হবে। বিশেষ দিনে আমরাও বড় দলকে ধরাশায়ী করতে পারি। অনেক বড় বিশ্বকাপ। সে পর্যন্ত টিকে থাকা কঠিন। ২০১৫ সালে মাশরাফির ম্যাজিকে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশ্বকাপে এটাই সেরা পারফরম্যান্স। দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ ১০ দলের বিশ্বকাপে রয়েছে। ভারত ২ বারের চ্যাম্পিয়ন। এ ছাড়া পাকিস্তান ও শ্রীলংকা ১ বার করে পেয়েছে। কপিল দেব ১৯৮৩ সালে প্রথম শিরোপা জেতেন ভারতের হয়ে। ১৯৯২ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সফল হন। ১৯৯৬ সালে অর্জুনা রানাতুঙ্গার সোনালি দলটি শিরোপা জয় করে। নবীন বলা যাবে না বাংলাদেশকে অথবা মাশরাফিকে। বেলা অনেক বেড়েছে। এখন যে একটা বিশ্বকাপ চাই! চাই। বিশ্বকাপ জেতা জাতির মানসিক শক্তি ও চিত্রপটে অনেক পরিবর্তন আসে। দেশের ক্রিকেট কাঠামোই বদলে যাবে এই দলটি চ্যাম্পিয়ন হলে। মাশরাফি এই লড়াইয়ে একা নন। পাশে আছেন মুশফিক, তামিম, সৌম্য, রুবেল, লিটন, মাহমুদউল্লাহ ও সাকিবরা। এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে তরুণ দল আফগানিস্তান। যাদের বয়সের গড় ২৭.৭। তার পরেই রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশিদের বিশ্বকাপ খেলা খেলোয়াড়দের বয়সের গড় ২৭.৭৯ বছর। সবচেয়ে বয়স্ক দল নিয়ে আসছে শ্রীলংকা (৩০.৪৩)। মাশরাফি দীর্ঘদিন দলটির হাল ধরে আছেন। এবার একেবারে জ্বলে ওঠার পালা। মাশরাফি এখনো যখন বল করেন, বা ফিল্ডিংয়ে দৌড় দেন সবার বুকে কাঁপুনি কাজ করে। এই পড়ে যাবে না তো ছেলেটা। পায়ে এত ক্ষত নিয়ে নিরন্তর বোলিং করে যাচ্ছেন। এত বার অস্ত্রোপচার হওয়ার পরও মনের জোরে ক্রিকেট খেলেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তার নেতৃত্বে সফল হয়েছে বেশি। আরও তার জ্বলে ওঠার ও বাংলাদেশের জেগে ওঠার সময় এসেছে।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::