তারিখ: বুধবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

৩১ জানুয়ারি ২০১৭, রোজ মঙ্গলবার। সেদিন সকালে উখিয়া উত্তর স্টেশনের একটি বাড়িতে আগুন লাগে। প্রায় ঘন্টা খানিকের মধ্যে সবটা পুড়ে যেতে লাগল। আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য মানুষ আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। চারদিকে হৈ চৈ পড়ে গেল। যাদের ঘর পুড়ে গেছে তাঁদের আহাজারিতে সকলের বুক কেঁপে উঠে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, উখিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী জুলী’দের ঘর ও পুড়ে যায়।
তার বই-খাতা, কাপড়, পরীক্ষার কাগজ পত্র সব পুড়ে গেল।পরের দিন ১ম ফ্রেব্রুয়ারী সকালেই তাঁর পরিক্ষা, এ অবস্হায় জুলী ও তাঁর পরিবার দিশেহারা হয়ে যায়।
সে উখিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রী হিসেবে উখিয়ার অনেকেই তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলো এবং তাঁর পড়ালেখার ও দায়িত্ব নেয়।কিন্তু যে মানুষটি সর্বোচ্চ মানবতা দেখিয়েছিলেন ওনার কথাটি অপ্রকাশিতই থেকে যায়। চলুন শোনা যাক সেই মানবিক ব্যক্তির কথা।

সেই মানবিক ব্যক্তিটি হলেন উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আবুল হোসাইন সিরাজী স্যার। পুড়ে যাওয়া বাড়িটির পাশেই ওনার বাসা ছিল। তিনি জানতে পারার পর আমাকে ফোন করে ওনার অফিসে ডাকলেন। আমি কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজির হলাম। স্যার বললেন, “মেয়েটি কোন বিভাগে পড়ে?” আমি বললাম, “ব্যবসা বিভাগে স্যার”। স্যারের কাছে সব বইয়ের সৌজন্যে সংখ্যা ছিল। সেখান থেকে যেসব বই মেয়েটির জন্য দরকার সেগুলো আমাকে দিলেন। স্যার বললেন, “বইগুলো মেয়েটিকে দিয়ে আয়, তার ঘরতো পুড়ে গেল, সে থাকবে কই? আমি আমার মেয়েকে তাঁদের বাসায় পাঠাচ্ছি। ছাত্রীটিকে আমার মেয়ের সাথে আমার বাসায় থাকতে বলো। তার স্কুল ড্রেসটাও পুড়ে গেল। কালকে পরীক্ষা হলে স্কুল ড্রেস ছাড়া গেলে তার মনটা ছোট হয়ে যাবে। আমি “কলেজ টেইলার্স” এ বলে দিছি। তাকে বলো কারো সাথে গিয়ে ড্রেসের মাপটা দিতে। রাতের মধ্যে ড্রেস রেডি করে দিবে তাঁরা। সব টাকা আমি দিব।” তারপর আমি স্যারের কথা অনুযায়ী সব কাজ করলাম। স্যার শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করে মেয়েটির সব কাগজ পত্র সংগ্রহ করলেন।

তারপর প্রায় রাতের ১ টা বেজে গেল। আমি, হাবিব স্যার, হেডস্যার স্কুলের অফিসে ছিলাম। মেয়েটির স্কুল ড্রেস চলে আসল অফিসে। তারপর আমি আর হাবিব স্যার মটর বাইকে করে কনকনে শীত উপেক্ষা করে স্কুল ড্রেসটি তার বাড়িতে পৌঁছে দিলাম।

মেয়েটি অবশেষে সব পরীক্ষা শেষ করল। তার রেজাল্ট প্রকাশিত হলে সে জি.পি.এ ৫.০০ অর্জন করে। খবরটা শুনে খুশি হলাম। রেজাল্ট এর পরের দিন মেয়েটির মা আমার বাসায় আসলেন। কিন্তু আমি বাসায় ছিলাম না। ওনি আমার মাকে বললেন, “জিসান সেদিন অনেক কষ্ট করেছে আমাদের জন্য। ওকে বলিয়েন খবরটা। আমার জুলি A+ পেয়েছে।”

আমি বাসায় আসার পর মা আমাকে সব বললেন। এমন মানবিক মানুষ গুলো বেঁচে থাকুক হাজারো বছর ধরে।

লেখকঃ হাসেম সিকদার জিসান
সাবেক স্টুডেন্টস কেবিনেট প্রাধান
উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

Share:
error: কপি করা নিষেধ !!