শিরোনাম :
নুরুল হক, ইদ্রিস ও বেলায়েতের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ, উচ্চ আদালতে যাচ্ছে ভুক্তভোগীরা ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উখিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহারে হেলপ কক্সবাজারের সচেতনতা ক্যাম্পেইন চকরিয়ায় যাত্রীবেশে বাসে ডাকাতির ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার উখিয়ায় অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ, বিপুল পরিমাণ কাঠ জব্দ কক্সবাজার কারাগারে কয়েদির আত্মহত্যা মছ্লেহ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে টিএমসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শোক পেকুয়ার যুবক আফ্রিকায় ডাকাতের গুলিতে নিহত টেকনাফে ৬টি সোনার বার ও মিয়ানমারের ৯৫০ কিয়াট মুদ্রা উদ্ধার চকরিয়ার ডুলাহাজারায় পাহাড় কেটে মাটি লুট : দুই ডাম্পার জব্দ
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

সাতকানিয়ায় নিহতদের ঘটনায় কেএসআরএম’র মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করবে স্বজনরা!

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ১৪, ২০১৮ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ১৪, ২০১৮ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ

প্রতিবছর সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের গাটিয়াডেঙ্গা এলাকার কেএসআরএম গ্রুপের মালিক আলহাজ্ব শাহজাহান এলাকার দুস্থদের মাঝে চাউল, শাড়ি, ১ হাজার টাকাসহ ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে থাকেন। তার ধারাবাহিকতায় আসন্ন রমজান উপলক্ষে আজ ১৪ মে এলাকায় ইফতার সামগ্রী বিতরণের দিন ধার্য্য ছিল। ইফতার বিতরণের কথা শুনে মাদ্রাসা মাঠে আগের দিন থেকে মহিলারা জমায়েত হতে থাকে। আজ সকালে ইফতার সামগ্রী বিতরণ শুরু হলে হুড়াহুড়ি করে প্রবেশ করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। এদিকে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন জানান, নিহতদের মধ্যে যাদের স্বজন মামলা করবে, সেসব লাশের ময়নাতদন্ত হবে। আর যারা মামলা করবে না, তাদের লাশ স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে। এছাড়াও নিহতের স্বজনরা কেএসআরএম’র মালিক শাহজাহানের বিরুদ্ধে মামলা করবে বলে জানান। তবে সাতকানিয়া থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে ২০০৫ সালে শাহজাহান পৈতৃক বাড়ির মাঠ থেকে একইভাবে ইফতার সামগ্রী প্রদান করতে গেলে পদদলিত হয়ে ৫ জন নিহত হয়েছিলেন| আবার একইভাবে ২০০৮ সালে একই জায়গায় ইফতার এবং যাকাত বিতরণকালে ৬ জন নিহত হয়।

২০০৮ সালের পর থেকে শাহজাহান নিজ বাড়ি থেকে আর যাকাত এবং ইফতার সামগ্রী প্রদান করবেন না বলে ঘোষণা দেন। তার পরবর্তী বছর রমজান আসার পূর্ব মুর্হূতে এলাকাবাসীকে টোকেন ধরিয়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে যাকাত এবং ইফতার সামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু মাঝখানে এতবছর অতিবাহিত হওয়ার পর আজ (সোমবার) একই ঘটনার কেন পুনরাবৃত্তি ঘটালেন শাহজাহান ?

২০১১ সালের জুনের ৭ তারিখ পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গার আশরাফ আলী কেএসআরএম স্টিলের সিকিউরিটি গার্ড থাকা অবস্থায় গেইটের গ্রিল ভেঙ্গে নিহত হলে কেএসআরএম গ্রুপ থেকে ৩ লক্ষ টাকা প্রদান করার কথা থাকলেও আশরাফ আলীর পরিবারকে কোন প্রকারের অর্থ প্রদান করেননি। এমনকি অর্থ প্রদানের পাশাপাশি আশরাফ আলীর পরিবার এবং তার ৩ মেয়ের দায়িত্ব নেয়ার কথা ছিল কেএসআরএম কর্তৃপক্ষের। তথ্যটি নিশ্চিত করেন আশরাফ আলীর শালা মো. আমান উল্লাহ।

আজ (সোমবার) সকালে যখন মানুষের হুড়াহুড়ি শুরু হয় তার ১ ঘণ্টা পর সাতকানিয়া থানা পুলিশ এসে জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতরা হলেন লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের মো. শফির স্ত্রী নুর জাহান (২২), একই এলাকার আবদুস ছালামের মেয়ে টুনটুনি বেগম (১৫), আবদুল করিমের স্ত্রী রহিমা বেগম (৪৫), আজম আলীর মেয়ে ফাতেমা বেগম (১৬), সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের নুর আহমদের স্ত্রী রশিদা আকতার (৫০), একই উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের মোবারক হোসেনের মেয়ে সাকি আকতার (২৪), একই এলাকার হাসান ড্রাইভারের স্ত্রী রিনা বেগম (৪০), মোহাম্মদ ইসলামের স্ত্রী হাসিনা আকতার (৪০), বান্দরবান জেলার সুয়ালক এলাকার কায়েস আলীর স্ত্রী নুর আয়শা বেগম (৪০) ও আবদুল হাফেজের স্ত্রী জোৎস্না বেগম (৫৪)। নিহত জোৎস্না আকতারের কোন ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

পদদলিত হয়ে আহতদের মধ্যে যাদের নাম যাওয়া গেছে তারা হলেন মোস্তফা খাতুন (৬০), নুর আয়শা (৫০), হোসনে আরা বেগম (৪৫), জুনু মিয়া (৪০), রাজিয়া বেগম (৫৫), রোকেয়া বেগম (৩৫), দিলুয়ারা বেগম (৪০) ও মোহাম্মদ সাকিব (১২)।

ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন, পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম মিনা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম এমরান ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্লা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিপাঙ্কর তঞ্চঙ্গ্যা, সাতকানিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল হোসেন ও ইউপি চেয়ারম্যান তসলিমা আকতার প্রমুখ।

নিহত নুরজাহানের ছোট বোন রিজিয়া বেগম জানান, ইফতার সামগ্রী নিতে এসে আমার বড় বোন না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তার দুইটি ছোট ছোট মেয়ে আছে। তিনি একজন স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা। আমার ভাগ্নিদের এখন কি হবে!

ইফতার সামগ্রী দাতা ও কেএসআরএম গ্রুপের মালিক আলহাজ্ব মো. শাহজাহান জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও দুস্থদের সাহায্যার্থে সৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে ইফতার সামগ্রী বিতরণের পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। মানুষের ধৈর্যহীনতার কারণে এমন একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা দুঃখজনক। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে তিন লক্ষ টাকা করে নগদ অনুদান দেয়া হবে।

পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম মিনা জানান, ইফতার সামগ্রী বিতরণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ইফতার সামগ্রী বিতরণের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরিদর্শনে দেখা গেল তাদের ইফতার সামগ্রী বিতরণে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যথেষ্ট ত্রুটি ছিল। তিনি আরো জানান, একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::