শিরোনাম ::
উখিয়ায় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সামাজিক সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত উখিয়ার রাজা পালং মাদ্রসা দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নানা অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠিত মুক্তি কক্সবাজারের উদ্যোগে উখিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডশিপের প্রশিক্ষণে চ্যাম্পিয়ন ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের নারী ফুটবল টিমকে সংবর্ধনা উখিয়ায় মাদক প্রতিরোধ ও অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত একসঙ্গে ৪ সন্তান জন্ম দিলেন মহেশখালীর এক গৃহবধূ! বান্দরবানের দুর্গম অঞ্চলে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য উদ্বোধন শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্রের বান্দরবান দুই শতাধিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উখিয়ায় পালস’র উদ্যোগে বিশ্ব শান্তি দিবস পালিত
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৪০ অপরাহ্ন
নোটিশ::
কক্সবাজার পোস্ট ডটকমে আপনাকে স্বাগতম..

সমুদ্র সৈকতে জাহাজ ভাসা উৎসবে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১

এম.এ আজিজ রাসেল:

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় কল্প জাহাজভাসা উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। এই উৎসবকে ঘিরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি হয়।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে শহরের বৌদ্ধ মন্দিরস্থ ক্যাং পাড়াবাসী ও বড়বাজার রাখাইন যুব সংঘের উদ্যোগে হাজার দৃষ্টিনন্দন কল্পজাহাজ নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রায় রঙ-বেরঙের পোশাক পরিধান করে হাজার রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেয়। এসময় কল্প জাহাজ নিয়ে ঢাক-ডোল ও বাজনা বাজিয়ে নেঁচে গেয়ে আনন্দ উন্মাদনায় মেতে উঠে সবাই।

শোভাযাত্রা দেখতে প্রধান সড়কের দু’পাশে অসংখ্য উৎসুক জনতা ভীড় করে। প্রায় ১ ঘন্টা পর কল্প জাহাজ নিয়ে শোভাযাত্রার ইতি ঘটে সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্টে এসে। সৈকতের বালিয়াড়িতে হাজার হাজার নর-নারীর সম্মিলন। জাহাজভাসা উৎসবের আনন্দে সামিল হয়েছে ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজনও। এ যেন এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

পরে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাগরের উত্তার ঢেউয়ের সাথে ভাসানো হয় কাঙ্খিত কল্প জাহাজ। ঢেউয়ের তালে তালে ভাসছে বাঁশ, বেত, কাঠ, রঙ্গিন কাগজ দিয়ে অপূর্ব কারুকাজে তৈরী নান্দনিক কল্প জাহাজ। যা নজর কাড়ে সবার। কক্সবাজার শহর ছাড়া চৌফলদন্ডী, খুরুশকুল, হারবাং, টেকনাফ ও চকরিয়াতেও এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

কক্সবাজার রাখাইন একতা সংঘের সভাপতি উসেন থোয়েন (উসেনমি বাবু) বলেন, আজ থেকে দুইশ বছর আগে মিয়ানমারে মুরহন ঘা নামক স্থানে একটি নদীতে মংরাজ ম্রাজংব্রান প্রথম এ উৎসবেরর আয়োজন করেন। প্রবারণা পূর্ণিমার একসাথে মিলিত হবার জন্য এ আয়োজন চলতো। সেখান থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজারেও এ উৎসবের প্রচলন হয়। যা আজ অবদি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার প্রবারণায় রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা করেছে।

কক্সবাজার সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ক্যথিং অং ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন জানান, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্নিমা পর্যন্ত তিনমাস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাব্রত পালন করেন। এ সময় বৌদ্ধ দায়ক-দায়িকারা প্রতি অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে অষ্টশীল পালন করেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা তিনমাস ব্যাপী বর্ষাব্রত পালন কালে সদ্ধর্ম্ম বিষয়ক লেখাপড়া, গবেষনা ও জ্ঞান আহরন করেন।

বর্ষাব্রত পালনের শেষ দিন আশ্বিনী পূর্ণিমাকেই বলা হয় প্রবারণা পূর্ণিমা। আড়াইহাজার বছর আগে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার দিনে মহামানব গৌতম বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশ্য বলেছিলেন- “হে ভিক্ষুগন বহুজনের হিতের জন্য, বহুজনের সুখের জন্য, জীবজগতের প্রতি মৈত্রী প্রদর্শন করে, দেব মনুষ্যের প্রয়োজনীয় সুখের জন্য, দেশ-দেশান্তরে বিচরণ করে কল্যাণময় ধর্ম প্রচার করো। পরিপূর্ন পরিশুদ্ধ ব্রক্ষচর্যের মহিমা কীর্তন করো, স্মৃতি সহকারে স্থির, গম্ভীর ও জ্ঞান গর্ভ বাক্য এবং সদ্ধর্ম্ম প্রচার করো”। বুদ্ধের এ উপদেশ পালনে প্রতিবছর নানা আনুষ্ঠানিকাতায় এ দিনটি পালন করা হয়। প্রবারণা পূণির্মার পরদিন থেকে এক মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানানুষ্ঠানের মাধ্যমে তা পালন করা হবে।


আরো খবর: