তারিখ: বুধবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে এসে ২ হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েছে। ৩ নম্বর সর্তক সংকেত থাকার কারণে আজ বুধবার টেকনাফ থেকে কোনও জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে না যাওয়ায় দ্বীপে আটকা পড়েছেন তারা। তবে পর্যটকদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
পর্যটকদের আটকা পড়ার তথ্য নিশ্চিত করে সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমেদ বলেন, ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে এসে ২ হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের বেশিরভাগেরই আজ দ্বীপ থেকে টেকনাফে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ৩ নম্বর সর্তক সংকেত ঘোষণা হওয়ার কারণে আজ কোনও পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে আসেনি। সকাল থেকে জেটি ঘাটে জাহাজের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন অনেক পর্যটক। তাদের অনেকের টাকার সংকট আছে বলেও শুনেছি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আটকা পড়া পর্যটকদের কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সেই চেষ্টাও চলছে।’

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, বজ্রমেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সমুদ্রবন্দরসমূহে সব ধরনের নৌযান সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।’
পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, সর্তক সংকেত থাকার কারণে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে পর্যটকবাহী কোনও জাহাজ ছেড়ে যায়নি। তবে এর আগেও এসব জাহাজে করে দ্বীপ ভ্রমণে যাওয়া আড়াই হাজার পর্যটক সেখানে আটকা পড়েছিলেন। গতকাল তাদেরকে নিরাপদে টেকনাফে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।’
ফরিদপুর থেকে দ্বীপ ভ্রমণে আসা আটকা পড়া সুজন বলেন, ‘পরিবার নিয়ে মঙ্গলবার সকালে জাহাজে করে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে এসেছি। বুধবার দ্বীপ ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু সর্তক সংকেত থাকায় দ্বীপে কোনও জাহাজ না আসায় এখানে আটকা পড়েছি।
সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সেকান্দর আলী জানান, ৩ নম্বর সর্তক সংকেত থাকার কারণে আজ জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তারা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেটি দেখা হচ্ছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, একদিন পর পর্যটকবাহী ৬টি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা করে। তবে আকাশে বজ্রমেঘের ঘনঘটা সৃষ্টি হওয়ার কারণে ৩ নম্বর সর্তক সংকেত থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে আজ জেটিঘাট থেকে কোনও জাহাজ ছেড়ে যায়নি। এর আগেও দ্বীপে বেড়াতে যাওয়া আড়াই হাজারের মতো আটকা পড়া পর্যটক দ্বীপ থেকে নিরাপদে ফিরে এসেছে। তবে আটকা পড়া পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে খোজ খবর রাখা হচ্ছে। সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া পর্যটকদের ফেরত আনা হবে।
উল্লেখ্য, একদিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার দুপুরের দিকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ৬টি জাহাজে করে ৩ হাজার ৮৭৩ জন যাত্রী সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওয়ানা করে। গ্রীনলাইন-১, কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, বে ক্রুজ, এলসিটি কাজল ও এমভি আটলান্টিক ক্রুজ জাহাজে করে ৩ হাজার পর্যটক ফিরে আসলেও অন্যান্য পর্যটকরা সেখানে থেকে যায়।

Share:
error: কপি করা নিষেধ !!