তারিখ: মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০১৯ ইং, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র জয়ের ৭ বছর পার করলো বাংলাদেশ। কিন্তু এতদিনেও বিশাল সমুদ্রসীমা থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলনে নেই উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি। বহুমাত্রিক জরিপ-মাল্টি ক্লায়েন্ট সার্ভেও ঝুলে আছে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তহীনতায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্র থেকে জ্বালানি অনুসন্ধানে জোর দেয়া হলে ঝুঁকতে হতো না ব্যয়বহুল এলএনজি নির্ভরতার দিকে।
বেশ ঢাকঢোল পিটিয়েই উদযাপন করা হয়েছিল ২০১২ সালের ১৪ মার্চ মিয়ানমারের বিপক্ষে সমুদ্র জয়কে। তবে ৭ বছরেও এর সুফল ঘরে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। বিপরীতে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশের সীমানা ঘেঁষে চলছে মিয়ানমারের তেল গ্যাস উত্তোলন।
অথচ বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমায় ২৬ ব্লকের ২২টিতেই শুরু হয়নি কোনো কার্যক্রম। বাকি ৪ ব্লকের কর্মযজ্ঞ অনুসন্ধান পর্যায়েই। গভীর সমুদ্রে ১৫ ব্লকের মধ্যে একমাত্র মিয়ানমার লাগোয়া ১২ নম্বর ব্লকে দ্বিমাত্রিক জরিপ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানি পোসকো দাউয়্যু। আর অগভীর সমুদ্রে ১১ ব্লকের মাত্র একটিতে শেষ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি সান্তোসের ত্রিমাত্রিক জরিপ। আর দুটি ব্লকে শিগগিরই অনুসন্ধান কূপ খননের ক থা ভারতীয় কোম্পানি ওএনজিসি’র।
অন্যদিকে, তেল গ্যাস উত্তোলনে বহুজাতিক কোম্পানিকে আকর্ষণ করতে বিশেষায়িত জরিপ ‘মাল্টি ক্লায়েন্ট সার্ভে’র উদ্যোগও ৫ বছর ধরে থমকে আছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়।
অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, মাল্টি ক্লায়েন্ট সার্ভেটা টেন্ডার হলে আজকে গ্যাসখাত উন্নয়নের জন্য একটা মাইলফলক হতে পারতো।
নসরুল হামিদ বলেন, মাল্টি ক্লায়েন্ট সার্ভেটা টেন্ডার হয়ে গেছে। কিন্তু এটা একটু স্থগিত রাখার জন্য বলা হয়েছে। এজন্য আমরা এখন বসে আছি। এসবের জন্য ওপর মহলের সিদ্ধান্ত দরকার।
সম্ভাবনা থাকার পরও সমুদ্রবক্ষে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে ধীরগতির কারণে জ্বালানি সংকট কাটাতে ধীরে ধীরে প্রাধান্য পাচ্ছে আমদানি নির্ভরতা। আর আমদানি করা এলএনজির ব্যয় মেটাতে এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নিতে হলো গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারতো সাগরের গ্যাস।
জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেই আমদানির পরিবর্তে নিজস্ব উৎসে জোর দেয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::