বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা : আসামী ৩ শতাধিক

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ২, ২০১৮ ১২:৩০ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ২, ২০১৮ ১২:৩০ অপরাহ্ণ

উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা যুবকদের ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামবাসী-পুলিশ ও রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশের অস্ত্র ভাঙচুর, পুলিশ, গ্রামবাসীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া উপজেলার তাজনিমারখোলা বার্মাইয়া পাড়া রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরীকে এজাহার নামীয় ও ৩শ’ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বুধবার উখিয়া থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

সরজমিন ঘটনাস্থল তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ঘুরে প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী-রোহিঙ্গা ও কর্তব্যরত পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাজনিমারখোলা বার্মাইয়া পাড়া রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের পাশ্বে গ্রামের ভিতরে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা যুবক ইয়াবা সেবন করছিল। এ সময় গ্রামে পাকা ধান পাহারা দেয়া কয়েকজন লোক টর্চের আলো ফেললে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় ইয়াবা সেবনকারী রোহিঙ্গা যুবকরা টর্চ মারা লোকজনের দিকে তেড়ে আসে, স্থানীয়রা খবর পেয়ে তারাও ঘটনাস্থলে এলে উভয় পক্ষে কথাকাটাকাটির জের মারামারির সূত্রপাত হয়। ক্যাম্পের নিরাপত্তা প্রহরায় নিয়োজিত এপিবিএন পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করলেও উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় গুজব উঠে শিবির সংলগ্ন গ্রামের কবির আহমদের ছেলে মাহামুদুল হক (২৪) কে রোহিঙ্গারা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এ গুজবের সূত্র ধরে ক্যাম্পে অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি হলেও পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী ও তাজনিমারখোলা ওয়ার্ডের মেম্বার জয়নালের নেতৃত্বে কয়েক শতাধিক উত্তেজিত গ্রামবাসী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রবেশ মুখে অবস্থান নেয়। রোহিঙ্গারাও এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সেখানে পুলিশ এসে উভয়পক্ষকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তা ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থলে সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশ রেখে বাকি পুলিশ সদস্যরা কথিত অপহৃত মাহামুদুল হক (২৪) কে উদ্ধারের জন্য ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়া উত্তেজিত জনতা স্থানীয় চেয়ারম্যানের সামনে পুলিশের ওপর হামলা ও এলোপাথাড়ি মারধর করে একটি অস্ত্র ভাঙচুর করে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন ফোর্স মো. ইলিয়াছ হোসেন, শাওন আহমদ, ইমন কবির, ইয়াছিন খানসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাকসুদ আলম জানান, উত্তেজিত গ্রামবাসী ও রোহিঙ্গার হামলায় কর্তব্যরত পুলিশের একটি শর্টগান ভেঙ্গে যায়। এ সময় রোহিঙ্গা-গ্রামবাসী ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে গ্রামবাসী কবির আহমদ (৪০), মোহাম্মদ নুর (২৬), মোখলেছুর রহমান (৩০), শফিকুর রহমান (১৮), আব্দুস সালাম (৪০)সহ ৩০ জনের মতো আহত হয়েছে। তিনি আরো জানান, মাহামুদুল হক নামের যে লোককে রোহিঙ্গারা অপহরণ করা হয়েছে মর্মে গুজব রটিয়েছে সে মাহামুদুল হক জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ধাওয়া খেয়ে সে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছিল। তাজনিমারখোলা আশ্রয় শিবিরে পুলিশের ক্যাম্প ইনচার্জ লাভলু সিকদার গ্রামবাসীর হামলায় পুলিশ সদস্য আহত সহ একটি অস্ত্র ভাঙচুরের সত্যতা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত থেকে পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী স্থানীয় গ্রামবাসীকে উসকিয়ে দেয়ার অভিযোগে তাকে সহ ৩ শতাধিক গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গ্রামবাসী ও রোহিঙ্গার মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পরই ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের ওপর হামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা পুলিশকে বাঁচিয়েছি, অথচ আমাদের বিরুদ্ধেই উল্টো মামলা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::