শিরোনাম :
উখিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহারে হেলপ কক্সবাজারের সচেতনতা ক্যাম্পেইন চকরিয়ায় যাত্রীবেশে বাসে ডাকাতির ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার উখিয়ায় অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ, বিপুল পরিমাণ কাঠ জব্দ কক্সবাজার কারাগারে কয়েদির আত্মহত্যা মছ্লেহ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে টিএমসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শোক পেকুয়ার যুবক আফ্রিকায় ডাকাতের গুলিতে নিহত টেকনাফে ৬টি সোনার বার ও মিয়ানমারের ৯৫০ কিয়াট মুদ্রা উদ্ধার চকরিয়ার ডুলাহাজারায় পাহাড় কেটে মাটি লুট : দুই ডাম্পার জব্দ টেকনাফ-সেন্টমাটিন নৌপথ বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিবে ৪৩ সাঁতারু পেকুয়ায় থানার ৫’শ মিটারের মধ্যে দুর্ধর্ষ ডাকাতি : অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা লুট
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অর্ধশতাধিক জুয়েলার্সের দোকান : স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে কি চলছে ?

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ৫, ২০১৮ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ৫, ২০১৮ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

ফারুক আহমদ, উখিয়া:

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাজারে ব্যাংঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক জুয়েলার্সের দোকান। হঠাৎ অসংখ্য দোকান দেখে রীতিমত থবনে গেছে স্থানীয় জনগণ। সরকারী বিনা অনুমতিতে কোন প্রকার প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই এসব জুয়েলার্সের দোকান খোলা হয়েছে। আর প্রতিদিন উক্ত দোকানে স্বর্ণ ক্রয় করতে এসে প্রতারিত হচ্ছে অনেকেই। এমনও অভিযোগ রয়েছে নি¤œমানের ও নকল স্বর্ণ বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জুয়েলার্সের দোকানীরা।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নির্যাতনের শিকার হয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী উখিয়ার কুতুপালং সহ ১২টি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। উক্ত ক্যাম্প গুলো অভ্যন্তরে শতাধিক ছোট বড় বাজার ও গড়ে উঠেছে।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালী, মধুরছড়া, লম্বাশিয়া, জামতলী ও ময়নার ঘোনা সহ ক্যাম্প ভিত্তিক বাজারে অর্ধশতাধিক জুয়েলার্সের দোকান খোলা হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে পুঁজি করে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা রাতারাতি জুয়েলার্সের দোকান খুলে বসে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক হাজী ওসমান গণি গ্রাহকরা স্বর্ণ ক্রয় করতে গিয়ে হয়রানি ও প্রতারনা শিকার হচ্ছে এমন সত্যতা শিকার করে বলেন, হঠাৎ করে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক বাজারে অসংখ্য স্বর্ণের দোকান দেখে আমরাও রীতিমত অবাক হয়েছি। যেখানে ৩টি দোকানে স্বর্ণ ক্রয় বিক্রয় কঠিন সাধ্য ছিল তৎমধ্যে অর্ধশতাধিকের উপরে জুয়েলার্সের দোকান কিভাবে স্বর্ণের ব্যবসা করছে আমরাও ভাবিয়ে উঠতে পারছি না। সংগঠন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বৈঠক আহ্বান করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা জানায়, যে কোন জুয়েলার্সের দোকান খোলার পূর্বে সরকারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, ইনকাম ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড় পত্র নিতে হয়। কোন প্রকার সরকারী এসব ডুকুমেন্টের তোয়াক্কা না করে রাতারাতি স্বর্ণের দোকান খুলে বসে কতিপয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগে প্রকাশ, রামু, মিঠাছড়ি, ওমখালীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অদক্ষ স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একই মাসে অর্ধশতাধিক দোকান চালু করে। এসব দোকানে নি¤œমানের ও নকল স্বর্ণ বিক্রি করে রোহিঙ্গা ক্রেতাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, এসব স্বর্ণ দোকানের আড়ালে চোরা চালান ব্যবসায়ও জড়িত হয়েছে তারা। ইয়াবা, বিভিন্ন অবৈধ মাদক সহ স্বর্ণ পাচারেরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও স্বর্ণের মূল্যের তালিকা টাঙ্গিয়ে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কোন দোকানেই এ ধরনের তালিকা নেই। ইচ্ছামত স্বর্ণের দাম হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি উখিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মিন্টু ধর ও সাধারণ সম্পাদক আশিষ ধর জানান, কুতুপালং, থাইংখালী, বালুখালীসহ রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক যেসব জুয়েলার্সের দোকান রয়েছে এগুলো সমিতির অন্তভূক্ত নই। কোথায় থেকে এসে রাতারাতি স্বর্ণ দোকানের ব্যবসার নামে অসংখ্য গ্রাহকের সাথে প্রতারনা করছে এমন অভিযোগ আমরা প্রতিদিন শুনতে পারছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দরা বলেন, এ বিষয়টি আমরা জেলা জুয়েলার্স সমিতিকে অবহিত করেছি।

সচেতন মহলের দাবী রাতারাতি অর্ধশতাধিক জুয়েলার্সের দোকানে আসলে স্বর্ণের ব্যবসার নামে কি চলছে উপজেলা প্রশাসনের পাশা-পাশি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারী করলে আসল রহস্যের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::