তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

শহিদুল ইসলাম,উখিয়া::

উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে ৩০টি। এখানে আশ্রয় নিয়েছে এগারো লাখের অধিক রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট আসা রোহিঙ্গারা ধনী হওয়ার আশায় পাড়ি দিচ্ছে বিদেশে। প্রতিদিন ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা।

স্হানীয় দালাল চক্রের সহযোগিতায় মালয়েশিয়া,আরব আমিরাত, সৌদি আরব সহ মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের একাধিক পয়েন্টে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির চেকপোস্ট রয়েছে। এদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিপুল সংখ্যাক রোহিঙ্গা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা আটকের খবর পাওয়া যায়।

স্হানীয়রা বলেছেন, যেখানে চেকপোস্ট পার হতে হলে জাতীয় পরিচয় দেখাতে হয়। নানান ধরনের ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। তারা আরো বলেন, এত রোহিঙ্গা কিভাবে চেকপোস্ট অতিক্রম করতে পারে। উখিয়ার ফলিয়া পাড়া সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ভোরে রোহিঙ্গারা কাজের সন্ধানে বের হন। এছাড়া কতিপয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টাকার বিনিময়ে অবাধে যেতে পারে। উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে কাটা তারের বেড়া দেওয়ার দাবী এখানকার সচেতন মহল। অল্প টাকায় বিদেশি যাওয়ার আশায় ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসছে। উখিয়া পুলিশের হাতে আটককৃত একাধিক রোহিঙ্গা বলেন হাতে কোন কাজ নেই। অল্প টাকায় বিদেশি যাওয়ার আশায় ঘর থেকে বের হয়ে ছিলাম।

উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা ওজি উল্লাহ বলেন, তারা বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকতেন। প্রচন্ড গরমে ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে পলথিনের ছাউনিতে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কোথাও ভাড়া বাসা নিয়ে আপাতত থাকার জন্য কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছি।

উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাবেকুর নাহার বলেন, শহরে কাজ দেবেন বলে আমাকে নিয়ে গিয়ে ছিল। এরপর কোথায় নিয়ে গিয়েছিল আমি জানি না। কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১শ ৭১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। আটককৃত রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের আটক করতে পারলে ও দালালরা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। ঢাকার খিলক্ষেত থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৩ রোহিঙ্গাকে আটক করেন।

ঢাকার খিলক্ষেত থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাজধানীতে ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গারা। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

উখিয়ার সীমান্তবর্তী পালংখালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা এখন প্রকাশ্যে চলাফেরা করেন। চলাচলে কোন বাধা নেই। রোহিঙ্গারা এখন কক্সবাজার জেলাজুড়ে অবাধ বিচরণ। যা উদ্বেগজনক।

উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাকের মাঝি, নুরুল আমিন ও মুসা আলি মাঝি বলেন, রোহিঙ্গাদের কোন কাজ নেই। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অনেক রোহিঙ্গাদের সহায় সম্পতি ছিল। সেখানকার মগ সেনারা পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা কাজ চান। একারনে ক্যাম্প ছেড়ে মালয়েশিয়া, দুবাই, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জাপান ও শ্রীলংকায় ভালো চাকুরীর প্রলোভন দেখিেেয় দালাল চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সীমানা প্রাচীর দিতে হবে। না হলে রোহিঙ্গা বিভিন্ন স্হানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগাটার সময় উখিয়ার উপকূলীয় জালিয়া পালং ইউনিয়নের লম্বরী পাড়া এলাকার একটি বাড়ীতে, ২৪রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ।

উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, মানবপাচারকারী ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে। মঙ্গলবার রাতে আরো ২৪ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবি এম মাসুদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন ১১লাখ রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মূল সড়কে সাতটি পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ৫৮ হাজার রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::