তারিখ: সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share:

সোয়েব সাঈদ,রামু::

জেলার বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহি চাকমারকুল আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় গুলিবর্ষণ, ভাংচুর, ছাত্রদের অমানবিকভাবে নির্যাতনের প্রতিবাদের প্রতিবাদ সভা করেছেন, এলাকাবাসী এবং মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। প্রতিবাদ সভায় হামলার মূল হোতা আবদুর রাজ্জাক ও নুরুল আলম সহ জড়িত সকল সন্ত্রাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) এশার নামাজের পর আয়োজিত এ প্রতিবাদ সভায় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদ্রাসার শিক্ষকগণ বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতির বক্তব্যে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, হামলাকারি চক্রটি দীর্ঘদিন ঐহিত্যবাহি এ মাদ্রাসাকে ধ্বঃসের পায়তারা চালাচ্ছে। পবিত্র আল্লাহর ঘর মসজিদ ও মাদ্রাসায় এভাবে গুলিবর্ষণ, ভাংচুর ও নিরীহ ছাত্রদের মারধর করা হবে তা ছিলো কল্পনাতীত।

তিনি আরো বলেন, সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে এ মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে। মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে দ্বীনি শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কষ্ট ছাড়া কখনো দ্বীনি শিক্ষা অর্জন সম্ভব নয়। কষ্টের প্রতিদান আল্লাহপাক অবশ্যই দেবেন। যারা মসজিদ-মাদ্রাসায় গুলিবর্ষণ ও হামলা চালায় তাদের করুন পরিনতি হবে। কারন মসজিদ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে অতীতে কেউ পার পায়নি। এবারও পাবে না।

সভায় বক্তারা প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে এ হামলার ঘটনায় জড়িত আবদুর রাজ্জাক ও নুরুল আলম সহ সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়ে বলেন, হামলাকারিরা এখন উল্টো মামলা দায়ের সহ মাদ্রাসার মুহতামিম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর আবারো হামলার হুমকী দিচ্ছে। প্রশাসন এ ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে হামলাকারিরা আবারো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই সময় থাকতেই পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় চাকমারকুল আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মূফতি হাবিব উল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ সোলাইমান, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা নুরুল হক, মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ, মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গেও মধ্যে আবদুল খালেক, মাওলানা আবদুল গফুর, সিরাজ মওলা সহ মাদ্রাসার সকল শিক্ষক-ছাত্র এবং এলাকার সর্বস্তুরের জনতা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় চাকমারকুল মাদ্রাসার বহিস্কৃত শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে গুলিবর্ষণ, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার ৮ জন ছাত্র আহত হয়। রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা ও রামু থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ইউএনও তাৎক্ষণিক ওসিকে নির্দেশ দেন। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

Share: