মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১৮ অপরাহ্ন

রামুর গর্জনিয়ায় যুবলীগকর্মী মঞ্জুর হত্যা দুই বছরেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়নি পুলিশ

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ৩১, ২০১৮ ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ৩১, ২০১৮ ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

আব্দুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) ::
কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের যুবলীগকর্মী মঞ্জুরুল আলম হত্যার দুবছর হয়েছে ২৯মে, মঙ্গলবার। কিন্তু এখনো পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়নি। পাশাপাশি এ হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন করে একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করেনি তাঁরা। বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মামলাটি তদন্ত করছেন। এর আগে পুলিশ ও সিআইডির দুজন কর্মকর্তাকে তদন্তবার থেকে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বদল করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ২০১৬ সনে অনুষ্ঠিত রামুর গর্জনিয়া ইউপি নির্বাচেনর আগের রাতে (২৭মে) স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়- এ ধরনের খবর স্থানীয় জামে মসজিদের মাইকে প্রচার হতে থাকলে, গলায় নৌকার কার্ড ঝুলিয়ে যুবলীগ কর্মী মঞ্জুরুল আলম ও তাঁর স্ত্রী তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীর বাড়ির দিকে যাত্রা করেন। বাড়িতে পৌঁছানোর ঠিক আগ মুহুর্তে প্রধান সড়কে তাঁরা হামলাকারীদের সামনে পড়ে যান। তখন তারা মঞ্জুরুলের গলায় নৌকার কার্ড ঝুলানো দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে লোহার রড় ও লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করতে থাকেন।

মঞ্জুরুল আলমের স্ত্রী সলিমা খাতুন বলেন, ‘হামলাকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিল সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, মোজাফ্ফর, আবুল কাশেম ও জালাল উদ্দিন। এই পাঁচজন সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছেন। বাকিরাও নির্যাতন করেছে। আহত অবস্থায় আমার স্বামীকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার করেন। সেখানেই চিকিৎসাধিন অবস্বায় তিনি ২০১৬ সনের ২৯মে মারা যান।’

ঘটনার দুজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেদককে বলেন, সেদিন জুমছড়ি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের নেতৃত্বে নৌকার স্লেগান নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। পরে সেখানে সশ্বস্ত্র অবস্থায় যান সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। ফেরার পথে যুবলীগকর্মী মঞ্জুরুলের ওপর ব্যাপক হামলা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সনের ৫ জুন ‘সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-১ কক্সবাজারে’ সাবেক শিবির ক্যাডার সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এক নম্বর, মোজাফ্ফর আহমদকে দুই নম্বর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ.রহমান হলের সাবেক শিবির ক্যাডার আবদুল মাজেদ সিকদারকে তিন নম্বর আসামি করে ২০ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে ফৌজদারি দরখাস্ত দেন খুন হওয়া মঞ্জুরুল আলমের স্ত্রী সলিমা খাতুন। এ দরখাস্তে ৪০/৫০ জনকে অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামি করা হয়। আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশে ৯ জুন রামু থানা পুলিশ হত্যা মামলাটি আমলে নেয়। এর পর দীর্ঘদিন গাঁ ঢাকা দিলেও ৪ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সিরাজ উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পন করে মামলার প্রধান আসামি সৈয়দ নজরুল ইসমলাম জামিন আবেদন করলে- উভয় পক্ষের শুনানি শেষে, বিজ্ঞ বিচারক জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে তিন মাস জেল কেটে তিনি (সৈয়দ নজরুল ইসলাম) জামিনে বেরিয়ে আসেন।

রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য শামশুল আলম মন্ডল কলেন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম এক সময়ের দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার। এখন আওয়ামী লীগের আমল চলছে। তবুও তাঁর দাপট বেশি। নানা কূটকৌশল চালিয়ে এবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর হামলায় একজন যুবলীগের কর্মী খুন হলো। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট হয়েছে। বিশেষ কোন কারণে পুলিশ এসব মামলায় অগ্রগতি দেখাচ্ছে না। বিষয়টা খুবই দু:খজনক। যদিওবা অভিযুক্ত গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম দাবী করে বলেন, ‘আমাকে ফাঁসানোর জন্য এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি একটি অপরাধের সঙ্গেও জড়িত নই।’

মামলার বাদী ও নিহত মঞ্জুরুল আলমের স্ত্রী সলিমা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামীর মৃত্যুর আগ মুহুর্তের অডিও রেকর্ড আমি আদালতে সোপর্দ করেছি। সেখানে কি কারণে তাঁর ওপর হামলা হয়েছে বা কারা হামলা করেছে সেটা অনেকটা স্পষ্ট। তবু মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে তদন্তকারী কর্মকর্তা। এই পর্যন্ত তিনি একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করেননি। পুলিশের লাই পেয়ে প্রভাবশালী আসামিরা এখন তাকে মামলা আপোষ-মিমাংসা করতে হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি দুই শিশু সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি।’

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা মামলাটি অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। অল্প সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে পৌঁছাবে।’

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::