মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৩৬ অপরাহ্ন

রামুর কচ্ছপিয়ায় পাহাড় কাটার মহোৎসবঃ মারত্বক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: জুন ২, ২০১৮ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: জুন ২, ২০১৮ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

হাবিবুর রহমান সোহেল ::

রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের হাজির পাড়া মোহাব্বত আলী বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুর্ব পাশে বড় কবরস্থানস্থ এলাকায় বিশাল উচু পাহাড় কেটে সমতলে পরিনত করেছে এক শ্রেনীর প্রভাবশালী বনখেকোর দল। যার কারনে ওই এলাকায় বসবাসরত সাধারন জনগন মারত্বক ঝুকিতে দিনাতিপাত করছেন। গতকাল বিকেলে একদল সাংবাদিক ওই এলাকায় সরজমিন পরিদর্শনে গেলে পাহাড় কাটার ওই সব ভয়াবাহ চিত্র উঠে আসে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে পাহাড় কাটা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও রামু উপজেলার কচ্ছপিয়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেও থামছেনা পাহাড় কাটা। উল্টো বেড়েই চলছে একের পর এক পাহাড় কাটা ঘটনা। হাজির পাড়ার শতাধিক লোক জানান, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতা কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইসমাইল মোঃ নোমানের নেতৃত্বে ওই এলেকার ১০/১২ জন পাহাড় খেকো ওই বিশাল সবুজের পাহাড়টি কেটে হাজির পাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটে মাটি বিক্রি করেছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ড্যাম্পারের মালিক কচ্ছপিয়া তিতার পাড়া নুর মোহাম্মদের ছেলে আবদুর রশিদ তার ২/৩ টি ডাম্পার দিয়ে ১০০ থেকে ৯০ ফুট উচু পাহাড়টি কেটে বিভিন্ন এলাকায় ফসলী জমি, দোকান ঘর, কলোনী ভরাটসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি পাচার করছে।জানা যায়, ওই এলাকার কয়েকটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা চলছে। পাহাড় কাটার কারণে বেশ কিছু বন জঙ্গল কাটা পড়ছে। ন্যাড়া হয়ে পড়েছে বিশাল এলাকা। এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে খুব শিঘ্রই পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। কিন্তু এসব বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন কোন ভুমিকা রাখছেনা।

সুত্রে জানা গেছে, ওই আবদুর রশিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২জন শ্রমিক কোদাল ও বেলচা ব্যবহার করে মাটি কেটে ভরাট করছে ড্যাম্পার। তার কারনে দিন দিন বেড়েই চলছে ওই ইউনিয়নের পাহাড় কাটা। এতে পাহাড়ের নিচে বা আশে পাশে যারা বসবাস করছে তারা খুব ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। এতে যেকোন সময় পাহাড় ধ্বসে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ও প্রাণহানী আশংকা বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে বড় কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশবাদীরা।

স্থানীয়রা বলেন, ওই রশিদের খুটি জোর কোথায়। তিনি কোন কিছু মানছেন না কেন। পাহাড় কাটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এই কার্যক্রম পরিচালনা ক্ষমতা সরকার কাউকে দেয়নি। তাছাড়া পরিবেশ আইনে পাহাড় কাটার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনে বলা আছে। তবুও কার শক্তিতে পাহাড় কাটা থামছে না।

রামু থানা অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত আলী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পাহাড় কাটা বন্ধে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড় কাটার অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এই ব্যাপারে জানতে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ লুৎফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে বলে জানান। পরে এই ব্যাপারে কথা বলতে ককসবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পাহাড় কাটার বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলে তারা এই ব্যাপারে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::