শিরোনাম :
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৩৩ অপরাহ্ন

রামুর কচ্ছপিয়ায় জন্ম নিবন্ধন সনদ জালিয়াতি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যের মামলা

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ৩১, ২০১৮ ৬:১২ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ৩১, ২০১৮ ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

আব্দুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) ::
জন্ম নিবন্ধন সনদে একজনের বয়স দুই বছর এবং অন্যজনের বয়স চার বছর কমিয়ে দুজন গ্রাম পুলিশের চাকুরী বর্ধিত করার ঘটনায়- কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাইল নোমানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। একই ইউনিয়ন পরিষদের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে গত ২৩মে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলা করেন।

মামলার এজাহার সূত্র জানায়- কচ্ছপিয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্ণীতি, অর্থ আত্মসাৎসহ সকল প্রকার অপরাধ অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচিত ইউপি সদস্যরা তাঁকে পরিষদ নিয়ন্ত্রণে এবং কর্মকা-ে তাঁদেরও মতামত আছে জানালেও- বিষয়টি কর্ণপাত না করে চেয়ারম্যান স্বেচ্ছাচারিতামূলক কার্যকলাপ পরিচালনা করছেন। ওই পরিষদের গ্রাম পুলিশ আমির হামজা ও জাফর আলমের চাকুরীর মেয়াদ (জন্ম তারিখ হিসাবে) অতিক্রান্ত হলেও ২০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু মো.ইসামাইল নোমান নিজেই দুটি জাল জন্ম নিবন্ধন সৃজন করেন। জাল জন্ম সনদ দুটিতে জন্মের বয়স কম লিখে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। মূলত আমির হামজার প্রথম জন্ম নিবন্ধন সনদের তারিখ ১২ জুলাই-১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দ। আর জাল সনদে ১২ জুলাই ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দ। অন্যদিকে জাফর আলমের প্রথম জন্ম নিবন্ধন সনদের তারিখ ৪ এপ্রিল- ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দ। আর জাল সনদে ৪ এপ্রিল-১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দ।

মামলার বাদী ও কচ্ছপিয়া ইউপির দুই নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমি বিগত ২৬ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সহিত জনগনের সেবা করে আসছি। আমি অন্যায় সহ্য করতে পারিনা। তাই ইউপি চেয়ারম্যানের জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য ঢাকায় দুর্ণীতি দমন কমিশনে গেলে- তাঁরা আমাকে আদলতে মামলা করার পরামর্শ দেন। সেই মতে আমি সংশ্লিষ্ট আ্ইনে মামলাটি করেছি। এই মামলায় পরিষদের একাধিক সদস্য স্বাক্ষী আছে। আসামীর বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত হলে সকল অভিযোগ সুপ্রমানিত হবে।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু মো.ইসমাইল নোমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যক্তিগত ০১৭১৩-৬১৮২৫৩ নম্বরে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো.কামাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। তবুও এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সনের ২৮মে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে- আবু মো. ইসমাইল নোমান কচ্ছপিয়া ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই বছরের ১৬ আগষ্ট তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::