বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র: রয়টার্স

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ২৬, ২০১৮ ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ২৬, ২০১৮ ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের নৃশংসতা ও নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে ১ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পুরুষ ও নারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরিচালিত হত্যা, ধর্ষণ, মারধর ও সম্ভাব্য অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও অপরাধ বিষয়ে ২০ জন বিশেষজ্ঞ তদন্তকারী এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এই বছর মার্চ ও এপ্রিলে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তদন্তের কথা স্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি মিয়ানমার সরকার ও নিরাপত্তাবাহিনীর উচিত দেশটির সব মানুষের মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। যারা এটা করতে ব্যর্থ হয় তাদের জবাবদিহীতার মধ্যে রাখা।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের সংগৃহীত তথ্যগুলো ওয়াশিংটনে বিশ্লেষণ করা হবে এবং প্রতিবেদন আকারে আগামী মে অথবা জুন মাসের প্রথম দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করবে কিনা কিংবা মিয়ানমার সরকারের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ অথবা আন্তর্জাতিক বিচারের সুপারিশ করতে ব্যবহৃত হবে কিনা তা পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি।

তদন্তকারীদের ব্যবহৃত নথিতে বলা হয়েছে, ‘এই তদন্তের উদ্দেশ্য হচ্ছে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সমর্থন চেষ্টা এবং সামাজিক ভিত্তিক সংশোধন চেষ্টাসহ বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া যা তদন্ত, সত্য অন্বেষণ চেষ্টা অথবা বিচার ও দায় আরোপের অন্যান্য চেষ্টা।’

২০০৪ সালে সুদানের দারফুর অঞ্চলে গণনিপীড়ন তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র যে ফরেনসিক তদন্ত চালিয়েছিল সেই পদ্ধতি অনুসরণ করেই তদন্ত চালানো হচ্ছে। সুদানের তদন্তের সময় যুক্তরাষ্ট্র যেখানে গণহত্যা সংঘঠিত হয়েছিল বলে জানায় এবং সুদান সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

তদন্তে নিয়োজিত থাকা এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গাদের কাছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার তারিখ, সহিংসতার সময় তাদের অভিজ্ঞতা, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধদের ভূমিকার কথা জানতে চাওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা রোহিঙ্গাদের কাছে জানতে চান, সেনাদের উপস্থিতি ও কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, তদন্তকারীরা অপরাধীদের নাম ও পরিচয় এবং নিপীড়নের জড়িত নির্দিষ্ট ব্যটালিয়নের পরিচয় পেয়েছেন।

গতবছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। মিয়ানমার শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের বাঙালি মুসলিম আখ্যা দিয়ে নাগরিকত্ব অস্বীকার করে আসছে। তবে এবারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার এক পর্যায়ে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে সেই চুক্তির পর বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও ধোঁয়াশা কাটছে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮ হাজার রোহিঙ্গার নাম প্রস্তাব করা হলেও মাত্র ৬০০ জনকে ফেরত নিতে চেয়েছে মিয়ানমার। তাদের পক্ষ থেকে প্রথম রোহিঙ্গা পরিবার ফেরত নেওয়ার দাবি করা হলেও ওই দাবি সাজানো বলে অভিযোগ উঠেছে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::