সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় আসামী করা হলো আ’লীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ১১, ২০১৯ ৬:১১ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ১১, ২০১৯ ৬:১১ পূর্বাহ্ণ

আলিম পরীক্ষার্থী ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় সোমবার দায়ের করা এজাহারে সংশোধনী এনে কারাবন্দী অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলাহ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য মোকসুদ আলম এবং মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৮ আসামীর নাম উল্লেখ করে এজাহার দাখিল করেছেন।

৫ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর কাছে হার মানে নুসরাত।

সংশোধিত মামলার অন্যান্য আসামীরা হচ্ছেন, মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নূর উদ্দিন, মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম, ছাত্রলীগ নেতা জোবায়ের আহম্মদ, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদের এবং হাতমোজা ও চশমা পরা বোরকা ৪ জন সহ অজ্ঞাত আরো অনেকে।

এজাহার নামীয় আসামী সহ ৮ জনকে পৃথক অভিযান চালিয়ে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হচ্ছে ওই মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র সাইদুল হক, অধ্যক্ষের মুক্তির দাবীতে মানববন্ধনে নেতৃত্বদানকারী যুবলীগ কর্মী সাউথইস্ট ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার কর্মকর্তা কেফায়েত উল্যাহ জনি, প্রাক্তন ছাত্র ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী জসিম উদ্দিন, আলা উদ্দিন, নূর হোসেন হোনা মিয়া এবং ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছাত্রী ও অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাহর শ্যালিকার মেয়ে উম্মে সুলতানা।

এর আগে ঘটনার দিন আটক করা হয় মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিন ও আলিম পরীক্ষার্থী আরিফুল ইসলামকে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহত ছাত্রীর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলাটি দায়ের করেছেন। সোমবার দুপুরে দায়ের করা মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার বোনকে বোরকা পরিহিত ৪ জন অজ্ঞাতসহ অন্যান্য আসামীরা গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে।

সংশোধিত এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ভিকটিম নূসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার একজন নিয়মিত ছাত্রী ও ২০১৯ সালের আলিম পরীক্ষার্থী। গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাহ তার দফতরি নূরুল আমিনের মাধ্যমে তাকে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পরীক্ষার আধা ঘন্টা পূর্বে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেবে বলে তার বোনের শরীরে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে অধ্যক্ষকে আসামী করে সোনাগাজী থানায় মামলায় দায়ের করেন। পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠালে এজাহার নামীয় আসামীরা অধ্যক্ষের নির্দেশে মামলা তুলে নিতে তার মা ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিতে থাকে। এক সপ্তাহের মধ্যে যদি মামলা তোলা না হয় তাহলে পরিণাম ভাল হবেনা বলে হুমকি দেয়।

গত ৬ এপ্রিল তার বোন আলীম পরীক্ষা দেয়ার জন্য ৮নং কক্ষে প্রবেশ করলে তার এক সহপাঠী দিয়ে তার বান্ধবী নিষাদকে মারধর করা হচ্ছে বলে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে নিয়ে সেখানে চোখে চশমা, হাতে মোজা এবং বোরকা পরিহিত ৪জন দুর্বৃত্ত তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে ওড়না দিয়ে হাত বেধে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নিহত নুসরাত সোনাগাজী পৌর এলাকার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাও. একেএম মুসা মানিকের কন্যা। তারা বাবাও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::