বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন

মহেশখালী দ্বীপের সাগরের তলদেশে এলএনজি পাইপলাইনে ফুটো

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: জুন ১২, ২০১৮ ১:২১ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: জুন ১২, ২০১৮ ১:২১ পূর্বাহ্ণ

ব্যবহারের আগেই ফুটো হয়ে গেছে এলএনজি পাইপলাইন। কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ী উপকূলের অদূরে সাগরের তলদেশে এই ফুটো ধরা পড়েছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে না আমদানি করা এলএনজি। এতে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে।

গত ২৪ এপ্রিল কাতার থেকে ‘এক্সিলেন্স’ নামে একটি এলএনজিবাহী বড় জাহাজ (মাদার ভ্যাসেল) এক লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ী উপকূলে ভেড়ে। তবে এখনো সেই জাহাজ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। গত ১৫ মে প্রথম দফায় এবং এর পর দ্বিতীয় দফা ১২ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ী উপকূল থেকে গভীর সাগরের দিকে প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। সাগরের তলদেশে স্থাপন করা এই পাইপলাইনেই সৃষ্টি হয়েছে ফুটো। সেই ফুটো দিয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে। ফলে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এলএনজি আমদানির পর থেকে বেশ কয়েকবার চেষ্টা চালানো হয়েছে ভাসমান টার্মিনাল ‘এক্সিলেন্স’ জাহাজ থেকে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য। কিন্তু বারবার আমরা ব্যর্থ হয়েছি। প্রথমদিকে কারিগরি ত্রুটি বলা হলেও এখন দেখা যাচ্ছে সাগরের তলদেশে স্থাপন করা পাইপলাইনের প্লাগে (সংযোগস্থলে) ফুটো হয়েছে। পাইপলাইনের মুরিং সাইডেও সমস্যা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি সেল) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, পাইপলাইনের প্লাগে যে ফুটো হয়েছিল তা সংস্কার করা হয়েছে। এখন পাইপলাইনে ১১০০ পিএসআই পর্যন্ত চাপ রেকর্ড করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজের মুরিং সাইডে সমস্যা হচ্ছে। মুরিং সাইডের পাইপলাইনটি সাগরের তলদেশে লোহার চেইন দিয়ে লক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তাল সাগরে কাজ দ্রুতগতিতে করা যাচ্ছে না। তাই এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। এই কারিগরি সমস্যা দূর করে অল্প দিনের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা যাবে।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইনের কমিশনিং (গ্যাস ঢুকিয়ে সফল পরীক্ষা) ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু আনোয়ারা থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ না হওয়ায় আমদানি করা এলএনজি জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এই অংশে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। রিভার (কর্ণফুলী নদী) ক্রসিংয়ের কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে।

কর্মকর্তারা আরো জানান, আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। এতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের গ্যাস সমস্যার সমাধান হবে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::