সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

মহেশখালী থেকে গ্যাস যাবে চট্রগাম : শুরু ২৫ মে

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: এপ্রিল ২৫, ২০১৮ ৮:০৩ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: এপ্রিল ২৫, ২০১৮ ৮:০৩ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার পোস্ট ডটকম ::
মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল থেকে আগামী ২৫ মে থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি ) সরবরাহ করা শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তা সরবরাহ করা হবে চট্টগ্রামে। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (জিটিসিএল) তা সরবরাহ করবে।
চট্টগ্রামে প্রতিদিন ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে হয় জাতীয় গ্রিড থেকে। তাই এখানে এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে তার প্রভাব পড়বে সারাদেশে। কারণ বর্তমানে যে গ্যাস চট্টগ্রামে সরবরাহ করতে হয় তা অন্যত্র সরবরাহ করা সম্ভব হবে তখন। দেশে গ্যাসের সংকট তাতে কমবে কিছুটা। মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত গ্যাসের পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে তীরের কাছাকাছি এলাকায় কিছু অবকাঠামোগত কাজ বাকি আছে। সেটা সমাপ্ত হওয়ার পর চলতি মাসের শেষ সপ্তায় গ্রাহক পর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ আরম্ভ হবে। ৩৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে পেট্রোবাংলার সরবরাহ ২ হাজার ৫৭৭ মিলিয়ন ঘনফুট। উৎপাদন সীমিত হওয়ায় চাহিদা থাকার পরও সার, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত এবং বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক খাতে সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের পর বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে এলএনজি আনবে আরও তিনটি কোম্পানি। সামিট, রিলায়েন্স, হংকং, সাংহাই ও মানজালা। প্রতিটি কোম্পানি ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাস আনবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বেসরকারি খাতে সামিটের আমদানি করা এলএনজি আসার কথা অক্টোবরে। দেশের মধ্যাঞ্চলে তা সরবরাহ করা হবে।
জ্বালানি বিভাগ আগামী রবিবার এলএনজি নিয়ে আসার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবে। এদিন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক–ই–ইলাহী চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শনে আসছেন।
মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ গত মঙ্গলবার মহেশখালীর কাছে নোঙর ফেলেছে। জাহাজটিই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। এতে এলএনজি রি–গ্যাসিফিকেশন ইউনিট রয়েছে। আসার সময় কাতার থেকে নিয়ে এসেছে এলএনজি। রি–গ্যাসিফিকেশন করে বায়বীয় আকারে রূপান্তরের পর পাইপলাইনে সরবরাহ করা হবে এখান থেকে। রিগ্যাসিফিকেশনের জন্য ৪৯ সেন্ট করে দিতে হবে এক্সিলারেট এনার্জিকে। এছাড়া সব ধরনের কর এক্সিলারেটের পক্ষে পরিশোধ করবে পেট্রোবাংলা। তখন এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৫৬ সেন্ট। এলএনজি আমদানি করবে পেট্রোবাংলা। শুধু রিগ্যাসিফিকেশন করে দেবে এক্সিলারেট। পরবর্তীতে আমদানিকৃত এলএনজি এনে এই টার্মিনালে খালাস করা হবে। শুরুতে প্রতিদিন ৩০০ মিলিয়ন (৩০ কোটি) ঘনফুট এলএনজি আসবে। পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ঘনফুট করা হবে। ১৫ বছর পর মহেশখালীর টার্মিনাল ও এফএসআরইউ কোনো বিনিময়মূল্য ছাড়া পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে আসা বিশেষায়িত জাহাজ ‘এক্সিলেন্স’ পরিদর্শন করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। গতকাল বুধবার সকাল আটটার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ‘দ্য সুইজার চিটাগাং’ নামের একটি ২৭ নটিক্যাল মাইল গতির ক্রু বোটে তারা মহেশখালীর মাতারবাড়ি পৌঁছেন। দিনভর রুটিন কাজশেষে সন্ধ্যায় তারা ফিরে আসেন। কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদেশ থেকে কোনো জাহাজ বাংলাদেশে এলে ইনভেন্ট্রিসহ অত্যাবশ্যকীয় কিছু কাজ কাস্টম হাউসকে করতে হয়। কাস্টমসের রামেজ ডিভিশন, এফ ডিভিশন এবং এআইআর শাখা মাতারবাড়িতে ‘এক্সিলেন্স’ নামের যে বিশেষায়িত জাহাজটি এসেছে সেটির ইনভেন্ট্রিসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::