শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন

মহেশখালীতে বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: মে ৭, ২০১৮ ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: মে ৭, ২০১৮ ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিভিন্ন পদে চাকুরী দেয়ার আশ্বাস দিয়ে কুমিল্লা, ময়মনসিংহও বরিশালের ৬০জন থেকে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের আজিজ ও মাতারবাড়ীর ফরহাদ এর বিরুদ্ধে।

ওই দুইজন ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে ঘুরে বেড়াচ্ছে মাতারবাড়ী। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কুমিল্লার আবু হানিফ ভূইয়া নামের এক যুবক সহকারী পুলিশ সুপার মহেশখালী সার্কেল রতন কান্তি দাশ ও মহেশখালী থানার ওসি বরাবর পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি ঘটনাটির ব্যাপারে সোস্যাল মিড়িয়া ফেসবুকে সমলোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে পুরো মাতারবাড়ী মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

কুমিল্লা জেলার দেবীদার উপজেলার রাজা মেহার ইউনিয়নের উখারী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইলের পুত্র আবু হানিফ গত ২৪ এপ্রিল সহকারী পুলিশ সুপার মহেশখালী সার্কেল ও মহেশখালী ওসি বরাবর দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানাযায়, উপজেলার মাতারবাড়ী বাংলা বাজার এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব খানের পুত্র মোহাম্মদ ফরহাদ ও ময়মনসিংহ জেলার মোহাম্মদ আজিজ নেভী নির্মাণ কোম্পানীতে চাকুরী করছেন। এ সুবাদে নেভী নির্মাণ কোম্পানীর কয়েকজন কর্মকর্তাকে ফরহাদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এসব কর্মকর্তার সাইন বোর্ড দেখিয়ে কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার আশ্বাস দেয় কুমিল্লার আবু হানিফকে। এতে সরল বিশ্বাসে তার এলাকার ৬০ জন লোক থেকে ১৮ লাখ টাকা নিয়ে অভিযুক্ত ফরহাদ ও আজিজের হাতে তুলে দেন। বহুদিন এসব লোকদের কাজ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বিলম্ব করতে থাকে। এ ঘটনা এলাকায় জানা জানি হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাদেরকে একটি পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে আটকিয়ে রাখে বলে অভিযোগ ভোক্তভোগির। সেখান থেকে কয়েকজন করে দৈনিক শ্রমিকের কাজে ব্যবহার করেন। চাকুরী দেয়ার নাম দিয়ে দৈনিক শ্রমিক কাজে ব্যবহার করায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা হানিফকে সাথে নিয়ে চাকুরী দেয়ার দাবিতে অভিযুক্ত ফরহাদ ও আজিজকে গত ২৩ এপ্রিল বাংলা বাজার এলাকায় ঘেরাও করে। এতে কোন কিছু বুঝে উঠার পূর্বে ফরহাদের নেতৃত্বে একদল যুবক সন্ত্রাসী কায়দায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিলে তারা নিরুপায় হয়ে মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়।

মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এস আই আমিনের পরামর্শে শ্রমিকদের পক্ষে আবু হানিফ বাদী হয়ে গত ২৪ এপ্রিল ২ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক ২টি অভিযোগ দায়ের করেন। তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের আইসিকে নির্দেশ দিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার মহেশখালী সার্কেল।

এ ঘটনার সত্যতা জানার জন্য ইতিম্যধ্যে স্থানীয় পত্রিকার একজন (ভারপ্রাপ্ত) সম্পাদকসহ ১০/১২জন সাংবাদিক অভিযুক্ত ফরহাদের বাড়িতে গেলে অভিযুক্ত আজিজ ও ফরহাদের বাহিনীর প্রধান হাশেম ও রমজান আলী অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের তাড়িয়ে দেন বলে সংবাদকর্মী ছালাম কাকলী ও কাইছার হামিদ জানিয়েছেন। এছাড়া অপর সন্ত্রাসী হাশেম মোবাইল বিষয়টি পত্রিকায় না লেখার অনুরোধ করেন। যেহেতু আমি অভিযুক্ত ফরহাদের মামা হিসেবে আবদার করছি। নেভী নির্মাণ কোম্পানীর প্রধান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পেন্টাশনের কর্মকর্তা গাজীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা সত্যতা শিকার করে বলেন, এই ২ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অহরহ অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে নেভী কোম্পানীর শ্রমিকদের থাকার যে সব ভাড়া ঘর রয়েছে ঐ সব ঘরে চাকুরী দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২শতাধিক লোক এনে রেখেছে বলেও লোকের মুখে শোনা।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানান, মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের আইসি আমিন ও জাহেদ মেম্বার স্থানীয় একটি দোকান থেকে এসব সিন্ডিকেটের ৬টি কাগজপত্র জব্দ করেছে। ঐ সওদাগর জানান, মাতারবাড়ী কৃষি ব্যাংকের উত্তর পাশে ভাড়া ঘরে বসবাস রত নেভী কোম্পানীর এক যুবক তাকে এ কাগজ রাখার জন্য দিয়েছে। পুরো মাতারবাড়ীতে এখন চলছে ফরহাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক ফরহাদের পিছনে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জোগান দেওয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার কাছে অসহায়। তবে অভিযুক্ত ফরহাদ বলছেন ভিন্ন কথা তিনি বলেন, এটি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। একটি চক্র আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার নামে ৬০ জন লোক থেকে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাত করেছি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আমিনুল হক ফরহাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ তদন্ত হরা হয়েছে বলে জানান।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার (মহেশখালী সার্কেল) রতন কান্তি দাশ বলেন, ফরহাদ নামে মাতারবাড়ী এক যুবকের বিরুদ্ধে শ্রমিক নিয়োগের ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে শুনেছি। তবে ভুক্তভোগিরা লিখিত অভিযোগ করেছে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন লিখিত অভিযোগ করেনি।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::