তারিখ: মঙ্গলবার, ১৯শে মার্চ, ২০১৯ ইং, ৫ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

ভালো কে না বাসতে চায়? পৃথিবীতে সুস্থ মস্তিষ্কের এরকম একজনকেও হয়তো পাওয়া যাবে না যে ভালোবাসতে চায় না। তবে দেশে দেশে যুগে যুগে রয়েছে সেই ভালোবাসার রকমফের। কেউ কেউ আছে তার দিকে তাকিয়ে কেউ মায়াময় হাসি দিলেই মনে করে তার প্রেমে পড়ে গেছে বিপরীত লিঙ্গের ওই নারী বা পুরুষটি। আবার কেউ কেউ আছে চোখে চোখে তাকিয়েই কাটিয়ে দিয়েছে বছরের পর বছর। বলা হয়নি ‘ভালোবাসি’ শব্দটি আর কখনও। অতটুকুতেই নীরব মৃত্যু হয়েছে সেই অব্যক্ত ভালোবাসার। আবার অনেকে পড়ে প্লেটোনিক প্রেমে। প্লেটোর মতবাদ ‘প্লেটোনিজম’ থেকেই প্রেমের একটি পর্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে প্লেটোনিক লাভ বা প্লেটোনিক প্রেম। প্লেটোনিক প্রেমে প্রেমিক-প্রেমিকা ভালোবাসার গভীরে অবগাহন করে কিন্তু এতে শরীরের কোনো সম্পর্ক থাকে না।
প্রেম-ভালোবাসাকে যে যেই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখুক না কেন সত্যিকারের প্রেমিক
প্রেমিকা কখনও লোভী হয় না, হয় না প্রতারক কিংবা ভণ্ড। শরীরনির্ভর হয় না তার প্রেম। তার সেই প্রেমে থাকে শুধু আপ্লুত হওয়ার মতো আবেগ আর অনুভূতি। আর তাই তার কাছে ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নেই। মনের মানুষটির জন্য আছে শুধু অফুরন্ত ভালোবাসা দিন, মাস, বছর এবং অনন্তকাল। তারপরও বছরের একটি দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি জনপ্রিয় হয়ে গেছে ভালোবাসা দিবস হিসেবে। আজ শুধু ভালোবাসার হাওয়ায় ভাসার দিন, শুধু বলার দিন ‘ভালোবাসি’, ‘ভালোবাসি’।
আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবস পালনের শুরু ১৯৯৩ সালের দিকে। পাশ্চাত্য ধারায় অভ্যস্ত সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব শফিক রেহমানই দেশে এ দিবসটির সূচনা করেন এবং জনপ্রিয় করে তোলেন। সেই সময় নানাজনে নানা কথা বললেও শেষ পর্যন্ত শফিক রেহমানের চিন্তাধারাই বেশি আকর্ষণ করে নতুন প্রজন্মকে আর দেশে শুরু হয়ে যায় ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন। ধীরে ধীরে সেই জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে আর স্থান করে নেয় প্রেমিক-প্রেমিকাদের হৃদয়ে। এদিন তারা বিনিময় করে ফুল, চকলেট, কার্ডসহ প্রিয়জনের পছন্দের নানা কিছু।
তবে দিবসটির উৎপত্তির ইতিহাস কিন্তু অন্যরকম। ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে নানা জনে নানা কথা বললেও সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ইতিহাসটি হচ্ছে ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক ও সদালাপি এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। আর রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ছিলেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী। সম্রাটের পক্ষ থেকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে দেব-দেবীর পূজা করতে বলা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। রোম সম্রাটের খ্রিস্টধর্ম ত্যাগের আদেশ বারবার প্রত্যাখ্যান করলে ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় আদেশ লঙ্ঘনের দায়ে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। এজন্য ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালিত হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। আরও একটি প্রচলিত ঘটনা হলো সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। এক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দু’জন প্রাণ খুলে কথা বলত। একসময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যান এবং তার আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটি ফিরে পায় তার দৃষ্টিশক্তি। ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের ভালোবাসার কথা সম্রাটের কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে প্রচলিত আছে আরো কিছু ইতিহাস।
প্রকৃত ইতিহাস যাই হোক না কেন দিবসটি প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা কপোত-কপোতীদের হৃদয়ে গেঁথে গেছে এটাই সত্য। তাই তারা বছরের এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকে আকুল হয়ে। আর তাই ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় থাকে নানা আয়োজন।
রেডিসন ব্লু : ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু-এর টপ ফ্লোরে মেজিটো রেস্তোরাঁয় থাকবে ক্যান্ডল লিট ডিনার। এ রেস্তোরাঁয় কাপলরা ডিনার করতে পারবেন ৫,৫০০++ টাকায়। রেডিসনে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে রুম প্যাকেজেও ১৪,৯৯৯ টাকার অফার থাকবে ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি। এ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকবে দু’জনের জন্য ব্রেকফাস্ট এবং ব্যুফে ডিনার।
পেনিনসুলা : এদিন পেনিনসুলা হোটেলে থাকবে লেগুনা রেস্তোরাঁয় লাইভ মিউজিক, স্পেশাল গালা ব্যুফে ডিনার। বিশেষ মূল্যছাড়ের পর দু’জনের জন্য এ ডিনার হবে ৪ হাজার টাকায়। পেনিনসুলার রুফটপের ওজোন রেস্তোরাঁয় লাইভ মিউজিক পারফর্ম করবেন জন কবির ও জেফার রহমান। সাথে থাকবে ‘লাভ এন্ড মিউজিক’ শিরোনামে থিম পার্টি।
হোটেল আগ্রাবাদ : ভালোবাসা দিবসে হোটেল আগ্রাবাদের সুইমিং পুল এরিয়াতে প্রিয়জনকে নিয়ে উপভোগ করা যাবে ডিনার যেখানে থাকবে চার ধরনের সেট মেন্যু। সবকিছু মিলিয়ে প্রতিজনের ডিনার শুরু করা যাবে ৯শ’ টাকায়। প্রতি কাপলকে বিনামূল্যে দেয়া হবে এক ঘণ্টা সাঁতার কাটার সুযোগ।
ওয়েল পার্ক : ওয়েল পার্কে মোমের আলোয় দু’জনের সময় কাটানোর পাশাপাশি থাকবে সুরের মুর্চ্ছনা। সেখানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ চৈতি মুৎসুদ্দি, ক্লোজআপ ওয়ান তারকা রাশেদ। আর থাকবে র‌্যাফল ড্র।
বাটারফ্লাই পার্ক : পতেঙ্গার বাটারফ্লাই পার্কে সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত থাকবে কনসার্ট, কাপল ফটো কনটেস্ট, কাপল গেমস, কাপল সালসা ডান্স, ভ্যালেন্টাইন্স ডে লাঞ্চ, লাইভ বারবিকিউ ও পুরস্কার বিতরণ।
বইমেলায় বিশেষ উৎসব : ভালোবাসা দিবসে নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম মাঠে আয়োজিত বইমেলায় বিকাল সাড়ে ৩টায় আয়োজন করা হবে ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’। প্রিয়জনকে চিঠি লিখে তা আকাশের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে পারবেন বইমেলায় আসা দর্শকরা। এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গীতিকার কবির বকুল, সংগীত শিল্পী দিনাত জাহান মন্নীসহ চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে থাকবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::