তারিখ: শনিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

Share:

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ::

নতুন করে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বাংলাদেশে বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাঁচ লক্ষেরও বেশি শিশু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

“আমি এই অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে চাই না। আমি আমার সন্তানের নিরাপত্তা চাই। দয়া করে আমাদের এমন কোথাও স্থানান্তর করেন যেখানে বৃষ্টির পানি আসবে না, ভূমিধ্বসের ঝুঁকি থাকবে না, এমনকি কাদা বা অসুখের সম্ভাবনা থাকবে না”, বলেন দুই সন্তানের মা যয়নব বিবি (আসল নাম নয়)।

কক্সবাজারে বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তারা, কারন এ সপ্তাহে কক্সবাজারে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সর্বাপেক্ষা বেশি।

সেভ দ্য চিলড্রেন এই বৈরী আবহাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। আবহাওয়া আরো খারাপ ফলে বড় কোনো মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে যার ফলে আরও হতাহত, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং পানিবাহিত রোগের সম্ভাব্য বিস্তার ঘটতে পারে।

সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন: “আমরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীতে বসবাসরত প্রায় পাঁচ লক্ষ শিশুর নিরাপত্তা এবং সুস্বাস্থ্যের ব্যাপারে ভীষণ উদ্বিগ্ন। দীর্ঘায়িত বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যা মানুষের জীবনকে আরো বেশি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

ইতিমধ্যে বৃষ্টিতে নরম হয়ে আসা পাহাড় বাড়ির উপর ধ্বসে পড়ায় অন্তত তিন বাংলাদেশি শিশু নিহত হয়েছে। ঝুঁকিগ্রস্থ এই জনগোষ্ঠিকে চরম আবহাওয়া থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে এই অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে”।

কক্সবাজারের শিবিরে বাঁশের তৈরি দুর্বল আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত ১০ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থীদেরও সহায়তা প্রয়োজন কারণ চলমান ঢালাও বৃষ্টিতে রাস্তাগুলো কাদাময় হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঘর আংশিক কিংবা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় তাদের বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা রেসপন্সে সেভ দ্য চিলড্রেনের টিম লিডার ডেভিড স্কিনার বলেন, “শরণার্থী শিবিরে আমাদের কর্মীরা অক্লান্তভাবে কাজ করছে এবং পুরো অবস্থার উপর নজর রাখছে। ক্ষতিগ্রস্থ কাঠামোগুলো দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করছে যাতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়গ্রহণকারীদের জন্য আমাদের জরুরী সেবাগুলো অব্যাহত রাখতে পারি।

ডজনখানেক শিক্ষাকেন্দ্র ও শিশুবান্ধব কেন্দ্রসহ আমাদের প্রায় ২০০টি সেবাকেন্দ্র আংশিক অথবা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

এইসব কেন্দ্রগুলো দ্রুততম সময়ে মেরামত ও চালু করা প্রয়োজন কারণ রোহিঙ্গা শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে খেলা, শেখা ও সহযোগী পরিবেশে বেড়ে ওঠার জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ”।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::

error: কপি করা নিষেধ !!