শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ১১:২৯ অপরাহ্ন

ভাঙছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কোনো উদ্যোগ নেই রোধের

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০১৮ ১১:২৬ অপরাহ্ণ | সম্পাদনা: জুলাই ১৮, ২০১৮ ১১:২৬ অপরাহ্ণ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ প্রবল হওয়ায় উপড়ে পড়ছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ঝাউগাছ। মৌসুমী বায়ুর কারণে সাগরে পানির উচ্চতাও বেড়েছে কয়েক ফুট। আর এই সাগরের করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিস্তীর্ণ অংশ।
সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে ডায়াবেটিকস পয়েন্ট পর্যন্ত পর্যটক বিচরণের এই বিস্তীর্ণ সৈকত ভাঙনের মুখে রয়েছে। ভাঙতে ভাঙতে এরই মধ্যে সৈকতের সব সৌন্দর্য ধংসের পথে। গত একমাসে পাঁচ শতাধিক ঝাউগাছ সাগরে বিলীন হয়ে যায়। এরমধ্যে গত তিনদিনে তিন শত ঝাউগাছ উপড়ে পড়ে। তিন বছরে বিলীন হয়েছে প্রায় ছয় হাজার ঝাউগাছ।
পর্যটক বিচরণেরও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সমুদ্র সৈকতের এই অংশটি। শুধু এই অংশ নয়, কক্সবাজারের ১২০ কিলোমিটার সৈকতের প্রাণভূমি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের শেষ অংশ নাজিরারটেক পয়েন্ট পর্যন্ত তীব্রভাবে ভেঙে চলেছে। এই কারণে নষ্ট হচ্ছে এই সৈকতের সৌন্দর্য্য। অন্যদিকে সৈকতের অস্তিত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে আশঙ্কা।
সৈকত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ১২০ কিলোমিটার সৈকতের প্রাণকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিস্তীর্ণ অংশ যেভাবে ভেঙে পড়ছে তাতে এই সৈকতের অস্তিত্ব বিলীন খুব দূরে নয়। কিন্তু সৈকতের ভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। এতে করে হতাশ হয়ে পড়েছেন কক্সবাজার সৈকত সংশ্লিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
সৈকতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মূল পয়েন্ট লাবণী বিচ হলেও বিপুল পর্যটক বিচরণ করে কলাতলী পয়েন্ট থেকে ডায়বেটিস পয়েন্ট পর্যন্ত। কিন্তু বিগত তিন বছর ধরে সাগরের করাল গ্রাসে তীব্রভাবে ভেঙে পড়ছে শৈবাল পয়েন্ট থেকে ডায়াবেটিস পয়েন্ট পর্যন্ত। তিন বছরে প্রায় এক কিলোমিটারের কাছাকাছি সৈকত সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।
মাদ্রাসা পয়েন্টের ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াছ জানান, ২০১৪ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতের পর থেকে সৈকত ভাঙনের মুখে পড়ে। রোয়ানুর আঘাতে শৈবাল পয়েন্ট থেকে ডায়বেটিস পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশ বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু ভাঙন অব্যাহত থাকায় ক্রমান্বয়ে ভেঙে পড়ছে। এরই মধ্যে সৈকত সড়কের কয়েকটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। সাগরের বিলীন হওয়ায় উপড়ে গেছে বিপুলসংখ্যক ঝাউগাছ। এতে করে চলাচলে বিঘœ ঘটা ও সৈকত শ্রীহীন হয়ে পড়ায় সৈকতের এই অংশজুড়ে এখন পর্যটকের আনাগোনা একদম কমে গেছে। তিনি বলেন, মাদ্রাসা পয়েন্টসহ আরো কয়েকটি স্থানে বিলীন হয়ে গেছে সৈকত সড়ক। সড়ক বিলীন হওয়ায় সড়ক লাগোয়া বেশ কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি সাগরে পড়ে গেছে। এসব কারণে জোয়ারের সময় হাঁটাও যায় না।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোয়ানু থেকে চলতি বছরের এই পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ছয়হাজারের বেশি ঝাউগাছ উপড়ে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। এরমধ্যে গত একমাসে বিলীন হয়েছে প্রায় পাঁচ শত ঝাউগাছ।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুন উর রশিদ জানান, তীব্রভাবে ভাঙন হওয়ায় এইসব পয়েন্টে বিচরণ করা প্রায় সম্ভব না। ভাটার সময় কিছুটা বিচরণ করা গেলেও জোয়ারের সময় পারা যায় না বললেই চলে। তাই ডায়বেটিক পয়েন্ট ও মাদ্রাসা পয়েন্টে দর্শনার্থী একেবারে কমে গেছে। এখনো প্রতিদিন জোয়ারের কারণে ঝাউগাছ পড়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশরাফ বলেন, ‘সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ায় সৈকতে আঘাত লাগছে। কিন্তু সৈকত সুরক্ষার জন্য কোনো প্রতিরোধক নেই। বালুর ঢিবি ও লতাপাতাসহ সুরক্ষায় যা ছিল তাও নষ্ট করা হচ্ছে। এসব কারণে সৈকত ভেঙে চলছে। সৈকত ভাঙন রোধে কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক– উভয়ভাবে প্রতিরোধক ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।’

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::