তারিখ: মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০১৯ ইং, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share:

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া ::

বাংলা নর্ববর্ষের প্রথমদিন বৈশাখী উৎসবে মনকে রাঙিয়ে নিতে পরিবার সদস্যদের নিয়ে একটু ঘুরে আসতে পারেন কক্সবাজারের জেলার নতুন পর্যটন স্পট মগনামা জেটিঘাটে। সাগরের তীরঘেষে বেড়িবাঁধজুড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অথীনে সারি সারি বসানো ব্লক এখন নতুন রঙে রঙ্গিন। এখানের হিমেল পরশে প্রকৃতি প্রেমি যে কোন মানুষের মন জুড়াবে মুহুর্তেই।

চকরিয়া উপজেলা সদর থেকে ছোট ছোট যানবাহনে অনায়সে যেতে পারবেন নয়নাভিয়ান এই পর্যটন জোনে। পেকুয়া সদর থেকে একটু পশ্চিমে সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়া যাওয়ার পথে নতুন এই পর্যটন শিল্পের অবস্থান।

সরকারিভাবে পর্যটন জোনটির আধুনিকায়নে এখনো কোন ধরণের উদ্যোগ নেয়া না হলেও স্থানীয় বেশ ক’জন উদ্যোমী তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেদের টাকা খরচ করে হাজারো ব্লকের গায়ের রঙের প্রলেপ লাগিয়েছেন। তরুণদের সফল এই উদ্যোগ প্রকৃতিপ্রেমি মানুষকে বিমোহিত করেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, সাগরের ভাঙন থেকে বেড়িবাঁধ রক্ষায় সুসজ্জিতভাবে বসানো হয়েছে সিমেন্ট, ইট ও বালু দিয়ে তৈরি হাজারো ব্লক। এসব ব্লকে লাগানো হয়েছে নানা প্রকারের রঙ। ব্লকের উপরের অংশে বসানো হয়েছে ছয়টি ছাতা। লাগানো হবে গাছের চারাও। এখানে বিকেলে বসে সাগরের সৌন্দর্য্য উপভোগের পাশাপাশি সুর্যাস্ত দেখছে মানুষ।

পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাটের কাছে বেড়িবাঁধের হাজারো ব্লক রঙ করেছে তরুণেরা। প্রথমপর্যায়ে এ উদ্যোগটি নিয়েছিলেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ। পরে তাঁর সঙ্গে স্বেচ্ছাশ্রমে যুক্ত হন অর্ধশতাধিক তরুণ। এ উদ্যোগে সরকারি কোনো অর্থ খরচ করা হয় নি। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে ও ব্যক্তি উদ্যোগে এ স্থানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে প্রতিদিন পর্যন্ত বিকালে রঙিন ব্লক ও সাগর লাগোয়া আকাশের সুর্যাস্ত দেখতে শতশত নারী-পুরুষ আসছেন। তাঁরা ব্লকের ওপরে বসে সুর্যাস্ত উপভোগ করছেন। রঙ-বেরঙের ব্লকগুলোতে বসে-দাঁড়িয়ে সেলফি ও ছবি তুলছেন অনেকে।

স্থানীয় লোকজন বলেন, তরুণেরা শিরিষ কাগজ ঘষে ব্লকের ওপর থেকে ময়লা দূর করেছেন। তারপর এক এক করে হাজারো ব্লকে সাতটি রঙ লাগানো হয়েছে। এ তরুণদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় এ কাজে অংশ নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও স্থানীয় যুবকেরা। এমনকি লবণমাঠের শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গ দিয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবীদের অনুপ্রেরণা দিতে ও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে অস্থায়ী মঞ্চ বানানো হয়েছে। মে নিয়মিত গান পরিবেশন করছেন ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ের ছাত্র আবুল হোছাইন, সমাজকর্মী এফ এম সুমন ও শিক্ষক জহিরুল ইসলাম। এভাবে আনন্দ ও উৎসবের সঙ্গে রঙ লাগানো হয়েছে।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী আবু তালেব, ইসমাইল খান, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, পেকুয়ার মানুষের বিনোদনের জন্য কোনো দর্শনীয় স্থান কিংবা পার্ক নেই। শুধু সূর্যাস্ত ও নির্মল হাওয়া নিতে দর্শনার্থীরা মগনামা ঘাটে আসেন। বাড়তি আনন্দ দিতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের উদ্যোগে বেড়িবাঁধের ওপর লাগানো ব্লকে রঙ লাগিয়েছে তরুণেরা।

পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ চৌধুরী রাজু বলেন, উপকুলীয় অঞ্চলের মানুষের দাবি ছিল একটি বিনোদনের জায়গা তৈরির। মগনামা ঘাট বিনোদন প্রিয় মানুষকে আকৃষ্ট করে। তাঁদের মধ্যে আকর্ষণ আরও বাড়াতে বেড়িবাঁধের ওপর লাগানো ব্লকে রঙ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মগনামা উপকূলটি কোনো অংশে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সৈকতের চেয়ে কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ মগনামা ঘাটকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে। আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে এখানে একটি বিনোদনের জায়গা তৈরি করছি।

উদ্যোক্তা তরুণরা বলেন,মগনামা জেটিঘাট লাগোয়া বেড়িবাঁধজুগে বসানো সারি সারি ব্লকে সাত ধরণের রঙ লাগানো হয়েছে। এখন কিছু গাছের চারা, পাকা বে , রঙিন প্ল্যাগ, কিছু কিটকট (ছাতা) ও দুটি সড়ক বাতি লাগানো হবে।#

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::