তারিখ: মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০১৯ ইং, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share:

বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে কালাদহ ইউনিয়নের শশুতি গ্রামের প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছে এক প্রেমিকা। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিক কাউসার বিয়ে বাড়ি থেকে প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

একরাত আত্মীয়ের বাড়ি থাকার পর মেয়েটিকে তাঁর বোনের বাড়িতে রেখে প্রেমিক কাউসার পালিয়ে যায়।
আজ রবিবার দুপুরে মেয়েটি প্রেমিক কাউসারের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করে। প্রেমিকার উপস্থিতি দেখে প্রেমিক বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। বিয়ে না করা পর্যন্ত কোন কিছুই খাবে না এবং আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে মেয়েটি।

গতকাল শনিবার বিকালে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের ডোবাপাড়া গ্রামে মাদরাসাছাত্রী (১৬) বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে তাঁর বাড়িতে। বরের আত্মীয় স্বজনরা কন্যাকে সাজানোর জন্য স্বর্ণালংকার ও কসমেটিকসহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে আসেন। বর ও তাঁর বন্ধুরা পথিমধ্যে গাড়িতে। মেয়েকে বিয়ের গোসল করানোর প্রস্তুতি চলছে। হঠাৎ করে মেয়েটিকে বাড়িতে পাওয়া যায় না।

কিছুক্ষণ পর বিয়ে বাড়িতে খবর ছড়িয়ে পরে বউ বাড়ি থেকে পালিয়েছে। কনে পক্ষের লোকজন মেয়েটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছ, শুশুতি গ্রামের সেলিম মিয়ার পুত্র মাদারাসাছাত্র কাউসার (১৭) সাথে মেয়েটির প্রায় দুই বছর যাবৎ পরিচয় এবং দেড় বছর যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক। সম্প্রতি মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয় পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের কান্দানিয়া গ্রামে। গতকাল শনিবার মেয়েটির বিয়ের তারিখ ঠিক ছিলো। বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিলো। বিকালে প্রেমিক কাউসার প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। মেয়েটিকে পালিয়ে নিয়ে রাতে তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি থাকে। সকালে এনায়েতপুর ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে মেয়েটির বড় বোনের বাড়িতে রেখে দৌড়ে চলে যায় কাউসার। আজ দুপুর ১২টার দিকে প্রেমিকা কাউসারের বাড়ি এসে উঠোনে অনশনে বসে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামের মাতব্বুররা ঘটনাটি সমাধান করায় জন্য সন্ধায় পর্যন্ত একাধিক বৈঠক করছে।

প্রেমিকা বলেন, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বিয়ের আসর থেকে আমাকে নিয়ে এসে তাঁর এক আত্মীয়র বাড়ি সারারাত রেখে সকালে আমার বোনের বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। যে পর্যন্ত বিয়ে না করবে সে পর্যন্ত কিছুই খাবে না, শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবো।

সেলিম মিয়া বলেন, মেয়েটি যেহেতু আমার বাড়িতে চলে আসছে, আমি বিয়ে করাতে রাজি আছি।

নাম না বলা শর্তে শুশুতি বাজারে এক ব্যবসায়ী বলেন, ছেলেটির পিতা জানেন মেয়েটির অল্প বয়স, যে কারণে বিয়ে হবে না, তাই কথায় কথায় বিয়ে করাতে রাজি হচ্ছে।

এনায়েতপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. রইচ উদ্দিন দুদু বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে এসে সরারাত রেখে সকালে মেয়েটিকে ছেড়ে ছেলেটি পালিয়ে যায়। দুপুর থেকে ছেলের বাড়িতে মেয়েটি অবস্থান নেয়। বিয়ের আলোচনা চলছে, তবে মেয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ে হচ্ছে না।

ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফিরোজ তালুকদার (পিপিএম বার) বলেন, এখনো কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share:

আপনার মতামত প্রদান করুন ::