বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

বিএনপি-জামায়াত টানাপড়েন

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০১৮ ১২:১২ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: জুলাই ৬, ২০১৮ ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

নানামুখী চাপের মধ্যে এবার ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে বিএনপি। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে চলছে ব্যাপক টানাপড়েন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এ জোটের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ফাটল ধরারও আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। ইস্যুটি নিয়ে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতারাও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এক অংশের নেতারা মনে করেন, সিলেট সিটি নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে সঠিকভাবে বোঝাপড়া করতে পারেননি বিএনপি শীর্ষ নেতারা। তাদের আগে থেকে বুঝিয়ে শুনিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যেত। অপর অংশের নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি জামায়াতের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকাবস্থায় জামায়াতের এ আচরণ বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ জোটের শরিকরা। বিএনপি ও জোটের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত জামায়াত সিলেটে মেয়র প্রার্থী প্রত্যাহার করলেও এটি একটি খারাপ নজির হয়ে থাকবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান টেলিফোন করে অনুরোধ করার পরও জামায়াতের প্রার্থী বহাল রাখার ব্যাপারে বিবৃতি দেওয়া উচিত হয়নি। একই সঙ্গে সূত্র এও জানায়, কেবল কারাবন্দি জোটনেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছ থেকে ‘বিশেষ বার্তা’ এলে জামায়াত প্রার্থী প্রত্যাহার করবে।

বুধবার রাতে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে তিন সিটিতে একক মেয়র প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, সিলেটে জোটের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীই। ওই বৈঠকে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিমও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তিনি জানান, জোটের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দলকে জানাবেন, দল সিদ্ধান্ত জানাবে। বৈঠকের পর রাতেই মাওলানা আবদুল হালিম নিজেই স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি দিয়ে জানালেন সিলেট সিটি নির্বাচনে এহসানুল মাহবুব জুবায়েরই জামায়াতের প্রার্থী আছেন এবং থাকবেন।

এ বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গতকাল সমকালকে বলেন, জোটের বৈঠকে শরিক সব দলই জামায়াতকে অনুরোধ করেছে সিলেট সিটিতে তাদের প্রার্থীকে প্রত্যাহার করতে। আমাদের যুক্তি, সিলেটে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই এবার তাকেই জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, তারপরও আমাদের নেতৃবৃন্দ তাদের (জামায়াতের) সঙ্গে আলাপ করছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের প্রার্থীর জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারাও বাস্তবতা বুঝে শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে আশা করেন তারা।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল সমকালকে বলেন, ১১টি সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে আসছে তারা। জামায়াতের মতো একটি বড় দল কি একটি সিটিতে প্রার্থী পেতে পারে না। সিলেটে তারা ২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে এহসান মাহবুব জুবায়েরকে চান তারা। বিগত নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরী বিপুল ভোটের বিজয়ীর ব্যাপারে বিএনপির বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, জোটের একক প্রার্থী হলে এহসান মাহবুব জুবায়েরও বিপুল ভোট পাবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলন, আগামী নির্বাচন এবং সরকার গঠনের ইস্যুতে গঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকারের একটি নির্বাচন নিয়ে জোটের মধ্যে কোনো সংকট তৈরি হবে না।

অবশ্য ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর অনেকে সিলেট ইস্যুতে জামায়াতের এই শক্ত অবস্থানকে জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির জন্য একটি ‘বার্তা’ বলে মনে করছেন। তারা বলেন, জামায়াতের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসি এবং দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিলের পর গুরুত্বহীন দলে পরিণত হয়েছিল। সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা আবার আলোচনায় আসতে চাচ্ছে।

ওই নেতারা মনে করেন, বিএনপির বৃহত্তর ঐক্য গঠনের উদ্যোগ সফল হলে জোটে তাদের গুরুত্ব কমে যাবে। জাতীয় নির্বাচনে প্রত্যাশিত আসন পাবে না। যদিও বর্তমানে তারা ৪৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রার্থীদের মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন। অবশ্য বিএনপির টার্গেট নিবন্ধনহীন জামায়াতকে এবার তারা ১০-১৫টির মতো আসন দেবে। এর বেশি দেওয়ার মতো যোগ্য প্রার্থী জামায়াতের নেই।

আবার জোটের কয়েকজন শীর্ষ নেতা এও বলেন, আসলে এসব জামায়াতের ‘মাস্টার প্ল্যানের’ অংশ। তারা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থেকে এ কৌশল গ্রহণ করেছে। সময় হলেই তাদের অবস্থান পরিস্কার হবে।

জোটের অন্যতম শরিক এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম সমকালকে বলেন, জামায়াতের বিষয়টি নিয়ে জোটের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। সিলেট সিটিতে যে বিজয়ী হবেন, তাকেই জোট থেকে প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে জোটের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ মুহূর্তে বিএনপি প্রার্থীর অবস্থা ভালো- এ বিষয়টি বিবেচনা করে জামায়াত তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করবে বলে তারা আশা করেন।

এ বিষয়ে এনপিপির চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সমকালকে বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াতকে তারা অনুরোধ করেছেন জোটের একক প্রার্থী হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিতে। এ মুহূর্তে জোটের শরিক দুটি দলের দু’জন প্রার্থী থাকলে সারাদেশে ভুল বার্তা যাবে।

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::