শিরোনাম :
নুরুল হক, ইদ্রিস ও বেলায়েতের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ, উচ্চ আদালতে যাচ্ছে ভুক্তভোগীরা ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উখিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহারে হেলপ কক্সবাজারের সচেতনতা ক্যাম্পেইন চকরিয়ায় যাত্রীবেশে বাসে ডাকাতির ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার উখিয়ায় অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ, বিপুল পরিমাণ কাঠ জব্দ কক্সবাজার কারাগারে কয়েদির আত্মহত্যা মছ্লেহ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে টিএমসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শোক পেকুয়ার যুবক আফ্রিকায় ডাকাতের গুলিতে নিহত টেকনাফে ৬টি সোনার বার ও মিয়ানমারের ৯৫০ কিয়াট মুদ্রা উদ্ধার চকরিয়ার ডুলাহাজারায় পাহাড় কেটে মাটি লুট : দুই ডাম্পার জব্দ
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের এডুকেশন সিস্টেম যেনো এক মরণ ফাদ !!

প্রতিবেদকের নাম::

প্রকাশ: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ ১০:২১ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনা: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

ছোটবেলায় আমাকে পড়ালেখার কথা কখনো বলতে হতোনা। আমি একদম পড়ুয়া ছাত্র ছিলাম। তাই বন্ধুমহলে একটা কথা প্রচলিত আছে আমি খুব পড়ুয়া ছাত্র। মাথায় তেমন কিছু (বুদ্ধিসুদ্ধি)নাই। কেবল মুখস্থ করতাম আর পরীক্ষার খাতায় ঝারতাম।তাই আমার পিতামাতাকে ও আমাকে নিয়ে হ্যাপা পোহাতে হয়নি।পড়তাম বলে রেজাল্ট খুব খারাপ ছিলোনা।কিন্তু আজ যে আমি বিলেতফেরত জ্ঞানী তা কিন্তু নয়।কিংবা বড় হয়ে বাবা-মার ইচ্ছে অনুযায়ী ডাক্তার হতে পেরেছি তাও নয়।বরং সামান্য এনজিও কর্মী।তাহলে বলুন আমার রেজাল্ট কি কামে আইছে!

এই কথাগুলো বলার কারন হলো আমার পিতামাতা মধ্যবিত্ত,খুব বেশি লেখাপড়া না জানা এবং ভালো ছাত্র বলতে পরীক্ষার রেজাল্ট ই বোঝেন।তাই এবার বাড়িতে যাবার সাথে সাথে অরিনের বার্ষিক পরীক্ষার রোল ১৫ হয়েছে বলে খুব মন খারাপ হয়েছে আমার আম্মার।অনেক কিছু বলে ও ফেললেন,তোর বেটার পড়ালেখা হবেনা।কিছুই মনে রাখতে পারেনা ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি কিছু না বলে রেজাল্ট সিট নিয়ে দেখলাম সব সাবজেক্ট এই ৯৫ এর উপর নাম্বার আছে একটা সাবজেক্ট এ পেয়েছে ৮৭। আমি বললাম,যা করেছে খুব ভালো করেছে।ভবিষ্যতে আরো ভালো করবে।
তাছাড়া আমি মাকে বলেই দিয়েছিলাম, অরিনকে পড়ার জন্য চাপ দেবার দরকার নাই।ও ওর ইচ্ছেমতো পড়ালেখা করবে,আকতে ইচ্ছে করলে আকবে,গাইতে ইচ্ছে করলে গাইবে যা ভালো লাগে করবে।

এতো কিছু বললাম নিজের ছেলের সম্পর্কে কিন্তু আমি জানি সব বাবা-মা এমন হোননা।প্রথম,দ্বিতীয় কিংবা এক থেকে দশ এর মধ্যে রোল না থাকলে ছোট ছোট বাচ্চাদের উপর কি নির্মম শারীরিক, মানসিক নির্যাতন চালায় বাবা- মা যেনো এই রেজাল্ট দিয়ে তার সন্তান বিলেতফেরত জ্ঞানী হয়ে যাবেন।

জীবনে বড় কিছু হবার জন্য পরীক্ষার রেজাল্ট এর চাইতে জানাশোনা খুব জরুরী।

আজ পিইসি এবং জেএসসি এর রেজাল্ট হয়েছে।অনেক নিউজ ও দেখলাম জেএসসি এর রেজাল্ট খারাপ হয়েছে তাই আত্নহত্যাও করেছে।একজন ছোট শিশু যে কিনা হেসেখেলে বড় হবে তার নিকট পরীক্ষার রেজাল্ট এমন একটা বিশাল ব্যাপার হিসেবে হাইলাইট করা হয়েছে আমাদের এই পুজিবাদী পড়ালেখা সিস্টেমে যে তাকে আত্নহত্যার মত পথ বেছে নিতে বাধ্য করে।আমি জাস্ট ভাবতে পারছিনা!কি মরণ ফাদ আমাদের এই এডুকেশন সিস্টেম!
আর আমাদের পিতামাতারাও সেই পুজিবাদী পড়ালেখা সিস্টেমের ফাদে পড়ে সন্তানদের জীবন বলি দিয়ে দিচ্ছেন কত নির্দ্ধিধায়??

আবার অনেকেই পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ,গোল্ডেন ফাইভ পাইছে লিখে স্ট্যাটাস দিচ্ছে।আরে এই ছোট শিশু গোল্ডেন ফাইভের কি বোঝে!যারা এসব পায়নি তারা কি খারাপ ছাত্র? কখনোই না!আমি অন্তত তা মনে করিনা! এই পিইসি আর জে এস সি এর রেজাল্ট দিয়ে কি হবে? যেখানে এস এস সি, এইচ এস এস সি এর রেজাল্ট ই তেমন কোন কাজে আসেনা চাকরির বাজারে! অনার্স,মাস্টার্স একটু কাজে আসে তাও সবক্ষেত্রে নয়।কারন বিষয়ভিত্তিক জব আমাদের দেশে খুব কম।আমাদের এডুকেশন সিস্টেমটাই এরকম।

কিন্তু আমাদের অভিভাবকরা বুঝতে পারছেনা নাকি চেষ্টা করেনা বোঝার জানিনা! সন্তানদের উপর অযথায় পরীক্ষার ফল নামক একধরনের ভীতি চাপিয়ে দিচ্ছে।তাদেরকে তাদের মত করে বেড়ে উঠতে দিচ্ছেনা।তাদের মধ্যকার সৃজনশীলতাকে বেড়ে উঠতে দিচ্ছেনা।গতবাধা এক সিস্টেম নামক পড়ালেখায় বড় করছে।যাতে করে শিশুটি তার নিজস্বতাকে হারিয়ে ফেলছে।

প্লিজ এইসকল কোমলমতি শিশুদের আর এই চাপ দিবেন না।তাদেরকে তাদের মত করে বেড়ে উঠতে দিন।দেখবেন আপনার শিশুই সেরা।কারো সাথে তুলনায় নয় বরং জ্ঞানের সর্বোচ্চ টুকু অর্জন করতে সাহায্য করুন।অবশ্যই পরীক্ষায় পাশ দেবার জন্য নয়!

লেখক,
জিন্নাত তৃণা
গবেষক ও উন্নয়নকর্মী

কক্সবাজার পোস্ট.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কক্সবাজার পোস্ট সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
এই জাতীয় আরো খবর::